Published : 16 Jul 2026, 06:11 PM
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থপাচার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন এ তথ্য দিয়েছেন।
৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে হরিদাসের বিরুদ্ধে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম রোববার উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
মামলার পর সে দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার হরিদাসকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা।
আবেদনে বলা হয়, হরিদাসকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে, তার ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে কারা বা কী কারণে অর্থ জমা করেছে এবং ওই জমা করা অর্থ কার কাছে হস্তান্তর বা কোথায় কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে সে বিষয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে’, যা মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত কাজে সহায়ক হবে।
সিআইডি বলেছে, আসামির দেওয়া তথ্যগুলি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
হরিদাস জামিন পেলে মামলার তদন্তে ব্যঘাত ঘটবে তুলে ধরে এজন্য তার জামিনের বিরোধিতা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
হরিদাসের পক্ষে তার আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিনের বিরোধিতা করে।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত হরিদাসের কাছে জানতে চান তিনি কি করেন।
হরিদাস বলেন, “ব্যবসা করি।”
কিসের ব্যবসা করেন, বিচারক জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চাল, ডালের ব্যবসা।”
ব্যবসার লাইসেন্স আছে কি না, জানতে চাইল হরিদাস বলেন, “আছে।”
এলাকায় একটা মন্দির আছে, সেই মন্দিরের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আদালতকে বলেন তিনি।
পরে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারসহ হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত। তার ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যবসা বর্হিভূত নগদ অর্থ জমা হয়েছে।
মামলা বলা হয়েছে, হরিদাসসহ অজ্ঞাতনামা দুই বা তিনজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র হুন্ডি তথা দেশি-বিদেশি ‘মুদ্রা পাচার’ করতো। ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ‘অবৈধভাবে’ অর্জন, অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে এই অর্থের উৎস, অবস্থান ও মালিকানা গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সিআইডির ভাষ্য, হরিদাস ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। সিআইডি জেনেছে, হরিদাস ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গমন করে ‘শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ’ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন। তিনি ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন।
এরপর থেকে হরিদাস বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিতেন; বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের সম্পাদন করা ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সেভ করা ভুয়া ফোন কল শোনাতেন।
সম্প্রতি পলাশবাড়ী উপজেলায় রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে রামের বিগ্রহ নির্মাণ কাজ শুরু করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি হবে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রাম বিগ্রহ।
এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গেল ৯ জুন বিগ্রহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করে মন্দির কমিটি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থানের পর হরিদাস ২০২৪ সালে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তিনি গ্রামের কালী মন্দিরের পুরনো অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবে গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে হরিদাসকে সভাপতি ও বিপিন চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে মন্দির কমিটি গঠন করা হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে মন্দির আধুনিকায়নের কাজ শুরু করে এ কমিটি। মন্দিরের নাম বদলিয়ে রাখা হয় রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির।
আগের খবর:
গাইবান্ধায় রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস ৪ দিনের রিমান্ডে
গাইবান্ধায় রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস কারাগারে, 'দিয়েছ