Published : 25 Aug 2025, 08:29 PM
হালদা নদীর কাটাখালী খাল থেকে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে; এ নিয়ে চলতি বছর তিনটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেল।
সোমবার বেলা ২টার দিকে কাটাখালী খালের হাটহাজারী অংশে ডলফিনটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে নৌ পুলিশের একটি দল স্পিড বোট নিয়ে গিয়ে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়কারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মৃত ডলফিনটির দৈর্ঘ্য ৪৬ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ৩৭ কেজি। পচে যাওয়ায় ডলফিনটি মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।
“শারীরিক অবস্থা থেকে ধারণা করছি, জালে আটকে যাওয়ায় ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে। জালে আটকানোর কারণে এর ঠোঁট কেটে ফেলা হয়েছে।”
এ নিয়ে গত ছয় বছরে হালদায় ৪৬টি ডলফিনের মরদেহ পাওয়া গেল বলে গবেষক মনজুরুল কিবরিয়া জানান।

এর আগে চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজার উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া খালে একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল।
তার আগে ৫ ফেব্রুয়ারি রাউজান উপজেলার বিনাজুরি ইউনিয়নের সিপাহিঘাট এলাকায় হালদা নদী থেকে আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল।
সোমবারের মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে হালদা নদীর তীরে অস্থায়ী নৌ পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই রমজান আলী ও কনস্টেবল তাপস মল্লিক নেতৃত্বে একটি দল।
এ সময় তাদের সহযোগিতা করেন নদী পরিব্রাজক দলের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক, সদস্য মোহাম্মদ আলী ও মো. ইকবাল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির প্রতিনিধি পিএইচডি গবেষক শাহ মোহাম্মদ কায়সার, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট এএইচএম শিহার নেওয়াজ মৃত ডলফিনটির সুরুতহাল শেষে সেটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
এরআগে ২০২৪ সালে হালদায় মোট চারটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল।
দক্ষিণ এশিয়ায় কার্প জাতীয় মাছের অন্যতম প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। এই নদী দেশের মিঠাপানির ডলফিনেরও অন্যতম প্রধান বিচরণ ক্ষেত্র।
এক সময় কর্ণফুলী নদীতেও ডলফিনের আনাগোনা ছিল। তবে দূষণের কারণে এখন তা খুবই কমে গেছে।
পুরনো খবর
দেড় মাসের মাথায় হালদায় ফের ডলফিনের মৃত্যু
মা মাছ আর ডলফিন মরে ভাসছিল হালদায়
হালদায় এক সপ্তাহে ভেসে এল দুটি মৃত ডলফিন