Published : 25 Aug 2025, 02:31 PM
সংসদীয় আসনের খসড়া সীমানা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আপত্তি আবেদনের শুনানিতে বাগেরহাটের ৪টি আসনই বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংসদীয় আসন নিয়ে শুনানিতে তারা এ দাবি রেখেছেন।
শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে শুনানির সময়ে দাবি-আপত্তিকারী বা আবেদনকারীর কৌঁসুলী নির্ধারিত স্থানে দাঁড়িয়ে নিজেদের যুক্তি তর্ক তুলে ধরেন।
এবার নির্বাচন কমিশন সীমানা নির্ধারণে ভোটার সংখ্যার সমতা আনতে গিয়ে গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়িয়ে ছয়টি এবং বাগেরহাটের আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটির প্রস্তাব করেছে।
আসন সংখ্যা একটি কমিয়ে দেওয়া নিয়ে ইসির এ সিদ্ধান্ত ‘জনস্বার্থের পরিপন্থি’ বলে অভিযোগ করেছেন বাগেরহাট-৩ আসনের প্রতিনিধি আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান দিপু।
শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বাগেরহাটে চারটি আসন। হঠাৎ করে ইসি আমাদের বলেছেন চারটি আসন থাকবে না। একটি আসন বাদ দেওয়া বাগেরহাটবাসী মানে না। এটা অযৌক্তিক আইন পরিপন্থি এবং বাস্তবসম্মত নয়।”
বাগেরহাট জেলায় চারটি আসন আগের মত বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আইনজীবী দিপু আশা করছেন, এ বিষয়ে ইসি ‘যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে’।
একই আসনের প্রতিনিধি ব্যারিস্টার মো. জাকির হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন সেই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। তারা সেটা না দিয়ে উনারা বাগেরহাটের জনগণের যে চারটি আসন ছিল, সেখান থেকে একটি আসন কমিয়েছে। আসন কমিয়ে বাগেরহাটবাসীর যে অধিকার সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।”
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটবিরোধী কাজ করছে ইসি। আমাদেরকে আন্দোলন সংগ্রামের দিকে ঠেলে দেবেন না বা আমাদেরকে আদালতের দিকে ঠেলে দিবেন না। যাতে ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কোনভাবে বিঘ্নিত না হয়।”
অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বলেন, “কোনো ধরনের গণশুনানি না করে ইসির এ ধরনের সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। ইসি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত না দিলে আমরা আইনি পথে হাটব।”
বিএনপির জেলা নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, বাগেরহাটে ৪টি নয়, দরকার পাঁচটি আসন।
বাগেরহাটের আগের অবস্থা ও ইসির প্রস্তাব
|
বাগেরহাট-২ |
সদর উপজেলা ও কচুয়া উপজেলা |
বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও রামপাল উপজেলা |
|
বাগেরহাট-৩ |
রামপাল ও মোংলা উপজেলা |
মোংলা, মোড়েলগঞ্জ এবং শরণখোলা উপজেলা |
|
বাগেরহাট-৪ |
মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা |
এবার আসনটি রাখা হয়নি |
এনসিপির অভিযোগ
এদিকে বাগেরহাট-৩ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোল্লা রহমতুল্লাল অভিযোগ করে বলেন, “সংসদীয় আসন নিয়ে গতকাল আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করতে পারিনি। আজকেও কিন্তু আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারিনি।
“নির্বাচন কমিশন শুধু একটি দলের জন্যই কাজ করে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে আমাদের। ভোটার হিসাব কেন্দ্র করে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা আমাদের যৌক্তিক ববলে মনে হয় না ”
আলাদা ডায়াস
নির্বাচন কমিশনে আবেদন শুনানির সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যরা থাকেন মঞ্চের উপরে।
আবেদনকারীদের আপত্তি আবেদন শুনানির জন্য দর্শক সারির পাশে আলাদা ডায়াস রাখা হয়। শুনানি শুরুর প্রথম দিনে একটি মাত্র ডায়াস ছিল। একই জায়গায় বিএনপি ও এনসিপির দুই জন শুনানি করতে গিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
সোমবার দুটি ডায়াস রাখা হয়। একটি পক্ষে আবেদন তোলার জন্য একটি ডায়াস এবং বিপক্ষে আবেদন উত্থাপনের আরেকটি ডায়াস রাখা হয়।
• ২৫ অগাস্ট: খুলনা অঞ্চল, বরিশাল অঞ্চল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল দাবি আপত্তির শুনানি হবে।
এদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা-৩, ৪, যশোর-৩, ৬, বাগেরহাট-১, ২ ও ৩; আড়াইটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঝালকাঠি-১, বরগুনা-১, ২, পিরোজপুর-১, ২, ৩, চট্টগ্রাম-৩, ৫, ৮, ১৯, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান আসনের শুনানি হবে।
নির্বাচনের জন্য ৩০০টি আসনের মধ্যে ৩৯টির সীমানায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছে ইসি। কিন্তু নানা দাবি-আপত্তি ওঠে ৮৩টি আসনের বিষয়ে। এরমধ্যে সীমানায় পরিবর্তন আনা এবং বর্তমান সীমানা বহাল রাখার আবেদনও আছে।
এক হাজার ৭৬০টি আবেদনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৮৩টি এসেছে কুমিল্লা অঞ্চল থেকে। সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে সিলেট অঞ্চলে। আর তিনটি আবেদন পড়ে ময়মনসিং অঞ্চলে।
২৪ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া এই শুনানি চলবে চলতি মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত; এই চারদিন দাবি-আবেদন নিষ্পত্তি করে চুড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে ইসি।
আরও পড়ুন:
সীমানা নির্ধারণ: ইসিতে শুনানি রোববার থেকে চলবে চারদিন
আসন বহাল রাখার দাবিতে বাগেরহাটে মহাসড়ক অবরোধ