Published : 25 Jun 2026, 12:04 PM
দাড়ি রাখলে মুখ বেশি নোংরা হয় বা জীবাণু ছড়ায়– এমন ধারণা সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।
‘ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন’-এর ভ্যাকসিন ইমিউনোলজি বিষয়ের অধ্যাপক জন ট্রেগোনিং বলেছেন, ক্লিন-শেভড বা দাড়িহীন মুখের চেয়ে দাড়িওয়ালা মুখ বেশি নোংরা এমন ধারণা গত কয়েক দশক ধরেই রয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মতে, ক্লিন-শেভড বা দাড়িহীন মুখের চেয়ে দাড়িওয়ালা মুখকে ঢালাওভাবে অপরিচ্ছন্ন ভাবার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখলে দাড়ি থাকা বা না-থাকা স্বাস্থ্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
গবেষণাতেও উঠে এসেছে, মানুষ দাড়িওয়ালা পুরুষদের কম স্বাস্থ্যসচেতন বা অপরিচ্ছন্ন ভাবেন এবং রেস্তোরাঁর গ্রাহকেরা দাড়ি থাকা ওয়েইটারদের বেশি নোংরা বলে রেটিং দিয়েছেন।
তবে বিজ্ঞান এ ধারণাকে সমর্থন করে না।
এ বিষয়ের ওপর হওয়া শুরুর দিকের অন্যতম গবেষণাটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশ পেয়েছিল, সেখানে কৃত্রিম উপায়ে পুরুষদের ত্বকে ব্যাকটেরিয়া স্প্রে করার পর কার মুখ থেকে কতটা ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়, তা পরীক্ষা করা হয়েছিল।
গবেষকরা দাড়ি থাকা ও দাড়ি না থাকা উভয় ধরনের ধোয়া ও না-ধোয়া মুখমণ্ডলের মধ্যে তুলনা করেছিলেন। সবচেয়ে নোংরা কম্বিনেশন বা মিশ্রণটি কিন্তু দাড়ির সঙ্গে ছিল না। সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া মিলেছিল না-ধোয়া ক্লিন-শেভড বা দাড়িহীন মুখ থেকে। এরপরে যথাক্রমে ছিল না-ধোয়া দাড়িওয়ালা মুখ, ধোয়া দাড়িওয়ালা মুখ ও সবশেষে ধোয়া ক্লিন-শেভড মুখ।
অধ্যাপক ট্রেগোনিং বলেছেন, “আপনি যদি মুখ না ধোয়ার সিদ্ধান্ত নেন তবে দাড়ি রাখাই ভালো। তবে আপনি যদি নিয়মিত মুখ ধুয়ে থাকেন তবে দাড়িহীন বা ক্লিন-শেভড থাকাটাই বেশি ভালো।”
সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে সার্জন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে মূল প্রশ্নটি সাধারণ পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নয়, বরং মুখের দাড়ি অস্ত্রোপচার কক্ষে বা অপারেশন থিয়েটারে ইনফেকশন বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কি না তা নিয়ে ছিল। এক্ষেত্রে গবেষণার ফলাফল মিশ্র এসেছে।
কিছু গবেষণা বলছে, দাড়ি ব্যাকটেরিয়া আটকে রাখতে পারে, আবার অন্যগুলোতে তেমন কোনো পার্থক্য মেলেনি। বিষয়টি আসলে অনেকটাই নির্ভর করে কীভাবে পরীক্ষার নমুনা নেওয়া হচ্ছে তার ওপর।
বেশিরভাগ গবেষণাই ইঙ্গিত মিলেছে, মাস্ক সঠিকভাবে পরা হলে এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো বড় কারণ নেই। অধ্যাপক ট্রেগোনিং বলেছেন, দাড়ি অপরিচ্ছন্ন বা অস্বাস্থ্যকর এ ধারণাটি অতিরিক্ত বাড়িয়ে বলা।
“প্রতিটি জিনিসের ওপরই ব্যাকটেরিয়া থাকে। আপনার দেহের যে কোনো অংশ তা লোমওয়ালা হোক বা লোমহীন, সেখানে ব্যাকটেরিয়া থাকবেই।
“যতক্ষণ না কোনো খোলা ক্ষত বা কাটা জায়গা থাকছে ততক্ষণ তা আসলে কোনো সমস্যাই নয়। অধিকাংশ সময়ই এটাই স্বাভাবিক।”