Published : 03 Feb 2026, 05:25 PM
চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ভাসমান অবস্থায় এক মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট এলাকা থেকে ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়।
ওই এলাকার বাসিন্দা আলমগীর ডলফিনটি করে নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগকে জানান। চলতি বছর হালদায় মৃত ডলফিন পাওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা।
হাটহাজারী উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা শওকত আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নদীর মদুনাঘাটের দিক থেকে জোয়ারের সময় ডলফিনটি ভেসে এসেছিল। এটির দৈর্ঘ্য ৪ ফুট ২ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ১ ফুট। ওজন প্রায় ২৭ কেজি। বয়স আনুমানিক ২ বছর হতে পারে।
“৩-৪ দিন আগে ডলফিনটি মারা গেছে। জালে আটকা পড়ে অথবা শক্ত কিছুর সাথে আঘাতে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। শরীরে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পচন ধরেছিল। পরে সেটি মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।”
হালদা নদীর মদুনাঘাট অংশে কিছু ড্রেজার চলাচল করে জানিয়ে মৎস্য কর্মকর্তা শওকত বলেন, গত বছর হালদায় চারটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। এই ডলফিনটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক। স্বাভাবিক মৃত্যুর বয়স হয়নি।
“হালদা নদীর গড়দুয়ারা, রামদাস মুন্সির হাট ও মাছুয়াঘোনা এলাকায় এখনো নিয়মিত ডলফিন দেখা যায়। কিন্তু নিয়মিতভাবে ডলফিনের মৃত্যু আশঙ্কাজনক। ডলফিন রক্ষায় সবার আরো সচতেন হওয়া উচিত।”

হালদা নদীতে মারাত্মক দূষণ, ইঞ্জিত চালিত ড্রেজারের অনুপ্রবেশ, অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে ডলফিনের মৃত্যু বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি হালদা নদীর জীববৈচিত্রের জন্যও হুমকি।
এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর রামদাস মুন্সির হাট এলাকা থেকেই আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার হয়েছিল; আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছিল বলে তখন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত হালদায় ৪৮টি ডলফিনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় কার্প জাতীয় মাছের অন্যতম প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। এই নদী দেশের মিঠাপানির ডলফিনেরও অন্যতম প্রধান বিচরণ ক্ষেত্র।
এক সময় কর্ণফুলী নদীতেও ডলফিনের আনাগোনা ছিল। তবে দূষণের কারণে এখন তা খুবই কমে গেছে।
চট্টগ্রামের তিন নদী ও এক খালে ১৬৯ ডলফিন
দেড় মাসের মাথায় হালদায় ফের ডলফিনের মৃত্যু
হালদায় মা মাছের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি
হালদায় এক সপ্তাহে ভেসে এল দুটি মৃত ডলফিন