Published : 16 Dec 2024, 01:24 PM
দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের অভিশংসনের জন্য বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দেশটির পার্লামেন্ট সামরিক আইন জারিকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেওয়ার পর ইউনকে তার দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
৩ ডিসেম্বর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ইউন হঠাৎ করেই সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। এতে সবাই হতবাক হয়ে পড়েন। জনতা রাস্তায় নেমে এসে ইউনের পদত্যাগ দাবি করতে থাকে।
দেশের জনগণ ও আইনপ্রণেতাদের প্রবল বিরোধিতার মুখে ঘোষণার ছয় ঘণ্টা পর সামরিক আইন জারির আদেশ বাতিল করেন ইউন। কিন্তু ততক্ষণে দক্ষিণ কোরিয়া কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়ে যায়। বিরোধীদল নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে ইউনের অভিশংসন প্রস্তাবের প্রথম ভোটাভুটি ব্যর্থ হওয়ার পর গত শনিবার দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় আইনপ্রণেতারা তাকে অভিশংসিত করার পক্ষে ভোট দেন।
ইউন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন কি না, পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন সাংবিধানিক আদালত। সোমবার থেকে এই পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হলো।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার এক প্রেসিডেন্টের দুইবার অভিশংসনের বিচারিক প্রক্রিয়ায় মুখোমুখি হওয়ার উদাহরণ আছে। এর একটিতে আদালত পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের বিপরীত রায় দিলেও আরেকটিতে আইনসভার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আর তাতে ওই সময়ের প্রেসিডেন্ট পার্ক গুয়েন হাইকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাংবিধানিক আদালতে নয়জন বিচারক থাকার কথা থাকলেও সম্প্রতি তিনজন অবসর নেওয়ায় বর্তমানে আছেন মাত্র ছয়জন। নতুন করে তিনজন বিচারকের নিয়োগের কথা থাকলেও এখনও তা হয়নি। এটি ইউনের বিচারকে জটিল করে তুলতে পারে।
রয়টার্স জানায়, আদালতের ছয় বিচারকের সবাই অভিশংসন নিয়ে প্রথম বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
বিচারপতি কিম হিউং-ডিউ জানিয়েছেন, বিচারের প্রক্রিয়া এবং কীভাবে যুক্তিতর্ক পরিচালিত হবে তা নিয়ে আলোচনা করবে সাংবিধানিক আদালত।
ইউনের ক্ষেত্রে আদালত যদি অভিশংসনের পক্ষেই রায় দেন তাহলে ক্ষমতা হারাবেন তিনি। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়াকে অবশ্যই ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। আর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হান দক সু এই অন্তবর্র্তী সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন।
আরও পড়ুন :
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত