Published : 07 Feb 2026, 01:49 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ঘিরে তৈরি হওয়া অতিরঞ্জিত প্রত্যাশার বুদ্বুদ কি ফেটে যাচ্ছে– এমন আশঙ্কায় এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানির বাজার মূলধন থেকে মুছে গেছে ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি প্রতিবেদনে লিখেছে, এআই প্রযুক্তির পেছনে মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের লাগামহীন খরচ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ফলে শেয়ার বিক্রির হিড়িক শুরু হয়েছে। প্রযুক্তির এই বিশাল বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত কতটুকু লাভের মুখ দেখবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ওয়াল স্ট্রিটে।
মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, ওরাকল, মেটা, অ্যামাজন ও অ্যালফাবেট এ সবকটি কোম্পানির শেয়ারের দামই বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধ হওয়া পর্যন্ত কমেছে।
এসব কোম্পানিগুলোর সাম্প্রতিক আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ‘হাইপারস্কেলার’ বা বড় ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী বিভিন্ন কোম্পানি এআই প্রযুক্তির পেছনে এখনও মোটা অংকের মূলধন ব্যয় চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার বাজার খোলার আগের লেনদেনে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশ কমেছে। অ্যালফাবেটের দাম কমেছে ০.৭ শতাংশ ও মেটার দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত ছিল। তবে ওরাকল, এনভিডিয়া ও মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের দাম সামান্য কিছুটা বেড়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলছে, এ বছর এআইয়ের পেছনে ৬৬ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি। এ অর্থের পরিমাণ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর বা ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর মোট জিডিপির চেয়েও বেশি।
‘জিএএম ইনভেস্টমেন্টস’-এর বিনিয়োগ পরিচালক পল মার্কহাম বলেছেন, যেহেতু বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কার ছোঁয়া লেগেছে ফলে এআইয়ের হার্ডওয়্যার তৈরির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দামে বড় ধরনের এই ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
“লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম তৈরির পেছনে করা বিশাল ব্যয়ের সুফল শেষ পর্যন্ত কতটা আসবে ও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়ে যাচ্ছে কি না এসব প্রশ্ন ও ভয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে থেকেই যাবে।”
‘প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিনিয়োগকারীরা’
এ প্রন্তিকে নিজেদের ব্যবসার প্রসারের জন্য সবচেয়ে বড় ব্যয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম মার্কিন ই কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন।
‘কুইল্টার চেভিয়ট’-এর বিশ্লেষক মমতা ভালেসা বলেছেন, “অ্যামাজনের আর্থিক ফলাফলের মূল আলোচনার বিষয় ছিল তাদের ২০ হাজার কোটি ডলারের ব্যয়ের নির্দেশনা, যা গত বছরের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি। এ সংখ্যা বাজারের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে এবং বড় ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে সর্বোচ্চ।”
এই বিশাল খরচের সিংহভাগই ব্যয় হবে কোম্পানিটির ক্লাউড ইউনিট ‘এডব্লিউএস’-এর পেছনে।
ভালেসা আরও বলেছেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদী লাভের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও এ মুহূর্তে লাভের কোনো স্পষ্ট দিশা দেখতে পাচ্ছেন না বলে কিছুটা অসন্তুষ্ট বিনিয়োগকারীরা।
“হঠাৎ করেই পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। আগে ভয় ছিল এই দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার, আর এখন বিনিয়োগকারীরা এআই দৌড়ের প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।”
অন্যদিকে, নিজেদের এআই কৌশলের জন্য আগে ওয়াল স্ট্রিটের চাপের মুখে পড়েছিল অ্যাপল। অন্যান্য টেক কোম্পানির তুলনায় এ খাতে অনেক কম খরচ করায় আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটির চিত্রটি এখন ভিন্ন।
আইফোনের প্রতি গ্রাহকদের ‘বিস্ময়কর’ চাহিদার কারণে সোমবার থেকে এ পর্যন্ত অ্যাপলের শেয়ারের দাম বেড়েছে সাত শতাংশ।