Published : 14 Jun 2026, 05:07 PM
গুগলের এআই মডেল জেমিনাই ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের জালিয়াতি ছড়ানোর অভিযোগে এক চীনা সাইবার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন টেক জায়ান্টটি।
কেবল দুই সপ্তাহে লাখ লাখ মানুষকে ফাঁদে ফেলা এ আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রটির বিরুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও শীর্ষ টেলিকম অপারেটরদের সঙ্গে যৌথভাবে মাঠে নেমেছে গুগল।
এআইয়ের অপব্যবহার করে তৈরি এ নজিরবিহীন সাইবার হুমকি ঠেকাতে এখন গুগল নতুন ও কঠোর আইন পাসেরও জোরালো দাবি জানাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট। আর এতে মার্কিন রাজনীতির দুই বড় রাজনৈতিক দলেরই সমর্থন চেয়েছে তারা।
গুগল বলেছে, চীনা চক্রটি তাদের জেমিনাই এআই ব্যবহার করে ‘বড়’ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এ অপরাধমূলক নেটওয়ার্কটিকে পুরোপুরি বন্ধ করতে এফবিআই ও শীর্ষ মোবাইল অপারেটর ‘এটিঅ্যান্ডটি’, ‘টি-মোবাইল’ ও ‘ভেরাইজন’-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে।
পাশাপাশি এআইচালিত বিভিন্ন সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর জন্য বর্তমান আইনগুলো আধুনিকায়নের আহ্বান জানিয়েছে গুগল। তারা বলেছে, এ প্রযুক্তি বিভিন্ন সাইবার হুমকিকে ‘বহুগুণ শক্তিশালী’ করে তোলার সক্ষমতা রাখে।
গুগলের প্রধান আইন কর্মকর্তা ডেলেন প্রাডো নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে বলেছেন, “সমন্বিতভাবে এটাই আমাদের প্রথম পদক্ষেপ ও মামলা, যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট এ প্রতারণামূলক চক্রটির ক্ষতিকর প্রভাব কতটা ব্যাপক ছিল।”
এ মামলায় ‘আউটসাইডার এন্টারপ্রাইজ’ নামের এক চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার উদ্দেশ্যে নিজেদের প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ড নাম ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে গুগল। এ সাইবার নেটওয়ার্কটিকে পুরোপুরি বন্ধের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞারও আবেদন করেছে কোম্পানিটি।
গুগলের অভিযোগ, এ চক্রটি জেমিনাই এআই ব্যবহার করে গুগল, ইউটিউব ও মার্কিন পোস্টাল সার্ভিস ও নিউ ইয়র্কের ‘ইজিপাস’ টোল সেবার মতো বিভিন্ন সরকারি কোম্পানির হুবহু নকল ওয়েবসাইট তৈরি করেছিল।
তবে জেমিনাইয়ের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে থাকার পরও এ সমস্যা সমাধানে গুগল অভ্যন্তরীণভাবে ঠিক কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা তারা প্রকাশ করেনি।
গুগল বলেছে, এ জালিয়াতির শিকার হয়েছেন ‘লাখ লাখ মানুষ’ এবং এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক কয়েক লাখ ডলার। চক্রটি কেবল দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৯ হাজারটি ভুয়া ওয়েবসাইট ও ১০ লাখ প্রতারণামূলক ইউআরএল তৈরি করেছে।
এ ছাড়া এ চক্রের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করা ৫৫ হাজার স্প্যাম টেক্সট মেসেজ এবং ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংকসহ আরও ২৫ লাখ বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
গুগল বলেছে, এ বড় পরিসরের অপকর্মের পুরোটাই চালানো হয়েছে একক নেটওয়ার্ক বা অপারেশনের মাধ্যমে। এ কারণেই ভবিষ্যতে এআইচালিত জালিয়াতি ঠেতাতে অন্তত সাতটি আইন পাসের পক্ষে জোরালো দাবি করেছে কোম্পানিটি।
প্রস্তাবিত এসব আইনের মধ্যে রয়েছে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর কমব্যাটিং স্ক্যামস অ্যাক্ট’, ‘স্ট্র্যাটেজিক টাস্ক ফোর্স অন স্ক্যাম প্রিভেনশন অ্যাক্ট’, ‘স্টপ স্ক্যামস এগেইনস্ট সিনিয়ারস অ্যাক্ট’ ও ‘এআই প্ল্যান অ্যাক্ট’।
এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক বলেছেন, “এ সাধারণ কোনো স্প্যাম নয়। আমাদের ফোনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সুসংগঠিত এক আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র এবং এমনটা ঠেকাতে হলে এ হুমকির মতোই সমান সমন্বিত ও আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
এর সঙ্গে একমত পোষণ করে এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক ব্রেট লেদারম্যান বলেছেন, “অপরাধীরা এ ধরনের জালিয়াতিকে আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও সাধারণের চোখে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যেতে ক্রমেই এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ফলে তাদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন।”