Published : 09 Jul 2026, 03:16 PM
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের প্রথম ধাপেই হোঁচট খাচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফলে টিনএজারদের জন্য এসব প্লাটফর্ম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম এ নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
সরকারের এ নতুন নিয়ম চালুর ক্ষেত্রে পরামর্শক হিসেবে কাজ করা এক দলের গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদন লিখেছে রয়টার্স।
গবেষণা বলছে, আইন কার্যকর হওয়ার পর ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের প্রাথমিক ধাপটিই ঠিকঠাক পূরণ করতে পারছে না। এতে ১৬ বছরের কম বয়সীরা সহজেই বয়স লুকিয়ে এখনও এসব মাধ্যমে প্রবেশ করছে।
গেল ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া অস্ট্রেলিয়ার নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইনে ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
এ নিয়ম মেনে চলার জন্য অপারেটরদের ‘যৌক্তিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার নির্দেশ এবং ব্যবহারকারীদের বয়স নিশ্চিত করতে সরকারকে একাধিক স্তরের যাচাইকরণ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
তবে নিষেধাজ্ঞাটি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, ১৬ বছরের কম বয়সী অধিকাংশ টিনএজার এখনও এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারছে।
এরই প্রেক্ষিতে গেল মাসে এ আইন না মানা প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
রয়টার্সকে গবেষকরা বলেছেন, এক সফটওয়্যার টেস্টিং দল গত বছর এক হাজারেরও বেশি অস্ট্রেলীয়র ওপর বয়স-নিশ্চিতকরণ সফটওয়্যার পরীক্ষা করেছিল।
তারা এ আইন কার্যকর হওয়ার পর ৫০টি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলে। তবে বয়স ১৬ বছর উল্লেখ করার পরও প্ল্যাটফর্মগুলোর কোনোটিই বয়স প্রমাণের জন্য কোনো ধরনের প্রমাণপত্র চায়নি।
আগে অপ্রকাশিত এ তথ্যটি নিয়মের বড় ও এতদিন উপেক্ষিত থাকা ত্রুটিকে সামনে এনেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিতে কেবল ছবিভিত্তিক বয়স যাচাইকরণ সফটওয়্যারের নির্ভুলতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছিল।
তবে প্রাথমিক বাছাইয়ের এ ধাপটি, যেখানে একজন মানুষের সাধারণ অনলাইন কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে তার সম্ভাব্য বয়স অনুমান করে তা তরুণ বা কম বয়সী ব্যবহারকারীদের পরবর্তী যাচাইকরণের জন্য চিহ্নিত করতেই পারছে না।
২০২৫ সালের মূল পরীক্ষাটি পরিচালনাকারী সফটওয়্যার টেস্টিং কোম্পানি ‘কেজেআর’-এর পরিচালক অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড বলেছেন, “আপনার বয়স কত তা প্রমাণের জন্য আপনাকে বলা উচিত, অথচ আমাদের একবারের জন্যও বয়স যাচাই বা বয়স নিশ্চিতকরণের কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করতে বলেনি।”
হ্যামন্ড বলেছেন, পরীক্ষামূলকভাবে খোলা ৫০টি অ্যাকাউন্টের সবগুলোই সচল রয়েছে এবং বয়স নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১০টি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ৯টিতেই এগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে মেটা’র ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপের মালিকানাধীন স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও অ্যালফাবেটের ইউটিউবও রয়েছে।
কিছু ডামি বা ভুয়া অ্যাকাউন্টে তরুণদের ব্যাংকিং পণ্যের বিজ্ঞাপন পাঠানো হয়েছিল, যা থেকে ইঙ্গিত মেলে, এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর বয়স অনুমান করতে পারার পরও প্রমাণ চায়নি।
এ ছাড়া, ইলন মাস্কের সামাজিক মাধ্যম কোম্পানি এক্স-এ ১৬ বছর বয়স দাবি করে খোলা এক অ্যাকাউন্টে পর্নোগ্রাফিক বা প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টও দেখানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন হ্যামন্ড।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্ন্যাপ, টিকটক ও এক্স।
মেটা’র একজন মুখপাত্র বলেছেন, অ্যান্ড্রু হ্যামন্ডের এ ছায়া পরীক্ষাটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশিকার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ নির্দেশিকা অনুসারে, “যখন কোনো ব্যবহারকারীর আচরণগত সূচক দেখে মনে হবে সে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা কোনো অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হবে কেবল তখনই তাকে আনুষ্ঠানিক বয়স যাচাইকরণের মুখে পড়তে হবে।”
ডামি বা ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে বয়স ন্যূনতম সীমার বেশি, অর্থাৎ ১৬ বছর ঘোষণা করা হয়েছিল এবং এগুলো কোনো আসল ১৬ বছর বয়সীর মতো কনটেন্ট পোস্ট করেছিল কি না বা প্ল্যাটফর্মে সেভাবে সক্রিয় ছিল কি না তা স্পষ্ট নয় বলেও উল্লেখ করেছেন ওই মুখপাত্র।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেইফটি কমিশনারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ‘এখনও নিশ্চিত যে, বয়স-নির্ধারিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাছে ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলিয়ান শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সম্পদ রয়েছে।
“ক্রমাগত শক্তিশালী যাচাইকরণের এ প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় তবে তা কোনো নির্দিষ্ট ত্রুটি বা ব্যর্থতার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি ভেঙে পড়া ঠেকাবে।”