Published : 17 Jul 2026, 10:48 PM
বাংলাদেশ সরকারের তরফে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়টি আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে বিবেচনা করার কথা বলেছে ভারত।
শুক্রবার নয়া দিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। তার ওই ঘোষণা নিয়ে ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের মনোভাব জানতে চান সে দেশের রিপাবলিক টিভির এক সাংবাদিক।
ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে বাংলাদেশ আবারও ভারতকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করতে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের ফিরিয়ে দিতে বলেছে। শেখ হাসিনা নিজেই ঘোষণা করেছেন যে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কি কোনো যোগাযোগ হয়েছে?”
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের একটি অনুরোধ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা আগেও বলেছিলাম। অনুরোধটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যে কোনো দেশের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল এবং তা সম্পূর্ণ আইনি ও বিচারিক কাঠামোর আলোকে বিবেচনা করে ভারত। এই অনুরোধের ক্ষেত্রেও প্রচলিত আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বাধ্যবাধকতা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার আইনজীবীরা।
ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।
ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।
গেল ৯ জুলাই রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, কেবল তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।
সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী প্রশ্ন করে বলেন, বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যর্পণের আরেকটি অনুরোধ এসেছে। তিনি বলেছেন, তারা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্ত নথি পাঠিয়েছেন। একজন ব্যক্তির প্রত্যর্পণের বিষয়ে যিনি বর্তমানে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছেন এবং নির্বাচনের ঠিক আগে তাকে একজন রাজনীতিবিদের হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান অবস্থা কী।”
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ভারত এই অনুরোধ পেয়েছে কি না, তা তিনি জানাতে পারছেন না।
“তবে আমি আপনাদের জানাতে পারি যে আইনি দিক এবং বিচারিক প্রক্রিয়াগুলো বিবেচনা করেই যেকোনো প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হবে।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি গণসংযোগে গিয়ে গুলিতে আহত হন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অব্স্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রায় আড়াই মাস পর গেল মার্চে ভারতে হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।