Published : 11 Jul 2026, 02:57 PM
কৈশোরের ছাপ এখনও স্পষ্ট লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবার্সির চোখেমুখে। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে ফেলেছেন তারা দুজনে। স্পেনের হয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নেমে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে ও আলতাফিনির পাশে নাম লেখালেন তারা।
এছাড়া, টানা দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করেছেন মিকেল মেরিনো। প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি।
স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচে হওয়া রেকর্ডগুলো তুলে ধরা হলো-
২
দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠল স্পেন। প্রথমবার ২০১০ সালে, সেবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা প্রথমবার সেমি-ফাইনালে ওঠার আগে চারবার কোয়ার্টার-ফাইনালে বাদ পড়েছিল। পরে যেই দুই আসরে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলেছে নিশ্চিত করেছে সেমি-ফাইনাল।
৯
২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের কাছে হারের পর নকআউট পর্বে আর কখনও হারেনি স্পেন। ৯ ম্যাচে জয় ৭টি ও বাকি দুটি ড্র। ২০১৮ সালে রাশিয়া ও ২০২২ সালে মরক্কোর বিপক্ষে শেষ ষোলোয় টাইব্রেকারে হারে স্প্যানিশরা। পেনাল্টি শুটআউটে ফলাফল নির্ধারিত হওয়া ম্যাচগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ড্র হিসেবে ধরা হয়।
৩৬
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন। এ সময়ে ২৭ জয়ের বিপরীতে করেছে ৯ ড্র। এর আগে ২০০৭-০৯ এবং ২০১৮-২১ পর্যন্ত দুই দফায় ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত ছিল দলটি।
১
বিশ্বকাপ ইতিহাসে নক আউট পর্বে বদলি নেমে একাধিক ম্যাচে জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার মিকেল মেরিনো। এছাড়া শেষ ৬০ বছরে নক আউট পর্বে ৮৭ মিনিটের পর দুইটি জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলারও তিনি।
২
আলভারো মোরাতা ও ফের্নান্দো মরিন্তেসের পর তৃতীয় স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে দুইটি গোল করেছেন মেরিনো।
১২
সবধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে টানা ১২ ম্যাচে কোনো জয় পায়নি বেলজিয়াম। সবশেষ ছয় ম্যাচেই হেরেছে তারা।
২
দ্বিতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার-ফাইনালে অনূর্ধ্ব-২০ বছর বয়সী দুইজন ফুটবলারকে খেলিয়েছে (লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবার্সি) স্পেন। এর আগে ১৯৫৮ সালে ওয়েলসের বিপক্ষে শেষ আটের লড়াইয়ে ব্রাজিলের হয়ে খেলেছিলেন পেলে ও আলতাফিনি।
৬
১৮ বা তার চেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৬ ম্যাচ খেলেছেন লামিন ইয়ামাল।
৭
আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ৭ম গোল করেছেন ফাবিয়া রুইস।
৬৪৯
২০২২ আসরে গ্রুপ পর্বে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের পর বিশ্বকাপে প্রথমবার কোনো গোল হজম করল স্পেন। বেলজিয়ামের শার্লে ডি কেটলারের গোলে থামে স্পেনের টানা ৬৪৯ মিনিট গোল হজম না করার রেকর্ড।
এর আগে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় গোল হজম না করার রেকর্ড ছিল ৫১৭ মিনিটের। ইতালির ওয়াল্টার জেঙ্গা ৫১৭ মিনিট কোনো গোল হজম করেনি। তার ওই রেকর্ড থামে আর্জেন্টিনার ক্লাউদিয়ো কানিজিয়া গোলে।
৩
বেলজিয়ামের হয়ে নকআউট পর্বে রোমেলু লুকাকুর সমান তিন গোল করেছেন ডি কেটলারে। দেশটির হয়ে নকআউট পর্বে (তৃতীয়-স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাদে) যৌথভাবে এটাই সর্বোচ্চ গোল।
০ ও ৮
ম্যাচে শার্লে ডি কেটলারের গোলের পর আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বেলজিয়াম। বিপরীতে ওই গোলের পর স্পেন ৮ টি সুযোগ তৈরি করেছিল।
১১
এবারের আসরের এখন পর্যন্ত ১১ গোল করেছে স্পেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে সমান সংখ্যক গোল করেছিল দলটি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের যে কোনো আসরে এটাই স্পেনের সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের আসরে করেছিল ৮ গোল।
৬
প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগে প্রতি ৯০ মিনিটে ৬.৩৩ বার বলের দখল পুনরুদ্ধার করেছে স্পেন। শেষ ৬০ বছরে যে কোনো দলের ক্ষেত্রে এই হার ষষ্ঠ সর্বোচ্চ।
২০২৬ বিশ্বকাপে অন্তত ২০০ মিনিট খেলা ফুটবলারদের মধ্যে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগ থেকে বল পুনরুদ্ধারের তালিকায় সেরা তিনজনের মধ্যে আছেন পেদ্রি ও লামিন ইয়ামাল। শীর্ষে থাকা পেদ্রি প্রতি ৯০ মিনিটে ১.৮৯ বার বল পুনরুদ্ধার করেছেন। আর ১.৭৮ বার এই কাজ করে তৃতীয় স্থানে ইয়ামাল
২ এবং ৩
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দুই ও তিন নম্বর দল স্পেন ও ফ্রান্স সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ১৯৯৪ সালের পর, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারের দুই দল পঞ্চমবারের মতো সেমি-ফাইনালে খেলবে। ১৯৯৪ সালের পর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চার দল সেমি-ফাইনালে একসঙ্গে খেলেনি। কোয়ার্টার-ফাইনালে নিজ নিজ ম্যাচ ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা জিতলে, এবার সেটা দেখা যাবে।