Published : 27 Jul 2026, 01:06 AM
পাখির পাশাপাশি শাহজালাল বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামায় এখন ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ড্রোন। দেশের প্রধান বিমানবন্দরের আশপাশে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোন নিয়ন্ত্রণের যে ব্যবস্থা বহাল ছিল সেটি এখন ‘চীনা ড্রোনের’ দাপটে অকার্যকর হয়ে যাওয়ার কথা বলছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা। এতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
ড্রোনের উড়াল বন্ধের ব্যবস্থা কাজ না করায় সংবাদ সংগ্রহ কিংবা কনটেন্ট তৈরির জন্য সংবাদকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের ড্রোন প্রায়ই উড়ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের আকাশে। যারা ড্রোন ওড়াচ্ছেন তারা উড়োজাহাজ ওঠানামার সময়ের আগপাছ বিবেচনা করছেন না। এতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির কথা বলছেন বিমানবন্দর পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা।
এক বছর আগে ঘটে যাওয়া মাইলস্টোন ট্রাজেডির তদন্ত প্রতিবেদনেও যুদ্ধবিমান বিধস্ত হয়ে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার অনুঘটক হিসেবে পাখি বা উড়ন্ত কোনো বস্তুর বিষয়ে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশমালায় বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন ওড়ানো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে।
বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গত সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, “ড্রোন এখন বিশ্বব্যাপী একটা উপদ্রব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা ইরান কিংবা ইউক্রেইনে ড্রোনের ভয়াবহ ব্যবহার দেখতে পাচ্ছি। কাজেই এর বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।”
শুধু ঢাকায় নয়, অন্যান্য দেশেও বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরগুলোর আশপাশেও ড্রোনকে নতুন উৎপাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে তিন হাজারের বেশি ড্রোন সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালে সেখানে সংঘর্ষ এড়াতে ১১টি উড়োজাহাজকে দিক পরিবর্তন (বা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ) করতে হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ড্রোন ওড়ানো নিয়ে বিভিন্ন দেশে নতুন আইন হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকারগুলো। বাংলাদেশের বিমানবন্দর এলাকাগুলোতেও ড্রোন না ওড়ানোর বিষয়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাম্প্রতিক সময়ে যখন তখন ড্রোন ওড়ানোর ঘটনা ঘটছে।
ফেইসবুকে ‘সাদা পায়রা–প্রকৃতি প্রেমিক’ নামে একটি পেইজ থেকে গত ১৫ জুলাই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের অবতরণের তিনটি ভিডিও আপলোড করা হয়। বিমানবন্দরের পেছনে বাউনিয়া এলাকা থেকে ড্রোন উড়িয়ে সেগুলো ধারণ করা হয়েছিল বলে বোঝা যায়।

একই দিনে বিমানবন্দরের সামনের দিকে থার্ড টার্মিনাল ভবনের ওপর দিয়ে ড্রোন উড়িয়ে বিমানবন্দরের দৃশ্য দেখানো হয় ওই পেইজে।
বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যখন আগুন লাগে, তখন সেখানে ড্রোন উড়তে দেখা যায়। কয়েকটি সংবাদভিত্তিক টিভি স্টেশন সেগুলো ওড়াচ্ছিল বলে পরে জানা যায়।
তবে বিমানবন্দরের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনেই ড্রোন ওড়ানোর কাণ্ডটি ঘটেছিল গত ১৯ ডিসেম্বর। সেদিন গুলিতে আহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্সে করে শাহজালাল বিমানবন্দরে আনা হয়েছিল।
সেদিন সরকারের অন্তত তিনজন উপদেষ্টা ও বেবিচকের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ড্রোন উড়িয়ে ওই দৃশ্য ধারণ ও লাইভ করছিল দেশের কয়েকটি টেলিভিশন স্টেশন।
বিমানবন্দর এলাকায় বর্তমানে ড্রোন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার বিষয়ে সোমবার বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহ্বুব খান বলেন, “আমাদের এখানে ড্রোনের একটা লকিং সিস্টেম করা আছে। আমাদের যে মেকানিজম আছে সেটা একটা স্ট্যান্ডার্ড মেকানিজম। এখন অনেক চীনের তৈরি ড্রোন আছে যেগুলো ওই মেকানিজমকে ভাঙতে পারে, এটা এক ধরনের হ্যাকিং।
“আমরা এই ধরনের পরিস্থিতি দেখে যে আইনটা আছে সেটা সবাইকে জানানোর ব্যবস্থা করেছি। এখন অ্যাক্টিভ মেজারে যাচ্ছি। আমাদের কেনাকাটার পরিকল্পনায় একটা কঠিন ‘অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম’ কেনার প্ল্যান করছি। অন্তত প্রথমে ঢাকা বিমানবন্দরে।”
