Published : 16 Feb 2026, 06:11 PM
বিশ্বের প্রযুক্তি মানচিত্রে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে বিশ্ব এআই সম্মেলনের আয়োজন করেছে ভারত। নয়াদিল্লিতে রাজকীয় এ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন গুগল, মাইক্রোসফট ও ওপেনএআইয়ের মতো মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধানরা।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’কে ভারতীয় কর্মকর্তারা এমন এক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন, যা বিশ্বজুড়ে এআই নীতি নির্ধারণে উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশের মতামতকে জোরালো করবে।
প্রথমবারের মতো বিশ্বের উন্নয়নশীল কোনো দেশে এ ধরনের বড় কোনো বৈশ্বিক ইভেন্ট আয়োজিত হচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে ভারত যখন আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে, ঠিক সে সময়ই এ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
বিভিন্ন এআই কোম্পানির জন্য এখন অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে ভারত। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে এআই ও ক্লাউড অবকাঠামো খাতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো বিভিন্ন মার্কিন কোম্পানি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, “এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য সবার কল্যাণ ও সুখ। মানুষের প্রয়োজনে এআইকে কাজে লাগিয়ে মানবকেন্দ্রিক উন্নতির পথে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন এই সম্মেলন।”
সম্মেলনের মূল বক্তাদের তালিকায় রয়েছেন বিখ্যাত সব ব্যক্তিত্ব। যাদের মধ্যে রয়েছেন গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট-এর প্রধান সিইও সুন্দার পিচাই, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিক-এর সিইও দারিও আমোদেই ও রিলায়েন্স-এর চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন গুগল ডিপমাইন্ড-এর সিইও ডেমিস হাসাবিস। এ দিন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গেও মঞ্চ শেয়ার করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন মাক্রোঁ।
দিল্লির প্রধান রাস্তাগুলোতে মোদীর ছবি সংবলিত এ সম্মেলনের বড় বড় ব্যানার টানানো হয়েছে। আর এমনটি সেই ধরনের প্রচারণারই অংশ, যার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তারকারী কোনো শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি করতে পারেনি ভারত। এখন অন্য কৌশলে এগোচ্ছে দেশটি। তাদের বাজি হচ্ছে বড় কোনো মডেল তৈরির চেয়ে বরং এআইয়ের ব্যাপক ‘ব্যবহার’ বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা।
গেল মাসে প্রকাশিত ভারতের এক অর্থনৈতিক সমীক্ষায় সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন বিশাল আকৃতির ‘মেগা-মডেল’ তৈরির পেছনে না ছুটে ‘অ্যাপ্লিকেশননির্ভর উদ্ভাবনের’ বা ব্যবহারিক উদ্ভাবনের দিকে বেশি নজর দেয়।
এ কৌশলটির পেছনে বড় কারণ ভারতে এআইয়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ভারতে প্রতিদিন চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। ফলে বর্তমানে ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে বড় বাজারও ভারত।
তবে এআইয়ের এ দ্রুত ব্যবহার ভারতের ২৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের আইটি খাতের জন্য বড় ঝুঁকিও তৈরি করছে। বিনিয়োগকারী ব্যাংক ‘জেফরিস’ বলেছে, এআই ব্যবহারের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিভিন্ন কল সেন্টারের আয় প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে।
ভারতের এই সম্মেলনে প্রায় আড়াই লাখ দর্শনার্থী আসতে পারে। ৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত বিশাল কনভেনশন সেন্টার ‘ভারত মণ্ডপম’-এর ৭০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে তিনশরও বেশি প্রদর্শক নিজেদের প্রযুক্তি তুলে ধরবেন।
এদিকে, হাজার হাজার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধির আগমনে দিল্লির বিলাসবহুল বিভিন্ন হোটেলের ভাড়া আকাশচুম্বী হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ শোরগোল ফেলেছে।
যেমন, তাজ প্যালেসের একটি স্যুট এর ভাড়া সাধারণত প্রতি রাতে ২ হাজার ২০০ ডলারের মতো থাকে তা গত সপ্তাহে ৩৩ হাজার ডলারেরও বেশি দামে তালিকাভুক্ত হতে দেখা গেছে।
সম্মেলনের কারণে শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সেখানে বলা হয়েছে, এ আয়োজনের ফলে আদালতের আশপাশে তীব্র যানজটের ভয় থাকায় আইনজীবীরা চাইলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।