Published : 26 Jul 2026, 10:20 AM
মেটার তৈরি স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে অন্যদের অজান্তে ভিডিও ধারণ ও হেনস্তামূলক কনটেন্ট তৈরির দায়ে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকাউন্ট বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে কোম্পানিটি।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, ইনস্টাগ্রামের মালিকানা যেহেতু মেটার হাতে ফলে এ পদক্ষেপের মাধ্যমে বহু অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি এখন মেটার স্মার্টচশমা ব্যবহার করে মানুষের অনুমতি ছাড়াই গোপনে ভিডিও রেকর্ড করছেন এমন পরিচিত এক বাস্তবতাকেই মেনে নিল কোম্পানিটি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্টে ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি বলেছেন, “আপনি যদি মানুষকে বিব্রত করে বা হেনস্তা করে কোনো কনটেন্ট প্রকাশ করেন, যেমন বিভিন্ন ‘পিকআপ লাইন’ ধাঁচের যেসব ভিডিও আমরা ইদানীং দেখছি তবে আমরা সেসব কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে দেব।
“আমরা কোনোভাবেই চাই না, মানুষ গোপনে অন্যদের ভিডিও ধারণ করে তাদের হেনস্তা করুক এবং সেই ফুটেজ আমাদের প্ল্যাটফর্মে আপলোড হোক।”
ইনস্টাগ্রামের সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে এমন কনটেন্ট এখন অনেকটাই পরিচিত। অনেক উদ্ধত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সেবা খাতের কর্মীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের ‘প্র্যাঙ্ক’ বা কৌতুক করছেন এবং মেটা গ্লাস বা সমমানের প্রযুক্তি দিয়ে পুরো বিষয়টি গোপনে রেকর্ড করছেন, যার অধিকাংশই হেনস্তার পর্যায়ে পড়ে।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে মেটা গ্লাস দিয়ে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে পুরুষ নির্মাতারা জনসমক্ষে নারীদের সঙ্গে নিজেদের আলাপ গোপনে রেকর্ড করেছেন।
এসব ভিডিওতে আসা নারীরা টেরও পান না যে তারা ক্যামেরাবন্দী হচ্ছেন। এমন আচরণের কারণে মেটার এসব চশমা এরইমধ্যে ‘পারভার্ট গ্লাস’ বা ‘প্রিডেটর গ্লাস’-এর মতো নেতিবাচক তকমা কুড়িয়েছে, যা কোনো পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বাজারের সার্বিক সাফল্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি।
মেটার এ নতুন নীতিমালার আওতায় ঠিক কত ভিডিও এখন পর্যন্ত মুছে ফেলা হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও মেলেনি।
মার্কিন ব্যবসায়িক সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার প্রতিবেদনে লিখেছে, অনুমতি ছাড়া গোপনে নারীদের ভিডিও ধারণ করে তা প্রচার করত এমন দুটি প্রভাবশালী অ্যাকাউন্ট এরইমধ্যেই ডিঅ্যাক্টিভেট করেছে মেটা।
কোম্পানিটি নিশ্চিত করেছে যে, মেটা স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে হেনস্তামূলক কনটেন্ট তৈরির কারণেই অ্যাকাউন্ট দুটিকে তারা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
স্মার্ট চশমার সুবাদে তৈরি হওয়া এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপজ্জনক আচরণ ঠেকাতে এটাই মেটার একমাত্র পদক্ষেপ নয়। সম্প্রতি তারা চশমাটিতে নতুন একটি সফটওয়্যার যোগ করেছে, যা ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সময় জ্বলে ওঠা ছোট এলইডি আলোটি বিকল বা ঢেকে দেওয়া হলে সম্পূর্ণ ক্যামেরা সিস্টেমটিকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেবে।
স্মার্টচশমা দিয়ে গোপনে ভিডিও বানাতে অনেকেই টেপ মেড়ে, কালচে ফিল্ম লাগিয়ে বা ছোট ছিদ্র করে নির্দেশক ওই আলোটি ঢেকে রাখার কৌশল প্রয়োগ করছিলেন।
গ্রাহকদের এ প্রবণতাকে কেন্দ্র করে চশমাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে বা ‘জেইলব্রেক’ করে ওই নির্দিষ্ট আলোটি ছাড়াই গোপনে ভিডিও করার ব্যবসাও গড়ে উঠেছিল।
মেটার সাম্প্রতিক সফটওয়্যার আপডেটের পর অপকর্মের এ প্রবণতা কতটা কমেছে তা বোঝার জন্য আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন।
এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেটা গ্লাসের এ এলইডি আলোটি এমনিতেও খুব একটা স্পষ্ট নয়, বিশেষ করে দিনের আলোতে বা খোলা আকাশের নিচে ভিডিও করা হলে আলোটি খেয়াল করা বেশ কঠিন।
এরপরও নিজেদের তৈরি প্রযুক্তির কারণে তৈরি হওয়া এ সামাজিক সমস্যা সমাধানে মেটা যে শেষপর্যন্ত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে তা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।