Published : 25 Nov 2025, 05:17 PM
বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ই-পারিবারিক আদালতের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ই-পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা, ঘরে বসে সেবা গ্রহণ, অনলাইন শিডিউলিংয়ের মতো নানান সুবিধা মিলবে।
২৪ নভেম্বর এ সেবা উদ্বোধন করা হয়।
ই-পারিবারিক আদালত পোর্টাল চালু হওয়াতে এখন পারিবারিক মামলা দায়ের, নথি জমা এবং শুনানি সবকিছু অনলাইনে করা যাবে। এখন আর কোর্ট–কাছারিতে শুধু হাজিরা দেওয়ার জন্য যাওয়ার প্রয়োজন নেই। অনলাইনেই হাজিরা দেওয়া যাবে।
মামলার প্রতি তারিখ খুদে বার্তা ও ই–মেইলের মাধ্যমে জানতে পারবেন মামলার সংশ্লিষ্ট সবাই। আদালতের কর্মচারীদেরও এখন থেকে আর একই কাজ বারবার করতে হবে না।
কোর্টের রেজিস্ট্রারসহ নথি বিভাজন সবই হবে কম্পিউটারে ক্লিকের মাধ্যমে।
এই পোর্টালটি আইন ও বিচার বিভাগ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে, যা পারিবারিক বিবাদের সমাধানকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সহজলভ্য করে তুলবে।
এই পোর্টালে বর্তমানে পাঁচটি প্রধান বিষয়ে মামলা গ্রহণ করা হয়- বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, মোহরানা, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।
এগুলো পারিবারিক আইনের সবচেয়ে সাধারণ বিবাদ, যা এখন অনলাইনে সমাধানের পথে।
কারা ব্যবহার করবেন
এই পোর্টালটি বাদী, বিবাদী, আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা (সেরেস্তাদার, বেঞ্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট), বিচারক এবং সাধারণ জনগণ সবাই ব্যবহার করতে পারেন।
আইনজীবীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা আছে, যেখানে বার কাউন্সিল সার্টিফিকেট, ওকালতনামা এবং অন্যান্য নথি আপলোড করতে হয়।
ই-কোর্টের ফলে আইনজীবীদেরও প্রতিদিন কোর্টে হাজিরা দেওয়ার ঝামেলা কমবে। যে কোনো স্থান থেকেই তারা অনলাইন হাজিরা দিতে পারবেন।
এছাড়া অনলাইন ও অফলাইনে শুনানির বিষয়টি বিবেচনায় আছে। নিজস্ব পোর্টালে আইনজীবীর পরিচালিত সব নথি থাকবে একসঙ্গে। ফলে ব্যবস্থাপনা হবে সহজ।
এদিকে যেকোনো জায়গা থেকে লগইন করে নথির কাজ যেকোনো সময়ে খসড়া করে রাখতে পারবেন আইনজীবীরা।
আদালত সহায়ক কর্মচারীদের কাজও সহজ করবে ই-কোর্ট ব্যবস্থা।
ই-কোর্টের ফলে নথি জমা দেওয়া, কপি তোলা ও বারবার একই তথ্য প্রস্তুতের কাজ কমবে। কোর্টের তারিখ ও নথি যাচাই, সবই হবে সিস্টেম-জেনারেটেড।
ফলে প্রশাসনিক অদক্ষতা কমে আসবে; সময় বাঁচবে এবং কাজ হবে দ্রুত।
যেভাবে ব্যবহার করবেন: রেজিস্ট্রেশন থেকে লগইন
https://efamilycourt.judiciary.gov.bd/ পোর্টালটি ব্যবহার করতে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। ইউজার ম্যানুয়াল অনুসারে, ধাপগুলো সহজ:
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘রেজিস্টার’ বাটনে ক্লিক করুন।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ, পুরো নাম (বাংলা ও ইংরেজিতে), মোবাইল নম্বর (১১ ডিজিট) এবং ইমেইল প্রদান করুন।
একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করুন— কমপক্ষে ৮ অক্ষর, বড়-ছোট হরফ, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন-সহ।
ক্যাপচা যাচাই করে শর্তাবলীতে সম্মতি দিন।
ইমেইল বা মোবাইলে ওটিপি যাচাই করে অ্যাকাউন্ট অ্যাকটিভ করুন।
লগইনের জন্য ইমেইল বা মোবাইল নম্বর, পাসওয়ার্ড এবং ক্যাপচা প্রয়োজন। যদি সমস্যা হয়, পাসওয়ার্ড রিসেট অপশন আছে।
অনলাইন ফাইলিং থেকে ট্র্যাকিং
পোর্টালের প্রধান ফিচারগুলোর মধ্যে আছে-
মূল আদালত প্রক্রিয়া পরিচালনা।
ব্যক্তিগত মামলা ট্র্যাকিং।
আইনজীবী পোর্টাল— যেখানে আইনজীবীরা ক্লায়েন্টের মামলা দেখতে পারেন।
পাবলিক ভিউয়িং— সাধারণ জনগণের জন্য মামলার তথ্য এবং কোর্ট ক্যালেন্ডার।
কোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
বিচারকদের ড্যাশবোর্ড।
অনলাইন ফাইলিং— ইলেকট্রনিক নথি জমা।
মামলা ম্যানেজমেন্ট— সম্পূর্ণ মামলা পরিচালনা।
উদাহরণস্বরূপ, একটি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করতে বাদীকে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে নথি আপলোড করতে হয়।
তারপর বিচারক ড্যাশবোর্ড থেকে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এতে কাগজের ঝামেলা এবং বার বার যাওয়ার খরচ কমে যায়।
আরও পড়ুন
কত টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন একজন ব্যক্তি?
ঘরে বসে জমির পর্চা সংগ্রহ করবেন যেভাবে