Published : 09 Jul 2026, 01:43 PM
সাড়ে ছয় বছর আগে ঘুষ নেওয়ার সময় ধরা পড়া বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তখনকার জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর অ্যান্ড কনসালটেন্ট এইচ এম রাশেদ সরকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
দুদকের কৌসুলি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, “দণ্ডের পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে।”
আদালত অর্থদণ্ডের টাকা অভিযোগকারীকে দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
জামিনে থাকা রাশেদ সরকার রায় ঘোষণার আগে আদালতে হাজির হন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বেবিচকের কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্সের (সিপিএল) প্রথম ধাপ 'এয়ার ল’ পরীক্ষায় ২০১৮ সালে উত্তীর্ণ হন রাকিব হাসান নামের একজন। পরবর্তী ধাপ ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষার জন্য তিনি ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর চার হাজার টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেন। কিন্তু বেবিচকের জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর অ্যান্ড কনসালটেন্ট রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে ওই আবেদন বাতিল করেন। তিনি ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে রাকিবের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
রাকিব ৬ ডিসেম্বর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে বিএফসিতে গিয়ে ওই টাকা দিয়ে আসেন। এসময় দুদকের ফাঁদ টিমের সদস্যরা রাশেদকে ধরে ফেলেন।
এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক সেদিনই দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালাম ২০২২ সালের ৬ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০২৩ সালের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। আসামি নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোসণা করা হল।