Published : 31 Jul 2025, 03:48 PM
বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন সেখানকার রাজনীতিকরা।
বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন ভবনে সিইসি নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাগেরহাট-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলনের চেয়ারম্যান কাজী মনিরুজ্জামান মনির।
বিএনপির অঙ্গসংগঠন তাঁতীদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগা আহ্বায়ক ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টাও তিনি।
বিএনপি নেতা মনির বলেন, “আমরা খুবই অভাগা জেলা বাগেরহাট। আমাদের একটি আসন নাই হয়ে গেছে। বাগেরহাটে আমার জন্মলগ্ন থেকে চারটি আসন।
“এই বাগেরহাট-৪ আসন যেটা নাই হয়ে গেছে, সেখান থেকে আমি এসেছি। এ আসনটি বহাল রাখার জন্য সিইসির কাছে দাবি জানিয়েছি।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুননির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
এতে ভোটার সংখ্যার সমতা আনতে গিয়ে গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়িয়ে ছয়টি এবং বাগেরহাটের আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটির প্রস্তাব করা হয়। খসড়া প্রকাশের পর দাবি-আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে ১০ অগাস্ট পর্যন্ত। এরপর শুনানি করে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।
>> বাগেরহাটে আগে চারটি আসন ছিল- বাগেরহাট-১ (মোল্লারহাট-ফকিরহাট-চিতলমারী); বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া); বাগেরহাট-৩ (রামপাল ও মোংলা) এবং বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা)।
>> এবার বাগেরহাট-১ আগের মতো বহাল রাখা হয়েছে। বাগেরহাট সদর, কচুয়া, রামপাল নিয়ে বাগেরহাট-২ আসন এবং মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিএনপি নেতা কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, “শুধুমাত্র ভোটারের ওপর ভিত্তি করে যদি আমাদের ওখানে কেটে দেওয়া হয়, আমরা একেবারে অনুন্নত থাকব। আমাদের এই উন্নয়ন সুবিধাটা হবে না। বাগেরহাটে চারটি আসন রাখতে বলেছি আমরা।”
ইসির প্রস্তাবিত সীমানা নিয়ে কেউ মামলা করলে নির্বাচনও আটকে যাওয়ার শঙ্কা করেন তিনি।
“কেউ যদি এখন দ্রুত কোনো মামলা করে, আইনের ব্যবস্থা নেয়; তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়াটা থেমে যাবে। মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা- ভোটাধিকার, সেটা তারা প্রয়োগ করতে পারবে না। যেকোনো লোক এখন করতে পারে। সবাইকে তো বোঝানো যাবে না। এক-একটা আসনে ১৭/১৮ জন এমপি প্রার্থী বিভিন্ন দলের, এটা করে করলে যদি হ্যাং হয়ে যায়, তাহলে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া সমস্যা হয়ে যাবে,” বলেন মনিরুজ্জামান।
তিনি জানান, সীমানা প্রশ্নে নিয়ম মেনে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন সিইসি। শুনানি করে ইসি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তাকে।
ইসির প্রস্তাবিত সীমানা নিয়ে আপত্তি জানানো শুরু হয়েছে। বাগেরহাটে বুধবার রাতেই স্থানীয়রা ক্ষোভ দেখিয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় দুই নেতা। নির্বাচন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছেন কয়েকজন।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিজয়নগর উপজেলাকে দুই আসনে বিভক্ত না করতে বৃহস্পতিবার ইসিতে আবেদন করেছেন স্থানীয় চারজন। এতে বলা হয়, প্রস্তাবিত সংসদীয় সীমানায় বিজয়নগরের ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানানো হয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও হতাশাজনক।
বুধবার নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আমরা ৬৪ জেলার গড় ভোটার নির্ধারণ করেছি ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০। এটা ধরে উপরের জেলায় একটি আসন বাড়ালে তা গাজীপুরে হবে। এ গড়ের কম বাগেরহাটে একটি কমালে সমতা চলে আসে। বাকিগুলোয় আসন কমবেশি প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
“দুই জেলার আসনই এফেক্টেড হয়েছে। আর কোথাও ঝামেলা নেই। ৩৯টি আসনে অ্যাডজাস্টমেন্ট রয়েছে।”