ওসমান হাদীর মরদেহ দেশের আসার দিনে ড্রোন ওড়ানোর বিষয়ে বেবিচকের সদস্য এয়ার কমোডর মেহ্বুব খান বলেন, “ওই সময় আমরা সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম যে ওইসময় বিমানবন্দরে লাইভ ছিল। যদি কোনো উড়োজাহাজের সঙ্গে লাগতো তাহলে ছোট্ট একটা কারণে তিন থেকে চারশ লোকের জীবনহানির কারণ ঘটতে পারতো।
“আমরা তখন সব সংবাদমাধ্যমকে বার্তা দিয়ে জানিয়েছিলাম যে ড্রোন ওড়ানো বেআইনি। কিন্তু টিভি চ্যানেলগুলোতে ওই বার্তা নিচে স্ক্রল হিসেবে চালানো হচ্ছিল আর স্ক্রিনে সেই ড্রোন ফুটেজ দেখানো হচ্ছিল।”
বিশ্বের অন্যান্য বিমানবন্দরে ড্রোন ওড়ানোর বন্ধে বন্দুকধারী নিয়োগ দেওয়া ছাড়াও জ্যামার বা এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশে কী করা হবে এ প্রশ্নের জবাবে মেহ্বুব খান বলেন, “একটা ড্রোনের দাম এখন খুব বেশি না। একটা গুলি করে ফেলে দিলে আবার হয়তো আরেকটা কিনে আনবে।”
বিমানবন্দরে ১৯ ডিসেম্বর ড্রোন কাণ্ডের পর ২৩ ডিসেম্বর সবাইকে অবহিত করতে একটি চিঠি দেয় বেবিচক।
ওই চিঠিতে বলা হয়, “ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা- ২০২০ অনুযায়ী বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও গত ১৯ ডিসেম্বর শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ বিমানবন্দরে গ্রহণ করার সময় তিনজন উপদেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে কিছু ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিনা অনুমতিতে বিমানবন্দরে ড্রোন উড্ডয়ন করে ছবি ধারণ করে। এ ধরনের উড্ডয়ন বিমান চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করে।
বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্রতিনিধি ও সর্বসাধারণকে ড্রোন উড্ডয়ন না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।”

মাইলস্টোন তদন্ত কমিটির সুপারিশ
উত্তরার দিয়াবাড়ীতে গত বছরের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আছড়ে পড়ে ৩৬ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই শিশু শিক্ষার্থী।
ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার ঘটনা তদন্তে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক সচিব এ কে এম জাফর উল্লা খানকে প্রধান করে নয় সদস্যের একটি কমিশন গঠন করে। এটির তদন্ত প্রতিবেদনে বিমান বাহিনীর নিজস্ব তদন্তের কিছু অংশ যুক্ত করা হয়।
বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে সরকারি কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, “মাইলস্টোন স্কুলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও থেকে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানের উইন্ডশিল্ডে একটি ‘কালো দাগ’ দেখা যায়। এই কালো দাগ পাখি বা উড্ডীয়মান কোনো বস্তুর আঘাতে হতে পারে।
“এই আঘাত পরিহার করার জন্যই হয়ত পাইলট তৎক্ষণাৎ কন্ট্রোল স্টিকটি টেনে বিমানের গতিপথ পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন। যার ফলে হঠাৎ ব্যাংকিং অ্যাঙ্গেল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এ থেকে ধারণা করা যায় যে, উক্ত ঘটনায় পারিপার্শ্বিক নিয়ামকেরও ভূমিকা থাকতে পারে।”
তদন্ত কমিটির সুপারিশমালায় বলা হয়েছে, “হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী আকাশসীমায় পাখি, ড্রোন, বা অনুরূপ যেকোন বস্তু বা অন্য কোন কার্যকলাপ, যা বিমানের উড্ডয়ন নিরাপত্তার জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, সে বিষয়ে বেবিচকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অতিসত্ত্বর কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে যেন কোনভাবেই পরিবেশগত কারণে এরকম দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি না হতে পারে সে ব্যাপারে সবসময়ের জন্য এই আকাশসীমাকে নিরাপদ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে।
“বাংলাদেশের বিদ্যমান সকল বিমানবন্দরের নিকটবর্তী আকাশসীমার ক্ষেত্রে উপরিউক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করতে হবে।”
ড্রোন নিয়ে উদ্বেগ দেশে দেশে
২০১৯ সালের এপ্রিলে ড্রোনের ঝুঁকি তুলে ধরে তা নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ জানিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি সংসদীয় কমিটির কাছে অনুরোধ করে ব্রিটিশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশন (বিএএলপিএ)। পাইলটদের ওই সংগঠন ড্রোন কোম্পানিগুলোকে এমন ব্যক্তিদের কাছে ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ দিতে বলা হয়, যেগুলোর যথাযথ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স আছে।
