হালদায় এক সপ্তাহে ভেসে এল দুটি মৃত ডলফিন

চট্টগ্রামের হালদা নদীতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি বড় আকারের মৃত ডলফিনের সন্ধান মিললো।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 July 2022, 03:55 PM
Updated : 20 July 2022, 03:55 PM

বুধবার দুপুরের দিকে রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট এলাকায় একটি মৃত ডলফিন ভাসতে দেখা যায়।

এরআগে ১৪ জুলাই রাউজান পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গহিরা এলাকায় হালদার সংযোগ খাল বুড়িসর্তায় প্রায় সাড়ে ৮ ফুট দৈর্ঘ্যের ১২০ কেজি ওজনের আরেকটি মৃত ডলফিন পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণীবিদ্যা বিভোগের অধ্যাপক ও হালদা রির্সাচ কেন্দ্রের সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরীয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ (বুধবার পাওয়া) ডলফিনটি লম্বায় প্রায় সাড়ে ৭ ফুট। এটির ঠোঁটের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। দাঁতগুলোও ফেলে দেয়া হয়েছে। সম্ভবত ডলফিনটির মুখ জালে আটকা পড়েছিল। তাই ছাড়িয়ে নিতে এভাবে হত্যা করা হয়েছে।”

স্থানীয়ভাবে ডলফিনটি মাটি চাপা দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

১৪ জুলাই পাওয়া ডলফিনটি পঁচে যাওয়ায় তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যায়নি।

ড. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, “২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত হালদায় ৩৭টি এবং কর্ণফুলীতে ২টি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। এভাবে চলতে থাকলে হালদা ডলফিন শূন্য হয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, “আদালতের নির্দেশনার পরও ডলফিন হত্যা থামছে না। এটা খুবই দুঃখজনক ও হতাশার।”

এরআগে ১১ জুন রাউজানের কাগতিয়ায় ১২ কেজি ওজনের একটি, ২৪ মে লাঙ্গলমোড়ায় ৩৫ কেজি ওজনের একটি এবং ১০ এপ্রিল গড়দুয়ারা এলাকায় ৩০ কেজি ওজনের আরেকটি মৃত ডলফিন মিলেছিল।

এ নিয়ে গত সাড়ে তিন মাসে ৫টি মৃত ডলফিনের সন্ধান পাওয়া গেল।

গত বছরের শেষ পাঁচ মাসে হালদা ও কর্ণফুলী নদী এবং সংলগ্ন শাখা খালে সাতটি মৃত ডলফিন মিলেছিল।

২০১৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে হালদায় ও শাখা খালে মারা যায় মোট ১৬টি ডলফিন। এরমধ্যে বেশিরভাগের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নদীতে চলাচলকারী বালু উত্তোলনকারী ড্রেজারের আঘাতে এসব ডলফিন মারা পড়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

আগের মত বালুবাহী ড্রেজার না চললেও হালদায় মা মাছ শিকারের জন্য জাল পাতা হয় নিয়মিত। পাশাপাশি নদীর তীর রক্ষায় বসানো ব্লকে এবং নদীতে চলাচলকারী নৌযানের সাথে ধাক্কা খেয়েও ডলফিন মারা যেতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) গাঙ্গেয় ডলফিনকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে ‘রেড লিস্ট’ বা ‘লাল তালিকা’য় রেখেছে। ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুসারে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

এই প্রজাতির ডলফিন বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের নদীতে দেখা যায়। এরমধ্যে ভারতের গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র, বাংলাদেশের পদ্মা, সুন্দরবনের আশেপাশের নদী এবং চট্টগ্রামের হালদা ও কর্ণফুলী এর বিচরণ ক্ষেত্র।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর মনজুরুল কিবরিয়া জানান, ২০২০ সালে জরিপ চালিয়ে হালদায় ১২৭টির মতো ডলফিনের উপস্থিতি মিলেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক