Published : 11 Jun 2026, 01:31 AM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ নতুন মোড় নিচ্ছে। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের খারাপ ফল নিয়ে অসন্তোষ এবং দলে ভাঙনের পর দলটির এক সময়ের কংগ্রেসি নেতাদের পুরনো ঘরে ফেরার (ঘর ওয়াপসি) জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল আগেই নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়েছে। লোকসভাতেও তৃণমূলের সংসদীয় দল হাতছাড়া হয়েছে তার।
মমতা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক করতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে থাকার মধ্যেই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এনডিএ জোটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় স্পিকারকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও দিল্লিতেই। মঙ্গলবার ভারতের বিরোধীদল কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন মমতা।
বুধবার সকালে আবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে যান অভিষেক। ইন্ডিয়া জোটে সমন্বয় শক্তিশালী করার চেষ্টার মধ্যেই বুধবার নেতাদের এই বৈঠক হয়।
দেড় ঘণ্টার সেই বৈঠক ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে, মমতা-অভিষেক কি তাহলে তাদের পক্ষে থাকা তৃণমূলকে নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেবেন?
১৯৯৭ সালে যে কংগ্রেসের হাত ছেড়ে মমতা বন্দোপাধ্যায় নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) গড়েছিলেন, শেষমেশ সেই কংগ্রেসেই কি ফিরছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী?
এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সেই সম্ভাবনার পাশে এখনও এই প্রশ্নবোধক চিহ্নই রাখছেন।
রাজনীতিতে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। গণমাধ্যমগুলোতে তৃণমূলের কংগ্রেসে বিলীন হয়ে যাওয়া নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠার পেছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে চলমান সংকটের মধ্যেও মমতার দিল্লিতে অবস্থান করার অস্বাভাবিক ঘটনাপ্রবাহ।
পশ্চিমবঙ্গে যখন তৃণমূলের বিধায়কদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিদ্রোহ চলমান এবং স্থানীয় নেতা ও কাউন্সিলররা আক্রান্ত হচ্ছেন, ঠিক তখনই রাজ্য ছেড়ে মমতার
দিল্লিতে অবস্থান করাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংকট বাংলায় হলেও তিনি দিল্লিতে কেন, তা নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে।
মমতা এবং তার ভাতিজা এবং তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলগুলোর 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠক করেছেন।
ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ২৯টি এবং রাজ্যসভায় ১২টি আসন নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি-বিরোধী জোটের তৃতীয় বৃহত্তম দল হওয়ার পরও, তৃণমূল এতদিন কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বধীন এনডিএ জোটকে আক্রমণ করেছে নিজস্ব কৌশলে।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক খুব খুব একটা ভাল ছিল না। গত কয়েক বছর এমনও অবস্থা ছিল যে, ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেসের নেতৃত্বই মানতে অস্বীকার করছিল তৃণমূল।
এমনকি কলকাতায় বসে কুণাল ঘোষের মতো নেতারা বলেছিলেন, কংগ্রেসের ‘বিগ ব্রাদার অ্যাটিচিউড’ ছাড়তে হবে। তাহলে এখন কেন তাদের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠতা- সেটি নিয়ে নতুন জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার মুখোমুখি বৈঠক হয়, যা কয়েক বছরের মধ্যে প্রথম। বৈঠকের বিষয়বস্তু ছিল "তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এবং জোটের রাজনীতি"।
বুধবার কংগ্রেসের মূল চালিকাশক্তি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর, এদিনই আবার সোনিয়ার সঙ্গে মমতার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
মমতা টানা ১৫ বছর বা দেড় দশক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং তার দল তৃণমূল সেখানে একচ্ছত্র শাসন উপভোগ করেছে।
তৃণমূল নেতারা দুর্নীতি, জোরজুলুম, নিপীড়ন ও দমনের মাধ্যমে শাসন চালিয়েছিলেন এবং দলটিকে অপরাজেয় মনে হত। আরও মনে হত কোনও ঝড়ই এর ক্ষতি করতে পারবে না।
মমতা বাংলার অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তার শক্তি এতটাই ছিল যে, তিনি তার এমপি’দের জোরে জাতীয় রাজনীতিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের পর সবকিছু বদলে গেল।
যে নেতাকে একসময় অটল এবং যে দলটিকে বাংলায় অপরাজেয় মনে হতো, তারা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ঝড়ে ভেসে গেছে। এটি যেমন মমতার বিরুদ্ধে ভোট ছিল, তেমনি ছিল বিজেপির পক্ষে ভোট।
মমতার এক দশকেরও বেশি সময়ের অপশাসনই তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে নেমে আসে।
