Published : 01 Jul 2025, 12:00 AM
গাজার পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্র সৈকতে একটি জনপ্রিয় ক্যাফেতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
অধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও স্থানীয় মানুষজন ক্যাফেটিতে যাওয়া-আসা করে।
গাজার হামাস পরিচালিত নাগরিক সুরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র সোমবার বিবিসি-কে বলেন, আল-বাকা ক্যাফেটেরিয়া থেকে উদ্ধারকর্মীরা ২০টি লাশ এবং আরও বেশ কয়েকজন আহতকে সরিয়ে নিয়ে গেছে।
সমুদ্রতীরে তাঁবু খাটিয়ে ওই ক্যাফে চালানো হয়ে আসছিল। বিস্ফোরণে মাটিতে বড় গর্ত হয়েছে এবং সেখানে উদ্ধারকর্মীরা আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় একটি প্রোডাকশন কোম্পানির ক্যামেরাম্যান আজিজ আল আফিফি বিবিসি-কে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে দৌড়ে গেছি। আমার সহকর্মীরা সেখানে ছিল। তাদের সঙ্গে আমি প্রতিদিনই দেখা করি। সেখানকার দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিল লাশ, রক্ত আর মানুষজন চীৎকার করছিল।”
স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র এলাকাটিতে আঘাত হানতে দেখা গেছে। হামলার পরের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় মাটিতে মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
সাংবাদিক, অধিকারকর্মী ও দূরবর্তী কাজ যারা করেন তাদের কাছে গাজার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত ওই ক্যাফে খুবই সুপরিচিত। ক্যাফেটিতে ইন্টারনেট ছিল, বসে থাকা এবং কাজ করারও সুবিধা ছিল।
ক্যাফেতে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।
এই হামলার আগে গাজার বিভিন্ন স্থানে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এর ফলে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার বাড়ি ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের অতর্কিত হামলায় ১ হাজারের বেশি ইসরায়েলি নিহত হওয়ার পর থেকেই গাজায় নির্বিচারে হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
মাঝে দুই বার স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি হলেও এ বছরের মার্চে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে ফের গাজায় পূর্ণশক্তি নিয়ে হামলা শুরু করে ইসরায়েল।