Published : 26 Jul 2026, 11:54 AM
মহাকাশে গ্রহ ও উপগ্রহের প্রচলিত সংজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এক অদ্ভুত ও রহস্যময় বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যাকে নির্দিষ্ট কোনো নামে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘সিডি-৩৫ ২৭২২’ নামের খামখেয়ালি ও অদ্ভুত এক তারামণ্ডলে সন্ধান পাওয়া এ মহাজাগতিক বস্তুটি আমাদের সৌরজগতের বাইরের প্রথম ‘উপগ্রহ’ বা চাঁদ হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
তাদের মতে, বস্তুটি আমাদের পরিচিত যে কোনো মহাজাগতিক বস্তুর চেয়ে এতটাই আলাদা যে, একে ঠিক কী নামে ডাকা উচিত তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ আর দশটা সাধারণ উপগ্রহের মতো এটা কোনো গ্রহকে আবর্তন করছে না।
এ গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য অ্যালিস জুরলো বলেছেন, “আমাদের সৌরজগতে সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের মধ্যে খুব স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ফলে চাঁদ বা উপগ্রহের মতো বস্তু সংজ্ঞায়িত করা সেখানে সহজ।
“তবে ‘সিডি-৩৫ ২৭২২’ সিস্টেমে তারা, গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যকার সূক্ষ্ম বিভিন্ন সীমান্তরেখা একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে। ফলে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করা জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সৌরজগতের বিভিন্ন উপগ্রহের মতো এ বস্তু কোনো গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে না, বরং তা প্রদক্ষিণ করছে ‘ব্রাউন ডোয়ার্ফ’কে, যা নিজে আবার ওই প্রধান তারাকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
ইউরোপীয় সাউদার্ন অবজারভেটরির ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ বা ভিএলটি ব্যবহার করে অচেনা এ মহাজাগতিক বস্তুটি আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। আপাতত এ অদ্ভুত বস্তুটিকে ‘এক্সোস্যাটেলাইট’ নামে ডাকছেন বিজ্ঞানীরা।
এ গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক কেভিন হোয় বলেছেন, “এক্সোস্যাটেলাইটটি আকারের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ এক গ্রহের সমান ভারী। তবে তা সরাসরি কোনো তারাকে কেন্দ্র করে ঘুরছে না, বরং এমন এক বস্তুকে প্রদক্ষিণ করছে যা নিজেই একটি তারার চারপাশে ঘুরছে।
“এ ত্রিভুজাকার সম্পর্কের কারণেই একে ‘চাঁদ’ বা উপগ্রহ বলতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। তবে বস্তুটি আমাদের সৌরজগতের ছোট, পাথুরে বিভিন্ন উপগ্রহের মতো একদমই নয়।”
কয়েক বছর ধরেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বাইরে ভিন্ন কোনো তারামণ্ডলে ‘উপগ্রহ’ বা চাঁদের সন্ধান পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি ‘এক্সোপ্ল্যানেটের’ উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেলেও কোনো উপগ্রহের অস্তিত্ব শতভাগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।
সেই অচলাবস্থায় বড় এক পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে এ নতুন আবিষ্কার। সংকেতটি চিহ্নিত করতে বিজ্ঞানীরা মূল ‘ব্রাউন ডোয়ার্ফ’-এর সূক্ষ্ম কম্পন পর্যবেক্ষণ করেছেন, যা একে প্রদক্ষিণ করা ওই অচেনা বস্তুটির অভিকর্ষজ টানের কারণেই তৈরি হচ্ছে।
গবেষক অ্যালিস জুরলো এ আবিষ্কারকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে বলেছেন, “অদ্ভুত ও বিরল বৈশিষ্ট্য থাকার পরও সিস্টেমটি সত্যিই অনন্য এবং এমন কিছু ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করছে, যেখানে এটা সম্ভবত কোনো এক্সোস্যাটেলাইটের প্রথম গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য উপস্থিতি।”
বিজ্ঞানীরা বলছেন, অন্যান্য তারামণ্ডলে থাকা উপগ্রহের সন্ধান মিললে মহাবিশ্বে এগুলোর উপস্থিতি কতটা স্বাভাবিক, কীভাবে এদের তৈরি এবং অন্যান্য উপগ্রহের সঙ্গে এদের কাঠামোগত মিল কতটুকু? তা বুঝতে বড় ধরনের সহায়তা মিলবে।
ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে মহাবিশ্বের এমন আরও অনেক অজানা উপগ্রহের সন্ধান মিলবে বলে আশা করছেন তারা।
‘প্ল্যানেটারি-মাস এক্সোস্যাটেলাইট ডিটেক্টেড অ্যারাউন্ড আ স্টারস সাবস্টেলার কম্প্যানিয়ন’ শিরোনামে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ।