Published : 09 Jul 2026, 02:25 PM
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহবাহী কফিন ইরাকের নাজাফ শহর থেকে ইরানের মাশহাদ শহরে নেওয়া হচ্ছে। মাশহাদ আলি খামেনির নিজ শহর।
বৃহস্পতিবার সকালে একটি বিমানের করে খামেনির কফিন নাজাফ বিমানবন্দর থেকে মাশহাদের পথে রওনা হয়।
ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এর আগে বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় খামেনির জানাজায় ও তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। উপস্থিত জনসমাগমকে ‘নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছে তারা।
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশেষ করে কারবালায় জনতার অভাবিত উপস্থিতির কারণে খামেনির কফিন মাশহাদে আসতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয়েছে। কারবালায় শোক যাত্রার সময় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বারবার বিরতি দেওয়া হচ্ছিল, এখানে শোকাহতরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে একটু পর পর শবযাত্রাকে ঘিরে ধরছিলেন।
এর ফলে মাশহাদে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও তা দুপুর ২টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
তাসনিম লিখেছে, ইরাক তার আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুটি জানাজা ও শোক যাত্রার মিছিল দেখেছে। এর মধ্যে নাজাফে শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ইমাম আলির (আ.) মাজার শরিফ প্রাঙ্গণে ও আশপাশের সড়কগুলোতে হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ জমায়েত হয়েছিল। এরপর ঐতিহাসিক আরবাইন রুট ধরে খামেনির কফিন ৮০ কিলোমিটার দূরের কারবালায় ইমাম হুসেনের (আ.) মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইরাকে শেষ বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির মুখপাত্র সাদ মান বুধবার জানান, এ অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ করতে প্রায় ৪৩০০ জন ইরাকি ও বিদেশি সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন।
ইরাকের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধে খামেনির কফিন একদিনের জন্য নাফাজ ও কারবালায় পাঠিয়েছিল ইরানের কর্তৃপক্ষ।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এক যুদ্ধের সূত্রপাত্র ঘটায়। প্রথমদিনই তেহরানে দেশ দুটির হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার পরিবারের আরও চার সদস্যসহ নিহত হন। এরপর প্রায় ৪০ দিন ধরে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক লড়াই চলার পর দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়।
যুদ্ধের কারণে খামেনির জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার থেকে ইরানে শুরু হওয়া তার শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানগুলোতে লাখ লাখ মানুষ যোগ দেয়। তাদের অনেকের হাতেই ছিল ন্যায়বিচার ও প্রতিশোধের প্রতীক লাল পতাকা।
আরও পড়ুন: