Published : 18 Jul 2026, 01:43 AM
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় যে ফৌজদারী মামলা হয়েছিল, সেই মামলার ছয় নম্বর আসামি ছিলেন মেজর মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন।
মামলার এজাহারে এবং পরবর্তীতে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বইতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের সময় মেজর মোজাফফর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খুব কাছেই ছিলেন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা।
সেই হত্যাকাণ্ডের পর ইতিহাসের দৃশ্যপট থেকে একরকম হারিয়েই গিয়েছিলেন মেজর মোজাফফর। ঘটনার ৪৫ বছর পর হঠাৎ তার গ্রেপ্তারের পর সেই হত্যাকাণ্ড আবার আলোচনায় এসেছে।
বিগত ৩৫ বছর তিনি কোথায় ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট করেননি পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম শুক্রবার বলেন, “৪৫ বছরের মধ্যে পাশের একটি দেশেই তার অবস্থানটা ছিল বেশি।
“আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সে বাংলাদেশেই ছিল। তাকে যেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি তার শ্বশুরের বাড়ি।”

বুধবার রাতে বনানী ডিওএইচএস থেকে বাড়ি থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সংবাদমাধ্যমকে সেই খবর জানায় পুলিশ।
ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “যেহেতু সে এতদিন পলাতক ছিল, নিয়ম অনুযায়ী আগে তাকে তার বাহিনীতে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
হস্তান্তরের আগে মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে শফিকুল শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাশের একটি দেশে অবস্থানের জন্য তিনি নাম পাল্টে কিছু কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন।”
কর্মকর্তারা বলেছেন, মোজাফফরকে শনাক্ত করেছেন মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারীরা।
জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের সূত্র ধরে প্রথমে মেজর মোজাফফরকে শনাক্ত করেন ট্রাইবুনালের তদন্তকারীরা।
তারপর একটি মোবাইল অপারেটরে কর্মরত তার এক স্বজনের সূত্র ধরে বাড়িটি শনাক্ত করে বুধবার মধ্যরাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। নাকের নিচে থাকা তিল দেখে চুড়ান্তভাবে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয় মোজাফফর হোসেনকে।
সাবেক সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভায়রা সাঈদ এস্কান্দার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মামা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শ্যালক।
২০০৭-০৮ সময়ে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ওই কমিটির নির্দেশে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের সে সময় আটক করা হয়। তারেক রহমানকেও সে সময় গ্রেপ্তার করার পর জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কী ভূমিকা ছিল মোজাফফরের
ব্রিটেনের সানডে টাইমস পত্রিকার সাবেক সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের ‘আ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াকে হত্যার দিনের ঘটনাপ্রবাহের কিছু বর্ণনা এসেছে।
সেখানে বলা হয়েছে, ‘ঘাতকদলের’ নেতৃত্ব দেয় লেফটেন্যান্ট কর্নের মতিউর রহমান। তাদের সঙ্গে ছিল ১১টি এসএমজি, তিনটি রকেট লঞ্চার এবং তিনটি গ্রেনেড ফায়ারিং রাইফেল। সে ওই সবগুলো অস্ত্রে সঠিকভাবে গোলাবারুদ ভর্তি করা হয়েছে কিনা এবং ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, পরীক্ষা করে নেয়। ১৬ জন অফিসারকে একটি পিকআপে গাদাগাদি করে ওঠানো হয়।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস এবং থাকার ঘরের একটি নকশা দেখিয়ে মতিউর রহমান অন্যদের পুরো অভিযান পরিকল্পনা বুঝিয়ে দেন। তারপর কোরআন শরীফ হাতে দিয়ে সবাই শপথ নেন– তারা প্রেসিডেন্টকে ‘হাতের মুঠোয় পাবার জন্য’ এগিয়ে যাবেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতি নিজে ছিলেন দ্বিতীয় দলে। তার সঙ্গে ছিলেন মেজর মোমিন, মেজর মোজাফফর, ক্যাপ্টেন ইলিয়াস, ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন আর লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিন।
প্রথম দলটিকে দ্বিতীয় দলটি পেছন থেকে সহায়তা করে। মেজর গিয়াসউদ্দিন আর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন আর মুনিরকে নিয়ে গঠিত হয় তৃতীয় দল।

রাত্র সাড়ে ৩টার সামান্য কিছু পরে দল তিনটি কালুরঘাট থেকে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে আস্তে আস্তে গাড়ি চালিয়ে সামনে এগোতে শুরু করে। যুবক লেফটেন্যান্ট রফিক প্রথম দলের পিকআপে বসে কম্পিত স্বরে কর্নেল ফজলেকে জিজ্ঞেস করেন: “আপনারা কি প্রেসিডেন্টকে খুন করতে যাচ্ছেন?” কর্নেল ফজলে তাকে বলেন, “না, আমরা কেবল তাকে তুলে আনতে যাচ্ছি।”
তার ওই কথা থেকে ধারণা পাওয়া যায়, শেষ মুহূর্তেও দলের অনেক সদস্য বিশ্বাস করতেন যে, তারা প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে এসে জিম্মি করে রাখতে যাচ্ছেন।
ওই বইয়ে হত্যাকাণ্ডের সময়কার বিবরণ তুলে ধরে অ্যান্থনি মাসকারেনহাস লিখেছেন, “মেজর মোজাফফর দৃশ্যতঃ ভয়ে কাঁপছিল। মোসলেহউদ্দিন প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করতে চাইছিল। সে বলছিল, ‘স্যার, আপনি ঘাবড়াবেন না। এখানে ভয়ের কিছুই নেই।’ কি আশ্চর্য! ঐ দুজন অফিসার তখনও মনে করছে, তারা প্রেসিডেন্টকে উঠিয়ে নিতে এসেছে, হত্যা করতে নয়।
“লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিও কাছাকাছিই ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রতি তার বিন্দুমাত্র দয়ামায়া ছিল না। সে প্রেসিডেন্টকে একটুও সুযোগ দিল না। মোসলেহউদ্দিনের ঠোঁট থেকে জিয়ার প্রতি তার আশ্বাসের বাণী মিলিয়ে যাবার আগেই মতি তার এসএমজি থেকে গুলি চালিয়ে দেয়। ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি এসে জিয়ার শরীরের ডান দিক একেবারে ঝাঁঝরা করে ফেলে।
“দরজার কাছেই জিয়া মুখ-থুবড়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। রক্তের বন্যায় তার সমস্ত শরীর ভেসে যেতে থাকে। খুনের নেশায় ঘাতক মতি পাগল হয়ে উঠে। সে তার বন্দুকের নল দিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়ার প্রাণহীন দেহ উল্টিয়ে নেয়। তারপর জিয়ার মুখমণ্ডল আর বুকের উপর তার এসএমজির ট্রিগার টিপে রেখে ম্যাগজিন খালি করে তার খুনের নেশা মিটিয়ে দেয়। গুলির আঘাতে জিয়ার মাথা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।”

হত্যাকাণ্ড শেষে সেনানিবাসে ফেরার পথেও মেজর মোজাফফরের প্রসঙ্গে এসেছে সেই বইয়ে। সেখানে লেখা হয়েছে, “জীপে চড়ে ক্যান্টনমেন্টের দিকে যাবার পথে মেজর মোজাফফর ক্ষোভে আর দুঃখে কাঁপতে কাঁপতে লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিনকে বলছিল: 'আমি জানতাম না, আমরা প্রেসিডেন্টকে খুন করতে যাচ্ছি। আমার ধারণা ছিল, আমরা কেবলই প্রেসিডেন্টকে বের করে নিয়ে আসতে যাচ্ছি।'”
হত্যাকাণ্ডের পরের দৃশ্যপটেও মেজর মোজাফফর ছিলেন বলে অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বইয়ে উঠে এসেছে। হত্যাাকাণ্ডের কিছু পরের দৃশ্যপট বর্ণনা করে বইয়ে বলা হয়েছে, “এক ঘণ্টা পরে তিজন বিদ্রোহী মেজর ১২ জন সিপাই নিয়ে সার্কিট হাউসে এসে পৌঁছায়। ওই তিনজন হচ্ছে-মোজাফফর, শওকত আলী এবং রেজা। দুটি জীপ আর একটি আর্মি ভ্যানে করে তারা পূর্ণ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এখানে আসে। গোপন কাগজপত্র এবং জিয়ার ব্যক্তিগত ডায়েরিটি খোঁজার জন্যে তারা প্রেসিডেন্টের শয়নকক্ষ একেবারে তছনছ করে ফেলে।
“একটা পুরনো স্যুটকেসে বিদ্রোহীরা জিয়ার সকল ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ঢুকিয়ে নেয়। তারপর তারা তার লাশ একটি সাদা বিছানার চাদরে মুড়ে ফেলে। কর্নেল আহসান আর ক্যাপ্টেন হাফিজের লাশও তারা একইভাবে মুড়ে তিনটি লাশ একত্র করে ভ্যানে উঠিয়ে কবর দেওয়ার জন্যে নিয়ে চলে যায়। তখন সকাল ৯টা ৩০ মিনিট।”
জিয়াউর রহমানের সমসাময়িক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ হামিদ তার ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’ বইতেও ওই হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনেছেন।
তিনি লিখেছেন, “জিয়াকে হত্যা করার কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যান প্রোগ্রাম বা নির্দেশ না থাকা সত্ত্বেও কেন কর্নেল মতি ছুটে গিয়ে তাকে হত্যা করল, তার এই মোটিভ আজও রহস্যাবৃত। রাষ্ট্রপতি জিয়াকে যেভাবে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হয়েছে, সে রকম নির্দেশ জেনারেল মঞ্জুর কোনো পর্যায়ে কাউকে দিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নেপথ্যে থেকে তাহলে নাটাইর সুতাটি টেনেছিল কে?
“লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতি কার নির্দেশে ছুটে গিয়ে জিয়ার বুকে স্টেনগান ধরল? মঞ্জুরতো জিয়াকে হত্যা করার নির্দেশ কাউকে দেয় নাই। তাহলে মতি এককভাবে এ কাজটি কেন করল? ঘটনাপ্রবাহ থেকে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের চারদিন আগে চট্টগ্রামে মতির সাথে হিলপট মেসে এরশাদের (তখনকার সেনাপ্রধান এইচএম এরশাদ, পরে রাষ্ট্রপতি হন) সাথে দুঘণ্টা অন্তরঙ্গ পরিবেশে আলোচনা হয়েছিল। সকল প্রটোকলের বাইরে জুনিয়ার মতির সাথে সেনাপ্রধানের এমন কি ব্যক্তিগত গোপন আলাপ হতে পারে ঐ সন্ধিক্ষণে? কদিন আগে ঢাকায় গিয়েও মতি সেনাপ্রধান এরশাদের সাথে দেখা করে।”

রাষ্ট্রপতি জিয়াকে হত্যার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সে সময় সামরিক আদালতে ১৩ জন কর্মকর্তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কর্নেল হামিদ তার বইয়ে লিখেছেন, “মেজর জেনারেল মোজাম্মেলের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হল অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে। তড়িঘড়ির তদন্তে ওই পরিস্থিতিতে কী পরিবেশ বিদ্যমান ছিল, তা সহজেই অনুমেয়। পরবর্তীতে জেনারেল আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম জেলের অভ্যন্তরে একটি গোপন কোর্টমার্শাল অনুষ্ঠান করে অভিযুক্ত ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হল। তাদের পরিবার পরিজনদের আকূল আবেদন, কাকুতি মিনতি, অনশন কিছুই এরশাদের ইস্পাত-কঠিন হৃদয়কে টলাতে পারল না।”
ফৌজদারী মামলা
সে সময় ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়।
তবে অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মেজর খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাদের দুজনকে ধরিয়ে দিতে সে সময় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার পরে আর বেসামরিক আদালতে হয়নি। তবে ওই ঘটনায় চট্টগ্রামের কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেছিল পুলিশ। সেই মামলার ছয় নম্বর আসামি ছিলেন মেজর মোজাফফর। এজাহারে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতির কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
পরে সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিলের জন্য আদালতের কাছ থেকে ১৭৩ বার সময় নেয় থানা পুলিশ ও সিআইডি। শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালে ২৪ অক্টোবর সিআইডি মামলার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থতা স্বীকার করে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
মামলাটি প্রমাণ করতে না পারার কারণ হিসেবে ওই প্রতিবেদনে সাক্ষী ও প্রমাণের অভাবের কথা লিখেছিলেন সিআইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। চুড়ান্ত প্রতিবেদনটি আদালত গ্রহণ করে। পরে বাদী নারাজি না দেওয়ায় সেই মামলাটি আর পুনঃতদন্তের জন্য পাঠানো হয়নি।
ওই বছর ১০ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয় বিএনপি। তার ১৪ দিন পরেই মামলার তদন্ত শেষ করে সিআইডি।
পুরনো খবর