‘ইন্ডিয়া টুডে’ টিভির কলকাতা ব্যুরোর সিনিয়র এডিটর ইন্দ্রজিৎ কুণ্ডু মঙ্গলবার এক সম্প্রচারে জানান, এই অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে মমতাকে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিকল্প "পরামর্শ দেওয়া হয়েছে" বলেই তিনি শুনেছেন।
তৃণমূলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে অভিষেকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ততটাই তাৎক্ষণিক ছিল যতটা গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন স্থানীয় নেতারা।
১০০ জনের বেশি তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৬০ জনের বেশি বিধায়ককে নিয়ে মমতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা হয়েছেন।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার ২৮ জন এমপির মধ্যে ২০ জনেরও বেশি এমপির সমর্থন দাবি করে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-জোটকে সমর্থন জানিয়েছেন।
নির্বাচনের ফলের এক মাসের মধ্যে মমতা দলটির একচ্ছত্র অভিভাবক থেকে নিজের গড়া দলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইনি লড়াই শুরু করেছেন।
কিন্তু শিবসেনা এবং এনসিপি-র আগের উদাহরণগুলো দেখে তিনি নিশ্চয়ই জানেন যে, তার জয়ের সম্ভাবনা খুব কম। কারণ বিদ্রোহী শিবিরে বিধায়ক ও সংসদ সদস্যদের যে সংখ্যা রয়েছে, তা দলত্যাগ বিরোধী আইনকে নিষ্ক্রিয় বা বাতিল করে দেবে।
তবে তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ও বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস-তৃণমূলের মিশে যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ৬৪ জন বিদ্রোহী বিধায়ক এবং প্রায় ২০ জন এমপি কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ দেওয়া সমর্থন করবে না। ঋতব্রত বলেন "আমরা তো এখানে তৃণমূল কংগ্রেস। আমরা তো মিশে যাচ্ছি না! আমরা রয়েছি তো তৃণমূল কংগ্রেস”
“আমাদের বিধায়করা এটা করবেন না। ২০ জন এমপি কংগ্রেসে যোগ দেবেন না, তাহলে বিলীন হচ্ছে কে? কংগ্রেসের সঙ্গে এমন একীভূতকরণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।"
এমতাবস্থায়, তিন দশক আগে কংগ্রেস ছেড়ে যে দল মমতা গড়েছিলেন, তা বিদ্রোহীদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মমতার সামনে সেরা বিকল্প কী? অনেকের মতে, কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়াই একমাত্র পথ।
এর মাধ্যমে মমতা জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেন এবং তার ভাতিজা অভিষেকের জন্য একটি সম্মানজনক অবস্থান সুরক্ষিত করতে পারেন, যিনি অন্যথায় দলছুট বা একঘরে হয়ে যেতেন।
তাহলে চিরকালের এই 'স্ট্রিট ফাইটার' কি আসলেই তার দলকে কংগ্রেসে বিলীন করবেন? মমতার লড়াকু মানসিকতা দেখলে এটি অসম্ভব মনে হয়। কিন্তু বর্তমানে তিনি যেভাবে কোণঠাসা, তাতে এটিই তার একমাত্র উপায় হতে পারে।
যদিও কোনও ঘোষণা না আসা পর্যন্ত মমতা তৃণমূলকে কংগ্রেসের সঙ্গে মিলাবেন কিনা সে বিষয়ে কিছুই বলা যাবে না। তবে এই সম্ভাবনার বিষয়টি স্রেফ অনুমানের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে না, এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
৫ জুন ইন্ডিয়া টুডে টিভির সাহিল জোশীর সঙ্গে আলাপকালে শিবসেনা (ইউবিটি) এমপি সঞ্জয় রাউত বিজেপি’র আধিপত্য রুখতে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া সব দলকে আবার মূল দলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, “তৃণমূল, এনসিপি এবং কংগ্রেসের অন্যান্য দলছুট অংশগুলোর উচিত তাদের মূল দলের সঙ্গে একীভূত হওয়া।”
তিনি যুক্তি দেন, একটি শক্তিশালী কংগ্রেস বিরোধী জোটকে আরও ভালোভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবে এবং বিজেপি ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে ছোট আঞ্চলিক দলগুলোকে মুছে দিতে চায়।
বুধবার এই বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলে। প্রবীণ সাংবাদিক প্রভু চাওলা এক্স-এ এক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, “কংগ্রেস কি ডুবন্ত তৃণমূলকে বাঁচাতে 'সেভ তৃণমূল কংগ্রেস' মিশন শুরু করেছে?
“তা না হলে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা সোনিয়া গান্ধী কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মমতা ও অভিষেকের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করার পেছনে নিশ্চয়ই কোনও গল্প তৈরি হচ্ছে। এটি হয় দুই দলের এক হওয়া অথবা দলকে বাঁচাতে অভিষেককে সরে যেতে রাজি করানোর চেষ্টা,” বলেন তিনি।
সাংবাদিক ও লেখক সাবা নকভিও মনে করেন, এই একীভূতকরণ তৃণমূলকে রাজ্যের ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে, যা গণতন্ত্রের ঘাটতি নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
এতে কংগ্রেসও তৃণমূলের বড় ভোটব্যাংক নিজেদের কাছে পাবে। ১০ জুনের এক মতামতধর্মী লেখায় ইন্ডিয়া টুডে টিভির কনসাল্টিং এডিটর প্রবীণ সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাই প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীদের কি ইন্ডিয়া জোট পুনর্গঠনে মনোযোগ দেওয়া উচিত, নাকি কংগ্রেসের শাখা দলগুলোর রাজনৈতিক পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে ভাবা উচিত?
