১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজার কোটি বছরের পুরোনো সংকেত পেলেন বিজ্ঞানীরা

বিগ ব্যাংয়ের কেবল ৩০০ কোটি বছর পর এটা তৈরি হয়েছিল, যা আগের যে কোনো রেকর্ডের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি আগের।

হাজার কোটি বছরের পুরোনো সংকেত পেলেন বিজ্ঞানীরা

প্রায় ১০০০ কোটি বছর মহাবিশ্ব পাড়ি দিয়ে এটা পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে। ছবি: ম্যাগনিফিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Oct 2026, 04:04 PM

Updated : 10 Oct 2026, 04:04 PM

মহাবিশ্বের একেবারে আদি অংশ থেকে আমাদের পানে ছুটে আসা শক্তিশালী এক সংকেত আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এটা এক ধরনের ‘ফাস্ট রেডিও বার্স্ট’ বা এফআরবি, যা মহাবিশ্বের অন্যতম বড় এক রহস্য। স্বল্পস্থায়ী অথচ বিস্ময়কর রকমের শক্তিশালী এই শক্তির উৎস আসলে কী তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে।

চরম শক্তিধর কোনো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু থেকে শুরু করে ভিনগ্রহের কোনো প্রযুক্তি সব সম্ভাবনাই এর উৎসের তালিকায় বিবেচনা করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

এবার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে দূরের ‘এফআরবি’ বা রেডিও বার্স্টের সন্ধান পেলেন।

প্রায় ১০০০ কোটি বছর মহাবিশ্ব পাড়ি দিয়ে এটা পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে, যার মানে বিগ ব্যাংয়ের কেবল ৩০০ কোটি বছর পর এটা তৈরি হয়েছিল, যা আগের যে কোনো রেকর্ডের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি আগের।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ আবিষ্কার কেবল এফআরবির রহস্যময় উৎস উন্মোচন করতেই সাহায্য করবে না, বরং ছায়াপথের বিবর্তন ও বিভিন্ন ছায়াপথের মধ্যবর্তী অদৃশ্য বস্তু গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমও হয়ে উঠবে।

সিগনালটি নিজের যাত্রাপথে মহাবিশ্বের যেসব অংশের ওপর দিয়ে এসেছে, সেগুলোর তথ্যও বহন করে এনেছে।

‘ইউনিভার্সিটি অফ সিডনি’র গবেষক মনীষা কালেব বলেছেন, “এটা দূরবর্তী মহাবিশ্বের এক অসাধারণ ঝলক।”

“আমরা এমন এক সময়ের একটি ফাস্ট রেডিও বার্স্ট খুঁজে পেয়েছি যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল কেবল তিনশ কোটি বছর এবং রেডিও আলোর সেই সংক্ষিপ্ত ঝলকটিকে ব্যবহার করে আমরা কোটি কোটি বছর ধরে এর যাত্রাপথের নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছি।”

গবেষকরা কেবল সিগনালটিই শনাক্ত করেননি, বরং যে ছায়াপথ থেকে এটা তৈরি হয়েছিল সেটাও খুঁজে বের করেছেন, যা মহাবিশ্বের ব্যতিক্রমী অংশ বলে চিহ্নিত হয়েছে।

মহাবিশ্বের একেবারে আদি পর্বের এক শক্তিশালী শক্তির বিস্ফোরণ বা ফাস্ট রেডিও বার্স্ট নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা।

‘ইউনিভার্সিটি অফ সিডনি’র গবেষক লরা ড্রিউসেন বলেছেন, যে ছায়াপথ থেকে বিস্ফোরণটি এসেছে তা বিস্ময়করভাবে আকারে বেশ ছোট, ধাতু-স্বল্পতার এবং সেখানে সক্রিয়ভাবে নতুন তারা তৈরি হওয়ার তথ্য মিলেছে।

গবেষকরা বলছেন, এফআরবি কোন পরিবেশে জন্ম নেয়, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে এই সংকেত।

পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত রেডিও ফ্ল্যাশগুলো কেবল দূরবর্তী মহাবিশ্ব সম্পর্কেই নয়, বরং ছায়াপথ ও সেগুলোর তারাপুঞ্জ কীভাবে বিবর্তিত হয় সে বিষয়েও ধারণা দিতে পারে।

এ আবিষ্কার রহস্যময় শক্তি বিস্ফোরণের উৎস সম্পর্কে জানাশোনা আরও সমৃদ্ধ করেছে। এর থেকে ইঙ্গিত মেলে, অন্তত কিছু এফআরবি তরুণ ম্যাগনেটার থেকে নির্গত হয়। ম্যাগনেটার হচ্ছে সুপারনোভা বিস্ফোরণে বড় আকৃতির তারা ধ্বংস হওয়ার পর তৈরি হওয়া এক ধরনের নিউট্রন তারা।

হোস্ট ছায়াপথটি তরুণ হওয়ায় ও অনেক তারা তৈরি করায় এটা স্পষ্ট যে, পুরনো নিউট্রন তারার মিলনের চেয়ে ম্যাগনেটার থেকেই এই সংকেত আসার সম্ভাবনা বেশি।

‘এফআরবি ২০২৪০৩২০৪বি’ নামের বিস্ফোরণটি প্রথম আবিষ্কার করে ‘মিয়ারট্র্যাপ’ প্রজেক্ট, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ‘মিয়ারক্যাট’ রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে পরিচালিত হয়।

এরপর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্য নিয়ে এর সঠিক উৎস ছায়াপথটি খুঁজে বের করেছেন।

গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ।