১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তিন বছর এইচ-১বি ভিসা বন্ধের বিল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে

এই বিলে এইচ-১বি ভিসার আবেদনের জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১ লাখ ডলার ভিসা ফি বিধিবদ্ধ করার করারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তিন বছর এইচ-১বি ভিসা বন্ধের বিল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে
এইচ-১বি ভিসা আবেদন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2026, 12:55 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় ভিসা এইচ-১বি বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

অন্তত তিন বছরের জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি বন্ধ রাখার বিল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটে পেশ করেছেন মন্টানার রিপাবলিকান সেনেটর টিম শিহি।

এই বিলে এইচ-১বি ভিসার আবেদনের জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১ লাখ ডলার ভিসা ফি-ও বিধিবদ্ধ করার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

'এন্ড এইচ-১বি অ্যাবিউজ অ্যাক্ট' শীর্ষক এই বিল পেশের পক্ষে সেনেটরদের যুক্তি হল, এইচ-১বি কর্মসূচি তৈরি হয়েছিল শুধুমাত্র সেই সব ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে । 

কিন্তু বাস্তবে বহু সংস্থা তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।

মন্টানার রিপাবলিকান টিম শিহি-র কথায়, "এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি কখনোই যোগ্য ও পরিশ্রমী মার্কিনিদের সরিয়ে সস্তা বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য তৈরি হয়নি । নতুন আইন করে সেই অপব্যবহার বন্ধ করা হবে ৷ মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সর্বাগ্রে রাখা হবে ।"

 প্রস্তাবিত বিলে বড় পরিবর্তনগুলো হল, আগামী তিন বছরের জন্য কোনও নতুন এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হবে না । এই সময়ের মধ্যে গোটা কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করা হবে । 

পরে আবার ভিসা চালু হলেও তা বর্তমান নিয়মে নয়, বরং অনেক বেশি বিধিনিষেধ এবং কঠোর মানদণ্ড মেনে দেওয়া হবে ।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে গতবছর সেপ্টেম্বরে প্রতিটি এইচ-১বি ভিসার আবেদনের জন্য  ১ লাখ মার্কিন ডলার ফি ধার্য করেছিল । 

কিন্তু ফেডারেল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে জানিয়েছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন ফি আরোপ করা যায় না । আদালতের সেই সিদ্ধান্তের মাসখানেক পেরোনোর পর নতুন বিলটি সেনেটে পেশ হল।

এই বিলে সেই বিপুল অঙ্কের ফি-কেই আইনের মাধ্যমে স্থায়ী করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে । এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ কয়েক গুণ বাড়বে । ফলে বহু সংস্থা এইচ-১বি ভিসায় কর্মী নিয়োগে নিরুৎসাহিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে এইচ-১বি ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে আবেদনকারী বেছে নেওয়া হয় । নতুন বিলে সেই ব্যবস্থা বাতিল করে বেতনভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে ।

পাশাপাশি একাধিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করা, তৃতীয় পক্ষের স্টাফিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের মতো প্রচলিত ব্যবস্থাও বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে ।

আরও একটি প্রস্তাব হল 'ডুয়াল ইনটেন্ট' সুবিধা তুলে দেওয়া । বর্তমানে এইচ-১বি ভিসাধারীরা অস্থায়ী কর্মভিসায় থাকলেও একইসঙ্গে স্থায়ী বাসিন্দার (গ্রিন কার্ড) জন্য আবেদন করতে পারে । 

নতুন বিল আইনে পরিণত হলে সে সুযোগও বন্ধ হতে পারে । কেবল তাই নয়, এই শ্রেণির ভিসাধারীরা যাতে তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নিতে না পারেন, সে ব্যবস্থা করারও প্রস্তাব রয়েছে ।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বিলে। অপশনাল প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি)-এর মতো কর্মসূচি বাতিল করে বিদেশি ছাত্রছাত্রী এবং নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে । 

তাছাড়া, মার্কিন ফেডারেল সরকারি সংস্থাগুলোকে অ-অভিবাসী ভিসাধারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও বলা হয়েছে ।

এই বিলকে সমর্থন জানিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রজেক্ট এবং ফেডারেশন ফর আমেরিকান ইমিগ্রেশন রিফর্ম।

তারা বলছে, দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে এবং এখন সময় এসেছে  একে সম্পূর্ণ নতুন কাঠামোয় রূপ দেওয়ার।

বিলটি কার্যকর হতে গেলে প্রথমে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট এবং তারপর নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন লাগবে। এরপর লাগবে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর। 

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।