Published : 01 Aug 2025, 11:09 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন; সবশেষ দ্বাদশ সংসদের ২৬১টি আসনের সীমানা বহাল রেখে বাকি ৩৯টি আসনে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে সেখানে।
এবার গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়িয়ে বাগেরহাট জেলায় একটি আসন কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়া প্রকাশের পরদিন বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন জানাতে শুরু করেছেন সংক্ষুব্ধরা।
বাগেরহাট-৪ আসন বহাল রাখার দাবি জানিয়ে বিএনপির নেতারা সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন।
৩৯টি আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হলেও শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে মাসখানেক।
প্রস্তাবিত আসন সীমানা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর জন্য ১০ অগাস্ট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। সেসব বিষয়ে শুনানি করে বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করা হবে। তারপর ৩০০ নির্বাচনী এলাকার সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করবে এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন।
>> ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলাকে দুই সংসদীয় আসনে বিভক্ত না করে আগের মত ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-৩ আসনে রাখার দাবি জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে ইসির কাছে।
বৃহস্পতিবার বিজয়নগরের ভোটারদের পক্ষে-গোলাম মোস্তফা সুমন, মোজাহিদুজ্জামান চৌধুরী, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী, এ কে এম গোলাম মুহীত ওসমানি, মো. বায়েজিদ মিয়া, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল হক চৌধুরী, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ আবেদন জমা দেওয়া হয়।
>> বাগেরহাট-৪ আসন বিলুপ্ত না করে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা কাজী মনিরুজ্জামান মনির। তিনি সিইসির সাথে এ নিয়ে বৈঠকও করেন।

|
আসন |
দ্বাদশ সংসদের এলাকা |
ত্রয়োদশ সংসদের প্রস্তাবিত এলাকা |
|
পঞ্চগড়-১ |
পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া উপজেলা, আটোরিয়া উপজেলা |
পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলা এবং আটোরিয়া উপজেলা [বোদা পৌরসভার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড ব্যতীত] |
|
পঞ্চগড়-২ |
বোদা, দেবীগঞ্জ উপজেলা |
বোদা উপজেলার ইউনিয়নসমূহ, বোদা পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড; দেবীগঞ্জ উপজেলা |
|
রংপুর-৩ |
রংপুর সদর উপজেলা, ওয়ার্ড ১-৮ ছাড়া রংপুর সিটি করপোরেশন |
রংপুর সদর, ১ থেকে ৮ নম্বর ওয়ার্ড ব্যতীত রংপুর সিটি করপোরেশন; রংপুর সেনানিবাস এলাকা |
|
সিরাজগঞ্জ-১ |
কাজিপুর, সদর উপজেলার মেছড়া, রতনকান্দি, বাগবাটি, ছোনগাছা, বহুলী ইউনিয়ন |
কাজিপুর উপজেলা এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া, রতনকান্দি, বাগবাটি ও ছোনগাছা ইউনিয়ন |
|
সিরাজগঞ্জ-২ |
মেছড়া, রতনকান্দি, বাগবাটি, ছোনগাছা, বহুলী ইউনিয়ন ছাড়া সদর উপজেলা ও কামারখন্দ উপজেলা |
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাহুলী, শিয়ালকোল, খোকশাবাড়ী, কাওয়াকোলা, কালিয়াহরিপুর ও সয়দাবাদ ইউনিয়ন, সিরাজগঞ্জ পৌরসভা ও কামারখন্দ উপজেলা |
|
বাগেরহাট-২ |
সদর উপজেলা ও কচুয়া উপজেলা |
বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও রামপাল উপজেলা |
|
বাগেরহাট-৩ |
রামপাল ও মোংলা উপজেলা |
মোংলা, মোড়েলগঞ্জ এবং শরণখোলা উপজেলা |
|
বাগেরহাট-৪ |
মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা |
এবার আসনটি রাখা হয়নি |
|
সাতক্ষীরা-৩ |
আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলা; কালিগঞ্জের চম্পাফুল, ভাড়াশিমলা, তারালী ও নলতা ইউনিয়ন |
কালিগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলা |
|
সাতক্ষীরা-৪ |
শ্যামনগর উপজেলা এবং চম্পাফুল, ভাড়াশিমলা, তারালী ও নলতা ইউপি ছাড়া কালিগঞ্জ উপজেলা |
আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলা |
|
ঢাকা-২ |
জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা, শুভাঢ্যা ছাড়া কেরানীগঞ্জ উপজেলার বাকি ইউপি; দক্ষিণ সিটির ৫৫-৫৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং সাভার উপজেলার আমিনবাজার, তেঁতুলঝরা ও ভাকুর্তা |
কেরানীগঞ্জ উপজেলার তাড়ানগর, কালাতিয়া, হজরতপুর, রুহিতপুর ও শাক্তা ইউনিয়ন; সাভার উপজেলার আমীনবাজার, তেতুলজোড়া, ভাকুর্তা, কাউন্দিয়া, বনগাঁও ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন |
|
ঢাকা-৩ |
কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা, শুভাঢ্যা। |
কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা, শুভাঢ্যা, ভাস্তা ও কালিন্দী ইউনিয়ন |
|
ঢাকা- ৭ |
ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৩-৩৬ নম্বর ওয়ার্ড |
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩ থেকে ৩৩,৩৫, ৩৬, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড |
|
ঢাকা-১০ |
দক্ষিণের ১৪-১৮ এবং ২২ নম্বর ওয়ার্ড |
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪ থেকে ১৮,২২ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড |
|
ঢাকা-১৪ |
উত্তরের ৭-১৩ নম্বর ওয়ার্ড ও সাভারের কাউন্দিয়া |
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ড |
|
ঢাকা-১৯ |
আমিন বাজার, তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও কাউন্দিয়া ছাড়া সাভার উপজেলার বাকি ইউপি |
সাভার উপজেলার শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, পাথালিয়া ও সাভার ইউনিয়ন; সাভার পৌরসভা; সাভার সেনানিবাস এলাকা |
|
গাজীপুর-১ |
কালিয়াকৈর উপজেলা; গাজীপুর সিটির ১-১৮ নম্বর ওয়ার্ড |
কালিয়াকৈর উপজেলা, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ড |
|
গাজীপুর-২ |
গাজীপুর সিটির ১৯-৩৯ নম্বর ওয়ার্ড; ৪৩-৫৭ নম্বর ওয়ার্ড; গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা |
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৩ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড; গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন |
|
গাজীপুর-৩ |
শ্রীপুর, গাজীপুর সদরের মির্জাপুর, ভাওয়ালগড়, পিরুজালী ইউপি |
শ্রীপুর উপজেলা এবং গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর, ভাউয়াল গড় ও পিরুজালী ইউনিয়ন এবং গাজীপুর সেনানিবাস |
|
গাজীপুর-৫ |
কালীগঞ্জ, গাজীপুর সিটির ৪০-৪২ নম্বর ওয়ার্ড, গাজীপুর সদরের বাড়িয়া ইউপি |
কালিগঞ্জ উপজেলা |
|
গাজীপুর-৬ |
আগে ছিল না |
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৪ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড |
|
নারায়ণগঞ্জ-৩ |
সোনারগাঁও উপজেলা |
সোনারগাঁও ও বন্দর উপজেলা |
|
নারায়ণগঞ্জ-৪ |
আলীরটেক, গোগনগর ইউপি ছাড়া সদর উপজেলার বাকি ইউপি, সিটির ১-১০ নম্বর ওয়ার্ড |
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা, এনায়েতপুর, বক্তাবলী, কাশিপুর, কুতুবপুর, গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন |
|
নারায়ণগঞ্জ-৫ |
সদর উপজেলার আলীরটেক, গোগনগর, বন্দর ও সিটির ১১-২৭ নম্বর ওয়ার্ড |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন |
|
শরীয়তপুর-২ |
নড়িয়া ও সখিপুর থানা |
নড়িয়া উপজেলা এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলা (ভেদরগঞ্জ ও সখীপুর থানা) |
|
শরীয়তপুর-৩ |
ডামুড্যা, গোসাইরহাট উপজেলা ও ভেদরগঞ্জ থানা |
ডামুড্যা উপজেলা এবং গোসাইরহাট উপজেলা |
|
সিলেট-১ |
সিটি ওয়ার্ড ১-২৭, ৩১-৩৯, সিলেট সদর |
সিলেট সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ২৪,৩১ থেকে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং সিলেট সদর উপজেলা |
|
সিলেট-৩ |
সিটি ওয়ার্ড ২৮-৩০, ৪০-৪২; দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ |
সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৫ থেকে ৩০,৪০, ৪১,৪২ নম্বর ওয়ার্ড |
|
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ |
সরাইল, আশুগঞ্জ |
সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার বুধস্তি, চান্দুয়া ও হরষপুর ইউনিয়ন |
|
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ |
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর |
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এবং বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুর, চম্পানগর, পত্তন, দক্ষিণ সিংগারবিল, বিষ্ণপুর, চর ইসলামপুর ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন |
|
কুমিল্লা-১ |
দাউদকান্দি, তিতাস |
দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা |
|
কুমিল্লা-২ |
হোমনা, মেঘনা |
হোমনা ও তিতাস উপজেলা |
|
কুমিল্লা-১০ |
সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট |
নাংগলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা |
|
কুমিল্লা-১১ |
চৌদ্দগ্রাম |
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা |
|
নোয়াখালী-১ |
চাটখীল উপজেলা, বারগাঁও, নাটেশ্বর, অম্বরনগর ও বজরা ইউপি ছাড়া সোনাইমুড়িী উপজেলার বাকি ইউপি |
চাটখিল উপজেলা এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ, নদনা, চাষীরহাট, বজরা, সোনাপুর, দেওটি ও আমিশাপাড়া ইউনিয়ন এবং সোনাইমুড়ী পৌরসভা |
|
নোয়াখালী-২ |
সেনবাগ উপজেলা; সোনাইমুড়ীর বারগাঁও, নাটেশ্বর, অম্বরনগর ও বজরা ইউপি |
সেনবাগ উপজেলা; সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও, নাটেশ্বর ও অম্বর নগর |
|
নোয়াখালী-৪ |
সুবর্ণচর ও নোয়াখালী সদর |
সুবর্ণচর উপজেলা এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার চরমটুয়া, দাদপুর, নোয়ান্নই, কাদিরহানিফ, বিনোদপুর, নোয়াখালী, ধর্মপুর, এওজবালিয়া, কালাদরাগ, পূর্ব চরমটুয়া ও আন্ডারচর ইউনিয়ন, নোয়াখালী পৌরসভা |
|
নোয়াখালী-৫ |
কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট |
কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার আশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়ন |
|
চট্টগ্রাম-৭ |
রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউপি |
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা |
|
চট্টগ্রাম-৮ |
শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউপি ছাড়া বোয়ালখালী উপজেলার বাকি ইউপি |
বোয়ালখালী উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩ থেকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড |
|
সব মিলিয়ে ৩৯টি আসনে পরিবর্তন |
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি এ সীমানায় ভোট হয়েছিল |
দাবি আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে সীমানা চূড়ান্ত করবে ইসি, গেজেটের পর ওই সীমানায় ভোট হবে |
এবার সীমানা পুনঃনির্ধারণে যে একডজন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে-
>> পার্বত্য এলাকার তিন জেলার তিনটি আসন অপরিবর্তনীয় রাখা হয়েছে।
>> দুই আসন বিশিষ্ট জেলার আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, কারণ ভোটার/জনসংখ্যার অনুপাতে আসন বৃদ্ধি করলে জেলাভিত্তিক ভোটারের জাতীয় গড়ের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায়। আবার দুটি আসনকে একটি আসন করলে ভোটার সংখ্যা গড়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়।
>> তিন আসন বিশিষ্ট জেলার আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, কারণ আসন হ্রাস/বৃদ্ধি করা হলে ভোটার/জনসংখ্যার অনুপাতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে।
>> যেসব আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের জন্য কোনো আবেদন দাখিল হয়নি, সে আসনগুলো অপরিবর্তীত রাখা হয়েছে।
>> প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উপজেলা/থানা ইউনিটকে যতদূর সম্ভব অখণ্ড রাখা হয়েছে।
>> জেলার মধ্যকার আসনের ভোটার সংখ্যা সবোর্চ্চ ৩০ শতাংশ ব্যবধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
>> যতদূর সম্ভব প্রশাসনিক ও নির্বাচনি সুব্যবস্থার বিষয় বিবেচনায় রেখে উপজেলা, সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডের অখণ্ডতা বজায় রাখা হয়েছে।
>> ইউনিয়ন, সিটি কপোরেশনের ওয়ার্ড ও পৌরসভার একাধিক সংসদীয় আসনের মধ্যে বিভাজন না করার চেষ্টা হয়েছে।
>> সিটি করপোরেশন এলাকার জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা, প্রশাসনিক পরিধি বিবেচনায় নির্বাচনি এলাকা পুনঃবিন্যাস করা হয়েছে।
>> সীমানা পুনঃনির্ধারণকালে সংশ্লিষ্ট জনগণের সেবা বিষয়ক সুবিধা/অসুবিধার বিষয় যতদূর সম্ভব বিবেচনা করা হয়েছে।
>> ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য (যেমন নদীর অবস্থান) ও যোগাযোগ ব্যবস্থার (যেমন রাস্তাঘাট) মত সুবিধা ও অসুবিধা যতদূর সম্ভব বিবেচনা করা হয়েছে।
>> যেসব প্রশাসনিক এলাকা নতুন সৃষ্টি হয়েছে বা সম্প্রসারণ হয়েছে বা বিলুপ্ত হয়েছে তা অন্তর্ভুক্ত/কর্তন করা এবং পরিবর্তিত নাম সংশোধন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আমরা ৬৪ জেলার গড় ভোটার নির্ধারণ করেছি ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০। এটা ধরে একটি আসন বাড়ালে তা গাজীপুরে হবে। এ গড়ের কম বাগেরহাটে একটি কমালে সমতা চলে আসে। বাকিগুলোয় আসন কমবেশি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
“দুই জেলার আসনই এফেক্টেড হয়েছে। আর কোথাও ঝামেলা নেই। ৩৯টি আসনে অ্যাডজাস্টমেন্ট রয়েছে।”
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর এবার সীমানা নির্ধারণে বিশেষায়িত কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন। এরপর সব দিক বিবেচনা করে খসড়া প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেছেন, যেহেতু কারিগরি লোকদের এখানে কাজে লাগানো হয়েছে, তারা নিশ্চয় সবকিছু নিখুঁতভাবে করেছেন। সীমানা নির্ধারণ করতে বড় বিষয়-ভোটার সংখ্যার সমতা দরকার হয়।
“এক্ষেত্রে ইসি মোটামুটিভাবে অ্যাড্রেস করার চেষ্টা করেছে। খুব বেশি ভ্যারিয়েশন নাই। দুটি জেলায় বেড়েছে-কমেছে। গাজীপুরে ভোটার ও জনসংখ্যা দুই বেশি। দুই জেলাতেই ভোটার সংখ্যার সমতা দেখা হয়েছে। ওভারঅল এই পুনর্নির্ধারণ সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত।”
এ নির্বাচন বিশ্লেষকের বলেন, “সবশেষ জনশুমারি নিয়ে প্রশ্ন আছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায়, ভৌগলিক পরিবেশে আন্তর্জাতিক মান পরিপালন করা সম্ভব না। তবে যেহেতু কারিগরি কমিটির মাধ্যমেই এটা হল, আশা করি ভবিষ্যতে এটি আরও নিখুঁত হবে।”
পুরনো খবর...
বাগেরহাটে আসন কমানোয় ক্ষোভ, আগের সীমানা বহালের দাবি
৩৯ আসনের সীমানায় পরিবর্তন: গাজীপুরে বেড়েছে, বাগেরহাটে কমেছে