Published : 11 Jul 2026, 02:14 PM
ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাঙ্গা রেড্ডিতে এক যুবকের বিরুদ্ধে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, যাদের মধ্যে যৌন হয়রানির অভিযোগকারী কিশোরী ও তার মা-নানি রয়েছেন। ওই যুবক তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও মেরে ফেলেছেন।
এনডিটিভি লিখেছে, রাজকুমার শুক্রবার রাতে প্রথমে নিজের বাড়িতে ৩০ বছর বয়সী স্ত্রী পার্বতী সারিতাকে এবং ৪ ও ১ বছর বয়সী দুই ছেলেকে হত্যা করে।
এরপর তিনি ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরীর বাড়িতে যান, যিনি গেল ১৬ মে রাজকুমারের বিরুদ্ধে পকসো আইনে অভিযোগ করেছিল।
রাজকুমার মেয়েটিকে গাড়িতে করে এক নির্জন জায়গায় নিয়ে হত্যা করেছে। ৩৫ বছর বয়সি ওই যুবক কিশোরীর মা (৪৫) ও নানিকে (৬৫) হত্যা করে। তবে কিশোরীর ২০ বছর বয়সি প্রতিবন্ধী বোন ছাড় পান, ঘটনার সময় তিনিও বাড়িতে ছিলেন।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা নিয়ে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা তরুণ জোশি বলেন, “সে তার বাবাকে বলেছে, ‘আমি এই কাজটা করেছি। আমি এই মানুষগুলোকে হত্যা করেছি।’ এরপর সে তার ফোন বন্ধ করে দেয়। সে আরও বলেছে যে, সে আত্মহত্যা করবে; কিন্তু এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
“অভিযুক্ত এখন পলাতক। বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে এবং আমরা কিছু সূত্র পেয়েছি। তাকে খুব শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।”
এনডিটিভি লিখেছে, ২০১৮ সালে রাজকুমার ও পার্বতীর প্রেমের বিয়ে হয়। এ দম্পতি প্রথমে গ্রামের বাইরে থাকতেন, পরে নিজের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
তাদের তিন সন্তানের প্রথমটি ছিল কন্যা, যিনি শৈশবেই মারা যান।
কিশোরীর পিছু নেওয়া এবং যৌন হেনস্তার অভিযোগে গত মে মাসে রাজকুমারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা জোশি বলেন, “অভিযুক্ত মেয়েটিকে তার কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি পর্যন্ত অনুসরণ করত এবং তার প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিত।”
তিনি বলেন, মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর রাজকুমার পলাতক ছিল। পরে তিনি আদালত থেকে আগাম জামিন পান, কারণ যে ধারাগুলোতে মামলা হয়েছিল তার শাস্তি সাত বছরের কম ছিল।
এনডিটিভি লিখেছে, সপ্তাহখানেক আগে ২০ হাজার টাকার মুচলেকায় রাজকুমার আগাম জামিন পান, তারপর এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটান।
জোশি বলেন, রাজকুমারের আগে থেকেই আচরণগত সমস্যা ছিল।
“আমরা তাকে দুই-তিনবার কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকেছিলাম। তার পরিবারের সদস্যরা বলেছেন যে তার মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল না। তার জুয়ার অভ্যাসও ছিল এবং তার অনেক ঋণ ছিল।”
বাড়িতে আসা আত্মীয়রা বলেছেন, শিশুদের ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, তবে যে ঘরে পার্বতীর মরদেহ পাওয়া গেছে সেখানে ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা গেছে।
তারা দাবি করেছেন, দরজাগুলো ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং ফ্যান, এসি ও কুলার চালু ছিল।
পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, ঘটনার আগে কোনো বড় ঝগড়া ছিল না, আগের রাতে পার্বতী আত্মীয়দের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন।
ফরেনসিক দল অপরাধের স্থানগুলো পরীক্ষা করেছে এবং তদন্তকারীরা ঘটনার ক্রম ও উদ্দেশ্য যাচাই করছে।