Published : 02 Apr 2026, 10:38 AM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের পেছনে বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে প্রযুক্তি কোম্পানি ওরাকল। কোম্পানিটি তাদের মোট জনবলের প্রায় ১৮ শতাংশ বা ৩০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ইমেইলের মাধ্যমে কর্মীদের চাকরি হারানোর এই সংবাদ দিতে শুরু করেছে ওরাকল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, রেকর্ড আয় ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির পরও শেয়ার বাজারে অবস্থা ভালো নয় ওরাকলের। পতন ঠেকাতে এবং এআই প্রযুক্তিতে আধিপত্য ধরে রাখতে এ পথে যাচ্ছে টেক জায়ান্টটি।
বিজনেস ইনসাইডারের রিপোর্ট অনুসারে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে আমেরিকা, ভারত, কানাডা ও মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরা ‘ওরাকল লিডারশিপ’-এর কাছ থেকে ছাঁটাইয়ের ইমেইল পেতে শুরু করেছেন, যা কোম্পানিটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হতে পারে।
কেবল ভারতেই প্রায় ১২ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। ওরাকল থেকে পাঠানো ইমেইলে এ ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে ‘সাংগঠনিক পরিবর্তনের’ কথা উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এআই ডেটা সেন্টার তৈরির পেছনে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ করতেই কোম্পানিটি এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইমেইলে ওরাকল বলেছে, “ওরাকলের বর্তমান ব্যবসায়িক প্রয়োজনীয়তাগুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে আমরা বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফলে আপনার পদটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে। আজই আপনার কাজের শেষ দিন।”
২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত এ ক্লাউড কম্পিউটিং সেবাদাতা কোম্পানিতে মোট এক লাখ ৬২ হাজার কর্মী কর্মরত ছিলেন। সেই হিসেবে, এ ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় মোট জনবলের প্রায় ১৮ শতাংশ কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন।
কোম্পানিটি বলেছে, “আপনার ছাঁটাই সংক্রান্ত নথিপত্রে স্বাক্ষরের পর আপনি সেভারেন্স প্ল্যানের শর্তানুসারে আর্থিক সুযোগ সুবিধা পাবেন। আপনার অফিসের কম্পিউটার, ইমেইল, ভয়েসমেইল ও ফাইলগুলোতে প্রবেশের সুবিধা শিগগিরই বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং আপনি আর অফিসের কম্পিউটারে লগ ইন করতে পারবেন না।”
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে এ গণছাঁটাই এমন এক সময়ে ঘটছে যখন কোম্পানিটি গত প্রান্তিকে তাদের আয় ২২ শতাংশ বাড়ানো এবং আর্থিক ফলাফল ‘প্রত্যাশার চেয়েও ভালো’ হয়েছে বলে জানিয়েছিল।
এ বছরের জানুয়ারিতে ওরাকল ঋণ ও শেয়ারের মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। তবে কোম্পানিটি বলেছে, ২০২৬ সালে তাদের আর নতুন করে ঋণ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে গত কয়েক মাসে শেয়ার বাজারে কোম্পানিটি বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এর শেয়ারের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে, যা অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানির চেয়ে বেশি।
জানুয়ারিতে বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে কোম্পানিটি প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত নগদ অর্থ সাশ্রয় করতে পারে।
এ মাসের শুরুতে এক সভায় ওরাকলের প্রধান ক্লে মাগুইর্ক বলেছেন, “জিপিইউ ও সিপিইউ উভয় ধরনের এআই অবকাঠামোর চাহিদা আমাদের সরবরাহের তুলনায় বেশি। আমাদের হাতে থাকা ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের কাজের অর্ডার থেকেই তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে।”
ওরাকল পরীক্ষামূলকভাবে কিছু এআই এজেন্ট ব্যবহার করছে, যা ডেটাবেইস পরিচালনার সাধারণ বিভিন্ন কাজ অনায়াসেই করতে পারছে। আগে এসব কাজের জন্য বড় প্রকৌশলী দলের প্রয়োজন হত।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ওরাকল।