তিনি বলেন, "একটি কারণ আছে যে, কেন এই দলগুলো তাদের নামে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে কংগ্রেসের ছাপ বহন করে চলেছে। এরা কংগ্রেসের গর্ভ থেকেই জন্ম নিয়েছে, আরেকটি ভঙ্গুর বিজেপি-বিরোধী জোট গড়ার চেয়ে কেন এই কংগ্রেসের শাখা দলগুলোর রাজনৈতিক পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে ভাবা হচ্ছে না?"
নয়াদিল্লি ভিত্তিক সাংবাদিক সঞ্জয় সিং দাবি করেছেন, চুক্তি চূড়ান্ত, যে কোনও মুহূর্তে দুই দলের এক হওয়ার ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি জানান, সোনিয়া গান্ধী মমতার সামনে দুটি প্রস্তাব রেখেছেন। তা হল: মমতাকে কংগ্রেসের জাতীয় সহ-সভাপতি করা হবে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হবে।
মমতা এর জন্য সময় চেয়েছেন এবং আলোচনা সারারাত ধরে চলেছে। পরদিন অভিষেক রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করে ঘনিষ্ঠদের জানান বৈঠক "ভালো" হয়েছে, যা ইঙ্গিত করে বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।
সঞ্জয় সিং আরও জানান, অভিষেকও নিজস্ব কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে মমতাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে মল্লিকার্জুন খাড়গের জায়গায় উচ্চকক্ষের বিরোধী দলীয় নেতা (এলওপি) করার বিষয়টি রয়েছে।
তবে অনেক সাংবাদিক কংগ্রেস-তৃণমূল মিশে যাওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন। 'দ্য হিন্দু' পত্রিকা একটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সোনিয়া ও মমতার বৈঠকে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের কৌশল ও জোট রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে যাই হোক, দিল্লিতে মমতার সাম্প্রতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দেয় যে, পর্দার আড়ালে ব্যতিক্রমী কিছু ঘটছে।
এর আগে তিনি ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকগুলোতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ 'সিলেক্টিভ' ছিলেন এবং প্রায়ই অভিষেক বা ডেরেক ও'ব্রায়েনকে পাঠাতেন। ২০২৩ সালের জুনে পাটনার প্রথম বৈঠক তিনি এড়িয়ে যান। তবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বেঙ্গালুরু এবং সেপ্টেম্বরে মুম্বাইয়ের বৈঠকে তিনি ছিলেন।
এবার পশ্চিমবঙ্গে ভরাডুবির পর এবং তৃণমূলের বড় অংশ দল ছাড়ার খবরের মধ্যে ৮ জুন দিল্লির বৈঠকে তিনি সশরীরে যোগ দেন।
সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ কুণ্ডু বলেন, "তুমুল আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মমতাকে এভাবে সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে ছুটে যেতে দেখা যায়নি। নির্বাচনের এই ভরাডুবির প্রেক্ষাপটে এটি পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করে।"
৮ জুন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন মমতা, যিনি নিজে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে আছেন। তবে সোনিয়া এমন একজন মানুষ যার সঙ্গে মমতা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
সোনিয়া নিশ্চয়ই মমতাকে তার প্রয়াত স্বামী রাজীব গান্ধীর একজন বিশ্বস্ত কমান্ডার হিসেবে মনে করেন। কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার দুই দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক ছিল, যা তিনি ১৯৯৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ ইউনিটের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ছিন্ন করেন।
তিনি মনে করেছিলেন, হাইকমান্ড বাংলাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি কার্যকর নয়।
১৯৯৮ সালে তিনি তৃণমূল গঠন করেন এবং ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে পরাজিত করেন। এখন কি বৃত্তটি সম্পূর্ণ হতে চলেছে? যে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে পঙ্গু করে দিয়েছিল, তারা কি আবার মূল জাহাজে নোঙর ফেলবে?
মমতার লড়াকু স্বভাবের কারণে এটি অসম্ভব মনে হলেও, তিনি এখন একটি উভয়সংকট বা 'ক্যাচ-২২' পরিস্থিতিতে আছেন এবং তার সামনে বেশি বিকল্প নেই।
কংগ্রেস-তূণমূল একীভূত হওয়ার জল্পনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস প্রধান শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, “রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। সুতরাং আগামী দিনে যে কোনওকিছুই ঘটতে পারে।”