Published : 18 Jan 2024, 06:12 PM
গেইম খেলার সময় উচ্চ মাত্রার শব্দ শোনার কারণে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন গেইমাররা — এমনই উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।
৫০ হাজারের বেশি মানুষের অংশ নেওয়া ১৪টি ভিন্ন গবেষণার পর্যালোচনা থেকে এমন তথ্য উঠে এসেছে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’ বা ‘বিএমজে’ পাবলিক হেলথ’ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে।
নতুন গবেষণাটি বলছে, গেইমাররা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মাত্রার শব্দে গেইম খেলে থাকেন। আর এই উচ্চ মাত্রার শব্দ একনাগাড়ে কানে বাজতে থাকলে গেইমারদের শ্রবণশক্তি হ্রাসের পাশাপাশি টিনিটাস (কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনার অবস্থা) তৈরি করতে পারে।
গেইমারদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আরও জনস্বাস্থ্যমূলক প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। ঠিক যেভাবে এর আগে লাইভ মিউজিক ও হেডফোনের ব্যবহার নিয়ে সতর্কবার্তা এসেছিল।
স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর জন্য গেইমারদেরকে গেইম খেলার সময় শব্দের মাত্রা কমিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে গবেষণা বলছে, গেইমারদের সমস্যার গোড়ায় রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মাত্রার শব্দ শোনার অভ্যাস।
উদাহরণ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে নিরাপদ শব্দ শোনার মাত্রা ৪০ ঘণ্টা, যেখানে তারা ৮০ ডেসিবল পর্যন্ত শব্দ শুনতে পারেন। যা একটি ডোরবেল বা দরজার ঘণ্টার শব্দের কাছাকাছি।
আর শব্দের মাত্রা এই নিরাপদ স্তরের চেয়ে যত ওপরের দিকে ওঠে, মানুষের শ্রবণশক্তির জন্য সেটা ততটাই ঝুঁকির।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসারে, প্রাপ্তবয়স্করা সপ্তাহে সবোর্চ্চ চার ঘণ্টার জন্য ৮৫ ডেসিবল ও সোয়া এক ঘণ্টা জন্য ৯০ ডেসিবল মাত্রার শব্দ শুনতে পারেন। শিশুদের বেলায় শব্দের মাত্রা আরও কম রাখতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।
১৪ টি গবেষণার মধ্যে একটিতে দেখা গেছে, পরীক্ষা চালানো চারটি শুটিং গেইমের হেডফোনে শব্দের গড় মাত্রা ছিল সাড়ে ৮৮ থেকে ৯১.২ ডেসিবলের মধ্যে।
আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, গেইম খেলার সময় আকস্মিক শব্দ, জোরে বিস্ফোরণ বা গুলি চালানোর ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা গিয়ে পৌঁছেছে ১১৯ ডেসিবলে।
এদিকে তিনটি পৃথক গবেষণার একটিতে দেখা যায়, নারীদের তুলনায় পুরুষদের দীর্ঘ সময় ধরে ও উচ্চ শব্দে ভিডিও গেইম খেলার প্রবণতা বেশি।
এর মধ্যে কয়েকটি গবেষণায় গেইমিং ও শ্রবণশক্তি হ্রাসের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। এ ছাড়া, অনেক গেইমারকে ‘টিনিটাস’-এর অভিজ্ঞতার মুখেও পড়তে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
গবেষকরা বলছেন, গেইমিং ও শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকির মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন, যেখানে গেইমাদের ই-গেইমিং, ভৌগলিক অঞ্চল, লিঙ্গ ও বয়সের প্রভাব সম্পর্কে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
এর মধ্যে কয়েকটি গবেষণার তথ্যের মিল রয়েছে ৯০’এর দশকের তথ্যের সঙ্গে, যখন গেইমিং জগৎ এখনকার তুলনায় অনেক ভিন্ন ছিল।
গত দশকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রগুলোর কেবল দুটিতেই এশিয়ার জনপ্রিয় গেইম আর্কেডের মতো ভিডিও গেইম বা গেইমিং সেন্টার থেকে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে।
তবে গবেষণার লেখকদের মতে, এ ধরনের সীমিত প্রমাণাদি থেকে ইঙ্গিত মেলে, অনিরাপদ মাত্রার শব্দ শোনার সবচেয়ে প্রচলিত উৎস সম্ভবত গেইমিং।
“এ অনুসন্ধান থেকে ইঙ্গিত মিলছে, এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন গেইমিংয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, যা গেইমারদের নিরাপদ মাত্রার শব্দ শোনার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।”
এদিকে গেইমিং কোম্পানি ‘ইউকি’ বলেছে, তারা গেইমারদের হেডফোন ব্যবহারের সময় নিরাপদ মাত্রার শব্দ শোনার পরামর্শ দিচ্ছে। তবে, নতুন এই গবেষণা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি কোম্পানিটি।