Published : 25 Jun 2026, 06:21 PM
স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম হু হু করে কমে যাওয়ায় ট্রিলিয়নেয়ারের মুকুট হারালেন ইলন মাস্ক। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও এআই বুদবুদ ফেটে যাওয়ার শঙ্কায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে তার সম্পদ এখন নেমে এসেছে বিলিয়নেয়ারের ঘরে।
বুধবার বাজার বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাস্ক আর লক্ষ কোটি পতি রইলেন না। যুক্তরাষ্ট্রেরপূর্বঞ্চলীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফোর্বসের তালিকায় মাস্কের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৯৭ হাজার ২০ কোটি ডলার।
গার্ডিয়ান লিখেছে, ১২ জুন স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক আইপিও’র পর মাস্ক ট্রিলিয়নেয়ারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। রকেট, স্যাটেলাইট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক এ কোম্পানির শেয়ার বাজারে অভিষেক মাস্ককে পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হওয়ার গৌরব এনে দিয়েছিল।
আইপিও’র পরবর্তী সপ্তাহগুলোতেও তার সম্পদের পাহাড় এই বিশাল অংকের আশপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। তবে এ সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধসের কারণে শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের দাম পড়ে যায়, যা মাস্কের সম্পত্তিতে বড় আঘাত হেনেছে।
ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে– বিনিয়োগকারীদের এমন উদ্বেগ ও এআই বুদবুদ ফেটে যাওয়ার শঙ্কা বাজারকে ওলটপালট করে দিয়েছে।
যেসব কোম্পানির মূল্যায়ন এআই জোয়ারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল সেসব কোম্পানিতে এ ধসের আঘাত সবচেয়ে বড় আকারে লেগেছে। এর মধ্যে রয়েছে গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট ও স্যামসাংয়ের মতো চিপ নির্মাতা কোম্পানি।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এ আইপিও যেমন একঝটকায় মাস্কের সম্পদকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে তেমনই তার বিপুল সম্পত্তিকে বেঁধে ফেলেছে শেয়ারবাজারের সঙ্গেও।
রেকর্ড গড়া এ আইপিও থেকে স্পেসএক্স তুলে নেয় সাড়ে সাত হাজার কোটি ডলার এবং শেয়ারবাজারে আসার কেবল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর শেয়ারের দাম প্রাথমিক মূল্য ছিল ১৩৫ ডলার।
বুধবার ১৯ শতাংশ বেড়ে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ারেরবাজারমূল্য ছিল ১৫৪.৩৫ ডলার।
মাস্কের সম্পদের সিংহভাগই বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও ইকুইটিতে বিনিয়োগ করা, যা চাইলেই দ্রুত নগদ অর্থে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। এরপরও তার এ সম্পত্তির উত্থান এক নজিরবিহীন ঘটনা, যা কেবল এর বিশালত্বের কারণেই নয়, বরং যে বিস্ময়কর গতিতে সম্পদ বেড়েছে তার জন্যও।
বাজারের এ ওঠানামার মানে, নিকট ভবিষ্যতে টেসলা বা স্পেসএক্সে শেয়ারের দাম যদি আবারও ঘুরে দাঁড়ায় তবে মাস্কের পক্ষে পুনরায় ট্রিলিয়নেয়ারের খেতাব ফিরে পাওয়া একেবারেই অসম্ভব নয়।
ট্রিলিয়নেয়ারের মুকুট হারালেও মাস্ক এখনও অনায়াসেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। ফোর্বসের হিসাব অনুসারে, তার পরবর্তী অবস্থানে থাকা বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী হলেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, যার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে ল্যারি পেজের মোট যে সম্পত্তি, মাস্ক কেবল এ বছরেই তার চেয়ে বেশি অর্থ আয় করেছেন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মাস্কের মোট সম্পদ বেড়েছে আরও ৩৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।