অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা: ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন লাখো ব্যবহারকারী
এ আদেশের ফলে ব্যবহারকারীদের আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে না, বরং তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এ মামলার অংশীদার হিসেবে যোগ হয়ে যাবেন।
আইক্লাউড ব্যবহারে বাধ্য করে লাখ লাখ গ্রাহককে ঠকানোর অভিযোগে যুক্তরাজ্যে অ্যাপলের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি পাউন্ডের ক্লাস অ্যাকশন মামলা দায়ের হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ‘হুইচ?’-এর করা এ মামলা সম্প্রতি আদালতে তোলার চূড়ান্ত অনুমতি পেয়েছে, যার ফলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে গ্রাহকরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ৭৭ পাউন্ড পর্যন্ত পেতে পারেন।
অ্যাপল অবশ্য এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে। তবে মার্কিন এ প্রযুক্তি জায়ান্টের একচেটিয়া ব্যবসার বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াই প্রযুক্তি ও করপোরেট বিশ্বে বড় আলোড়ন তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা এ ক্লাস অ্যাকশন মামলায় অভিযোগ উঠেছে, অ্যাপল নিজেদের ডিভাইসে নিজস্ব ‘আইক্লাউড’ সেবাকে অন্যায্যভাবে বাড়তি সুবিধা দিয়ে ব্যবহারকারীদের তা ব্যবহারে বাধ্য বা একপ্রকার বন্দি করেছে।
এ মামলায় যুক্তরাজ্যের লাখ লাখ গ্রাহককে অন্তর্ভুক্ত করবে ‘হুইচ?’। মামলাটি সফল হলে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বড় অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
সংগঠনটির দাবি, অ্যাপল ‘ক্লাউড বাজারে নিজের একচেটিয়া অবস্থানের অপব্যবহার করেছে’, যার ফলে ‘প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত ও লাখ লাখ গ্রাহককে ঠকানো হয়েছে’।
‘হুইচ?’ বলেছে, আইক্লাউডের মাসিক ফির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে প্রতি বছর ‘অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে’, অথচ স্বাভাবিক প্রতিযোগিতামূলক বাজার থাকলে গ্রাহকরা আরও বেশি ফ্রি স্টোরেজ পেতে পারতেন।
বর্তমানে আইক্লাউড সার্ভিসের মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি ৯৯ পেনি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫৪.৯৯ পাউন্ড পর্যন্ত হয়। ব্যবহারকারীরা এর মাধ্যমে তাদের পুরো ডিভাইসের পাশাপাশি ছবি বা নির্দিষ্ট কনটেন্টের ব্যাকআপ রাখতে পারেন।
‘হুইচ?’ ২০২৪ সালের নভেম্বরে ‘কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনাল’-এ ক্লাস অ্যাকশন দাবিটি পেশ করেছিল।
সম্প্রতি ‘কালেক্টিভ প্রসিডিংস অর্ডার’-এর মাধ্যমে মামলাটি আদালতে তোলার অনুমতি পেয়েছে সংগঠনটি। এ আদেশের ফলে ব্যবহারকারীদের আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে না, বরং তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এ মামলার অংশীদার হিসেবে যোগ হয়ে যাবেন।
এদিকে, অ্যাপল এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে বলেছে, গ্রাহকরা চাইলে আইক্লাউডের পরিবর্তে অন্য যে কোনো বিকল্প সেবা ব্যবহার করতে পারেন। একইসঙ্গে অ্যাপল এ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণাও দিয়েছে।
যেসব ব্যক্তি ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুনের মধ্যে আইক্লাউড সেবা ব্যবহার করেছেন এবং শেষোক্ত তারিখে (৮ জুন ২০২৬) যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন তারা নিজে থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এ মামলার অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
অন্যদিকে, যারা ২০২৬ সালের ৮ জুনে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন না তারা চাইলে ‘হুইচ?’-এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ মামলায় যোগ হতে পারবেন।
ভোক্তা অধিকার সংগঠনটি বলেছে, মামলাটি সফল হলে আইক্লাউড ব্যবহারকারীরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ৭৭ পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
‘হুইচ?’-এর প্রধান নির্বাহী অ্যানাবেল হোল্ট বলেছেন, “হুইচ? পরিষ্কার করে দিতে চায় যে, কোনো কোম্পানি যতই শক্তিশালী হোক না কেন নিজেদের অবস্থানের অপব্যবহার করে পার পাওয়া যাবে না।
“এ কালেক্টিভ প্রসিডিংস অর্ডার অনুমোদনের মানে, আমরা গ্রাহকদের সেই ক্ষতিপূরণ এনে দেওয়ার আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, যা অ্যাপলের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্য। একইসঙ্গে অন্যায্য বা প্রতিযোগিতা-বিরোধী কৌশল নেওয়া অন্যান্য কোম্পানির জন্যও জোরালো এক বার্তা।”