সেখানে বলা হয়, ড্রোনের অনুপযুক্ত ব্যবহার জনসাধারণের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, বিশেষ করে যারা উড়োজাহাজে (যাত্রী ও ক্রু) থাকা ব্যক্তিদের। ড্রোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকিও ক্রমাগত বাড়ছে।

বিএএলপিএ, ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট এবং মিলিটারি এভিয়েশন অথরিটির একটি যৌথ গবেষণায় বিমানের উইন্ডস্ক্রিন এবং হেলিকপ্টারের টেইল রোটরের সঙ্গে ড্রোনের সংঘর্ষের বিপদগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ড্রোনের শক্ত এবং ঘন উপাদানের কারণে এটি একটি পাখির সঙ্গে সমতুল্য সংঘর্ষের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। বর্তমান বিধান এবং সার্টিফিকেশন অনুযায়ী, ইঞ্জিন প্রস্তুতকারকদের উচ্চ শক্তিতে (হাই থ্রাস্ট) চালিত ইঞ্জিনের মধ্য দিয়ে একটি পাখিকে ছুঁড়ে দিয়ে পাখির আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা প্রদর্শন করতে হয়, তবে ড্রোন পরীক্ষার জন্য এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যতক্ষণ না ইঞ্জিনের ভেতর ড্রোন ঢুকে যাওয়ার ব্যাপারে একটি বিস্তৃত পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিপর্যয়কর ক্ষতির সম্ভাবনা মূলত অজানা থেকে যায়।
ব্রিটিশ পাইলটদের ইউনিয়নটি বলছে, “ইঞ্জিনের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি হল সামগ্রিক ঝুঁকির একটি অংশ মাত্র। ককপিটে ড্রোন ঢুকে পড়া এবং পাইলটকে শারীরিকভাবে অক্ষম করে দেওয়ার মতো আঘাতের কারণ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই বাস্তব। এর পরিণতি হতে পারে বিপর্যয়কর।”
রয়টার্সের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “মার্কিন কর্মকর্তারা একটি সেনেট কমিটিকে জানিয়েছেন, ২০২১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোর কাছাকাছি তিন হাজারের বেশি ড্রোন সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ২০২৫ সালে ১১টি উড়োজাহাজ সংঘর্ষ এড়াতে দিক পরিবর্তন (বা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ) করতে বাধ্য হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের কাউন্টার-ড্রোন কর্মকর্তা স্টিভেন উইলোবির বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোনের ওই ঘটনাগুলো কখনো কখনো বড় বিমানবন্দরগুলোর কাছাকাছি ফ্লাইটে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বিলম্ব ঘটিয়েছে। তিনি সেনেট জুডিশিয়ারি কমিটিকে আরও জানান, চলতি বছর ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে জরুরি অবস্থার সময় ‘ক্রিটিকাল রেসপন্স অপারেশনের’ কাজে নিয়োজিত উড়োজাহাজের সঙ্গে ড্রোনের সংঘর্ষের দুটি ঘটনা ঘটেছে।
‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমানবন্দরগুলোর আশেপাশে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজগুলোর জন্য ড্রোন ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি করছে’- গত বছরের এপ্রিলে এপি এমন একটি প্রতিবেদন করে।
এতে বলা হয়, ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ এলাকায় একটা ‘জিওফেন্সিং ফিচার’ দিয়ে আসছিল। এটির কারণে ড্রোন অপারেটর চাইলেই সংরক্ষিত এলাকায় ড্রোন ওড়াতে পারতেন না। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যা তুলে নেয় শীর্ষস্থানীয় ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডিজেআই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এর পরিবর্তে ড্রোন চালকরা সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ এলাকার কাছাকাছি গেলে তাদের সতর্ক করার ব্যবস্থা চালু করে ডিজেআই।
ডিজেআই এর গ্লোবাল পলিসি বিষয়ক প্রধান অ্যাডাম ওয়েলশের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, “সাময়িকভাবে জিওফেন্সিং নিষ্ক্রিয় করার জন্য অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের অনুরোধগুলো সামলানো ক্রমশ একটি সময়সাপেক্ষ কাজ হয়ে উঠছিল। ২০২৫ সালে এ ধরনের ১০ লাখেরও বেশি অনুরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছিল।
“আমাদের সার্বক্ষণিক সেবা চালু ছিল, কিন্তু যে হারে আবেদন আসছিল তা সামলানো সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ছিল। কারণ, এগুলোর প্রত্যেকটি আলাদাভাবে পর্যালোচনা করতে হতো।"
তিনি বলেন, অন্য কোনো ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিওফেন্সিং সুবিধা না রাখায় এবং এটি ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায়, ডিজেআই ব্যবস্থাটি পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।