Published : 08 Jul 2026, 04:12 PM
সচিবালয়ে যাওয়ার পথে প্রতিদিন বিএনপির নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষ হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো আবদুস সালামকে উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীর পুরোনো রমনা থানার কাছে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে কর্মরত নিরাপত্তা কর্মী সালামের কাছে বুধবার উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা।
তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সচিবালয়ে যাওয়ার পথে দেখছেন যে, পুরানা রমনা থানার কাছে একটি এটিএম বুথের সামনে সিকিউরিট গার্ড আব্দুস সালাম ধানের শীষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
“তার এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার প্রকাশ এক সময় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি গোচর হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে ওই ব্যক্তির খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য উপহার নিয়ে পাঠান।”
উপ প্রেস সচিব বলেন, এদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহার তার হাতে তুলে দেন। এছাড়া তার শারীরিক অবস্থা ও তার পরিবারের খোঁজখবরও নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই ভক্তের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ী ঘাট এলাকায়। অর্থ সংকটে প্রায় আট মাস ধরে রমনা থানার সামনের একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
এই চাকরি আগে আব্দুস সালাম গাড়ি চালকের কাজ করতেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত অসুস্থতায় ভোগার পর থেকে তিনি আর গাড়ি চালাতে পারেন না, এটিএম বুথে নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ নিয়েছেন।
অসুস্থ শরীর নিয়ে প্রতিদিন বিরতিহীনভাবে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টা কাজ করেন সালাম।

উপ প্রেস সচিব বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুস সালাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, আমি কখনো কল্পনাও করেননি যে আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হব আর প্রধানমন্ত্রীর আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।
“আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবাকে ভালোবাসি, ওনার মা বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভালোবাসি। তারেক রহমান আমার জানের টুকরা।
“উনি (প্রধানমন্ত্রী) যখন এই পথ দিয়ে যান, আমি সব সময় প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিই, তিনিও আমাকে গাড়ির ভেতর থেকে সবদিনই হেসে সালামের জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর হাসি দেখলে আমার পরান জুড়িয়ে যায়। আমার জীবনের আজকের দিনটি সেরা দিন, সবচেয়ে আনন্দের দিন।”
উপ প্রেস সচিব বলেন, একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানোর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া আশপাশের লোকজনের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক অনুভূতির এমন মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত।