Published : 01 Dec 2025, 05:36 PM
মেট্রোরেলের স্থায়ী কার্ড রিচার্জ করতে আর স্টেশনে যেতে হবে না। ঘরে বসেই কার্ডে টাকা ভরা যাবে।
আর সেটা করতে ব্যবহার করা যাবে- ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব ধরনের অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যম।
সেবাটির বিষয়ে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, “এটি চালুর ফলে স্টেশনে লাইন ধরে স্থায়ী কার্ড রিচার্জ করতে হবে না। যাত্রীদের সময় বেঁচে যাবে, ভোগান্তি কমবে।”
যেভাবে রিচার্জ করা যাবে
প্রথমবার অনলাইন রিচার্জ করার জন্য ওয়েবসাইট https://rapidpass.com.bd নিবন্ধন করতে হবে।
এরপর অনলাইন রিচার্জের ক্ষেত্রে র্যাপিড পাস কার্ডটি ইতিমধ্যে নিবন্ধন করা না থাকলে, নিবন্ধন করতে হবে।
যে কোনো একটি পেমেন্টের মাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইনে কার্ড রিচার্জ করতে হবে।
অনলাইনে রিচার্জ করার পর ‘এভিএম’য়ে কার্ড স্পর্শ করার আগ পর্যন্ত তা (রিচার্জ) অপেক্ষমাণ (পেন্ডিং) দেখাবে।
টাকা রিচার্জ করার পর গ্রাহককে তার স্থায়ী কার্ডটি একবার অন্তত স্টেশনে থাকা বিশেষ যন্ত্রে স্পর্শ করিয়ে হালনাগাদ করে নিতে হবে, যা ‘অ্যাড ভ্যালু মেশিন’ (এভিএম) নামে পরিচিত।
অনলাইনে টাকা রিচার্জ করার পর একবার এই যন্ত্রে স্পর্শ করিয়ে নিলে টাকা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর স্পর্শ করতে হবে না।
পুনরায় টাকা রিচার্জ করার পর আবার স্পর্শ করাতে হবে।

অনলাইন রিচার্জের পর কার্ডটি এভিএম মেশিনে স্পর্শ করে রিচার্জ করা ব্যালেন্স যুক্ত হয়েছে কি-না, তা নিশ্চিত হতে হবে।
রিচার্জ সফল হলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস দেওয়া হবে।
একটি কার্ডে একবারে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা, সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করা যাবে।
এছাড়া একবারে শুধু একটি পেন্ডিং অনলাইন রিচার্জ থাকতে পারবে। আগের রিচার্জ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন অনলাইন রিচার্জ করা যাবে না।
কার্ড যদি ব্ল্যাকলিস্টেড, রিফান্ডেড বা অবৈধ হয়, তাহলে রিচার্জ করা যাবে না।
ব্যবহারকারী তার রিচার্জ হিস্ট্রি অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে দেখতে পারবেন।
ব্যবহারকারী চাইলে কার্ড এভিএম মেশিনে স্পর্শ করার আগে সাত দিনের মধ্যে রিচার্জ বাতিলের জন্য অনুরোধ করতে পারবেন। রিচার্জ বাতিলের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ কাটা হবে।
কার্ড ব্ল্যাকলিস্ট-সংক্রান্ত কারণে পেন্ডিং ট্রানজেকশনের ক্ষেত্রেও গ্রাহক রিফান্ড রিকোয়েস্ট করতে পারবেন। এক্ষেত্রেও ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ কাটা হবে।
বর্তমানে মেট্রোরেলে দুই ধরনের স্থায়ী কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে— র্যাপিড এবং এমআরটি পাস। নতুন ব্যবস্থায় দুই ধরনের কার্ডই অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইচ্ছে মতো রিচার্জ করা যাবে।
ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তাদের নিজস্ব স্থায়ী কার্ডের নাম এমআরটি পাস।
অন্যদিকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সরবরাহ করা স্থায়ী কার্ডের নাম র্যাপিড পাস। এটি মেট্রোরেল ছাড়াও বাস, ট্রেনসহ অন্যান্য গণপরিবহনে ব্যবহার করার কথা।
স্থায়ী কার্ডের লেনদেন নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র নিকাশ ঘর (ক্লিয়ারিং হাউস) ডিটিসিএর অধীন। ঘরে বসে র্যাপিড এবং এমআরটি পাস রিচার্জ করার কাজে সহায়তা করছে ‘ডেটাসফট’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন
এটিএম কার্ড ব্যবহারে মিলছে পানি