Published : 27 Jul 2026, 01:00 AM
দেশের ১১ জন ক্যান্সার জয়ীকে সম্মাননা দিয়েছে ‘সেন্টার ফর ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশন’ (সিসিসিএফ) নামের একটি সংগঠন।
ক্যান্সারে আক্রান্তদের অনুপ্রেরণা জোগাতে এবং সমাজে ক্যান্সার সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সম্মাননা দিয়েছে তারা।
রোববার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ১১ জনের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘ক্যান্সার সার্ভাইভার সম্মাননা -২০২৬’।
এ তালিকায় আছেন— মারুফী খান, সেলিনা আহমেদ, মো. আবদুল গফফার, ফরিদা ইয়াসমিন, কাজী সুফিয়া আখতার, সিফাত আরেফিন প্রতীক, মনিরা ফারজানা আফরোজ তানিয়া, রায়না মাহমুদ, কানিজ হায়দার, কাজী সুফিয়া আখতার ও ফারজানা আলী লাবনী। এছাড়াও ক্যান্সার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোয় সাংবাদিক জান্নাতুন ফেরদৌস মানুকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অনকোলজি ক্লাব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এম. এ হাই, নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হালিদা হানুম আক্তার ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লিয়াকত আলীও বক্তব্য রাখেন।
এম. এ হাই বলেন, "অনেক সময় চিকিৎসকরা আশা ছেড়ে দিলেও কিছু রোগী বিস্ময়করভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন। যদিও এই সংখ্যা তুলনামূলক কম, তবে এক্ষেত্রে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
তিনি আরও বলেন, "দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী অর্থের অভাবে ক্যান্সারের দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা শেষ করতে পারে না, অনেকেই মাঝপথে চিকিৎসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। সমাজের এই দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া রোগীদের প্রতি আমাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে এবং তাদের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
হালিদা হানুম আক্তার বলেন, "ক্যান্সার জয়ীদের অটল আশা ও প্রবল ইচ্ছাশক্তিই আজ তাদের এই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে। ক্যান্সারের লড়াইটা শুধু রোগীর একার নয়; বরং পরিবার, চিকিৎসক এবং নার্স— সবার সম্মিলিত এক দীর্ঘ যাত্রা। আমি তাদের 'সার্ভাইভার' বা বেঁচে ফেরা মানুষ বলতে চাই না, আমি তাদের 'বিজয়ী' বলতে চাই। জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে ক্যান্সারের মতো রোগের মোকাবিলা করা সত্যিই এক বিরাট ব্যাপার।”
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করাটাকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “ক্যান্সারের চিকিৎসায় অনেক সময় সব সম্বল হারাতে হয়, তবুও সবসময় রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। তাই ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
“আজ আপনারা যারা সম্মাননা পেলেন, আপনারা শুধু ক্যান্সার বিজয়ী নন, সমাজের সবার জন্য আপনারা আশার এক উজ্জ্বল প্রতীক।"
সিসিসিএফের প্রশংসা করে লিয়াকত আলী বলেন, "ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এমন সংগঠিত উদ্যোগ অন্য কোথাও নেই বললেই চলে।
“তবে সরকার যতক্ষণ না বৃহত্তর পরিসরে এ দায়িত্ব গ্রহণ করছে, ততক্ষণ ব্যাপক সংখ্যক মানুষের উপকারে আসা কঠিন। তাই সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে আমাদের এই সামাজিক কাজের সমন্বয় ঘটাতে হবে।"
সিসিসিএফ একটি স্বেচ্ছাসেবামূলক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ক্যান্সারাক্রান্ত, ক্যান্সারে স্বজন হারানো পরিবারের সদস্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এতে যুক্ত আছেন।
সিসিসিএফ ২০২৩ সালের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করে। সংগঠনটি ক্যান্সারাক্রান্তদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা দেওয়ার মতো নানা কাজ করে থাকে। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট পদে আছেন রোকশানা আফরোজ।