Published : 16 Aug 2025, 06:08 PM
মঙ্গল গ্রহগামী রকেটের বেশ কয়েকটি ব্যর্থ উৎক্ষেপণের পর স্টারশিপ রকেটের কাঠামো বা ডিজাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে স্পেসএক্স। সম্প্রতি রকেটটির নতুন ডিজাইন উন্মোচন করেছে মহাকাশ গবেষণা কোম্পানিটি।
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স বুধবার বলেছে, নিজেদের সুপার হেভি বুস্টার রকেটের নিচে থাকা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘ফিন’ সরিয়ে দেবে তারা, যেটি রকেটটিকে পৃথিবীতে ফেরত আনতে বা নামার সময় দিক নির্দেশনা দিতে সাহায্য করত।
আগামী প্রজন্মের এ নতুন ডিজাইনের রকেটে আগের তুলনায় বড় ও মজবুত তিনটি বিশেষ ধরনের গ্রিড ফিন লাগানো হবে, যা রকেটটিকে পৃথিবীতে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ করতে আরও ভালোভাবে সাহায্য করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
সর্বশেষ মে মাসে মঙ্গল গ্রহগামী রকেটটি উৎক্ষেপণের চেষ্টা করেছিল স্পেসএক্স। সেই সময়ে রকেটের বিশাল সুপার হেভি বুস্টারটি লঞ্চপ্যাডে ঠিকভাবে নামতে পারেনি, বরং মেক্সিকো উপসাগরে গিয়ে ভেঙে পড়েছিল। তবে মূল রকেটটি ভারত মহাসাগর পার হতে পারলেও এরপরই বিস্ফোরিত হয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্টে স্পেসএক্স বলেছে, “নতুনভাবে তৈরি এসব গ্রিড ফিন আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ বড় ও আরও শক্তিশালী। আগে চারটি ফিন ছিল, এখন রকেটটিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি ফিন ব্যবহার করা হবে। এতে বুস্টার রকেট আরও বেশি কাত হয়ে নামতে পারবে।
“নতুন ডিজাইনের এসব ফিন কেবল রকেট নিয়ন্ত্রণেই না, বরং রকেটকে ওপরে তুলতে ও নামার সময় ধরতে সাহায্য করবে। এজন্য ফিনের নতুন জায়গায় ধরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এগুলোকে নিচের দিকে সরিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে, রকেট যখন ফিরবে বা নেমে আসে তখন টাওয়ারের যন্ত্র যাকে ক্যাচ-আর্ম বলা হচ্ছে তা রকেটটিকে ঠিকভাবে ধরে ফেলতে পারে।”
স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ কোম্পানিটির পোস্টটি শেয়ার করে লিখেছেন, “সেরা বিষয় হচ্ছে, রকেটটির এমন কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে, যে অংশটি বাদ দিলে রকেট আরও ভালো কাজ করবে।”
স্টারশিপ রকেটটি আবার শিগগিরই উৎক্ষেপিত হতে যাচ্ছে। ফলে টেক্সাসের দক্ষিণে স্পেসএক্সের স্টারবেইস এলাকার আশপাশের মানুষদের সতর্ক করেছে মার্কিন কোস্ট গার্ড।
এ মাসের শুরুতে এক এক্স পোস্টে মাস্ক লিখেছিলেন, ‘অগাস্টের মাঝামাঝি সময়ে স্টারশিপ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে’ স্পেসএক্স।
কোম্পানিটি সাধারণত খুব আগে থেকে ঘোষণা দেয় না যে, কখন রকেটের পরীক্ষা চালাবে তারা। বেশিরভাগক্ষেত্রে উৎক্ষেপণের খুব কাছাকাছি সময়ে জানানো হয়।
সর্বশেষ মার্কিন কোস্ট গার্ডের সমুদ্র সংক্রান্ত সতর্কবার্তায় দেখা গিয়েছে, শনিবার ১৬ অগাস্টে রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা চালাতে পারে স্পেসএক্স। ওই দিন স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে রাত সাড়ে আটটার মধ্যে রকেট উৎক্ষেপণ হতে পারে।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, রকেট উৎক্ষেপণের কারণে নৌপথে ঝুঁকি থাকতে পারে, যেমন উৎক্ষেপণের ধ্বংসাবশেষ বা রকেটের বিভিন্ন অংশ ভূপৃষ্ঠে পড়তে পারে।
সর্বশেষ এ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণটিকে ‘ফ্লাইট ১০’ বলা হচ্ছে, যা মানুষকে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার মাস্কের স্বপ্ন পূরণের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষা।
এর আগে, মাস্ক বলেছিলেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় রকেটটির মঙ্গল গ্রহে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।
মার্চে এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন এ প্রযুক্তি ধনকুবের বলেছিলেন, স্টারশিপ আগামী বছরের শেষের দিকে মঙ্গলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে এবং এর সঙ্গে থাকবে টেসলার হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপটিমাস’।
“রকেট উৎক্ষেপণ সফল হলে মানুষের মঙ্গলে যাওয়ার যাত্রা সম্ভবত ২০২৯ সালেই শুরু হতে পারে। তবে, ২০৩১ সাল হয়ত বেশি বাস্তবসম্মত সময়।”