Published : 05 Aug 2025, 06:35 PM
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনে জাতির সামনে জুলাই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন শেষে গণভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এর নির্মাণকাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গণভবন এলাকায় প্রবেশ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, গণপূর্ত সচিব আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং জাদুঘর বাস্তবায়ন কমিটির অন্য সদস্যরা তার সঙ্গে ছিলেন।

নির্মাণাধীন এলাকায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী, স্থপতি ও কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
দোর্দণ্ড প্রতাপে দেড় দশকের বেশি সময় দেশ শাসন করা শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবন বহন করছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আর জনরোষের চিহ্ন। দেয়ালে দেয়ালে লেখা ‘হাসু আপা পালাইছে’, ‘কই গেলি হাসিনা’, ‘শাপলা চত্বরের বিচার চাই’, ‘কিলার হাসিনা- এমন সব প্রতিবাদের স্লোগান। সেই গণভবনে তৈরি হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’, যা গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, সংগ্রাম, শহীদ ও বিজয়ের দলিলরূপে গড়ে তোলা হচ্ছে।

গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ১৫ জুলাই পূর্তকাজের অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের আগেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের অনেক কাজ এগিয়ে নেয় সরকার। ইতোমধ্যে সেখানে বিভিন্ন স্মৃতি সংরক্ষণও করা হয়েছে।
গণভবনের অবস্থান জাতীয় সংসদের উত্তর কোণে; শেরেবাংলা নগরে। সেখানে বসবাসকারী একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সরকারপ্রধান হিসেবে এখানেই ছিলেন তিনি।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হলে ২০১০ সালে পরিবারসহ গণভবনে ওঠেন শেখ হাসিনা। সেই থেকে ৫ অগাস্ট দেশ ছাড়ার আগ পর্যন্ত সেটিই ছিল তার ঠিকানা।