Published : 18 May 2026, 01:37 PM
মঙ্গল গ্রহের জেজেরো ক্রেটার পেরিয়ে এখন পর্যন্ত নিজের সবচেয়ে দূরবর্তী পশ্চিমা অভিযানে সফল হয়েছে নাসা’র পার্সিভ্যারেন্স রোভার।
এ ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে ফ্রেমবন্দি করতে লাল গ্রহের বুকে নিজের ষষ্ঠ সেলফি তুলেছে রোভারটি এবং একইসঙ্গে সেখানে সন্ধান পেয়েছে প্রায় ৩৯০ কোটি বছরের প্রাচীন পাথরের।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদিনে লিখেছে, গত পাঁচ বছর ধরে নাসা’র পার্সিভ্যারেন্স রোভার মঙ্গল গ্রহের ‘জেজেরো ক্রেটার’ নামের এক এলাকায় গবেষণা চালিয়ে আসছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রাচীন অণুজীবের অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়ার জন্য জায়গাটি বেশ সম্ভাবনাময়।
সম্প্রতি রোভারটি এ ক্রেটার বা গর্তের সীমানা পেরিয়ে আরও পশ্চিমে পাড়ি জমিয়েছে, যা এখন পর্যন্ত মঙ্গলে রোভারটির সবচেয়ে দূরবর্তী পশ্চিমা অভিযান। মুহূর্তটিকে ফ্রেমবন্দি ও আশপাশের চমৎকার ভূপ্রকৃতি তুলে ধরতে একটি সেলফিও তুলেছে রোভারটি।
এ সপ্তাহে নাসা’র শেয়ার করা এ সেলফিতে পার্সিভ্যারেন্স রোভারটিকে ‘লাক দে শার্মস’ অঞ্চলের এক পাথুরে এলাকায় দেখা যাচ্ছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আরাথুসা’।
এক ব্লগ পোস্টে নাসা বলেছে, “বিজ্ঞান গবেষণার খাতিরে রোভারটি মঙ্গলে এ যাবৎ যত জায়গায় গেছে তার মধ্যে এটি অন্যতম আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা।”
গেল ১১ মার্চ রোভারের রোবোটিক বাহুতে থাকা ক্যামেরায় তোলা ৬১টি ছবি জোড়া দিয়ে এ সেলফিটির এক অ্যানিমেটেড সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে পার্সিভ্যারেন্স রোভারটিকে আশপাশ দেখার জন্য এর ক্যামেরার মাথাটি ঘোরাতেও দেখা যায়।
অবশ্য এর পর থেকেই রোভারটি এ অঞ্চলের অন্য এলাকা ‘আর্বোট’-এ চলে গেছে। ৫ এপ্রিল রোভারের ‘মাস্টক্যাম-জেড’ দিয়ে তোলা ৪৬টি ছবি একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে নাসা ওই জায়গার একটি প্যানোরামা বা বিস্তৃত দৃশ্য শেয়ার করেছে।
সাধারণ চোখে এ পাথুরে মরুভূমিকে বিশেষ কিছু মনে না হলেও নাসা বলেছে, এখানে বেশ কিছু নজরকাড়া বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এখানকার কিছু কিছু পাথর আকৃতিতে প্রায় আকাশচুম্বী ভবনের মতো বড়! প্রায় ৩৯০ কোটি বছর আগে কোনো উল্কাপিণ্ডের আঘাতের ফলে এসব পাথর এখানে এসে পড়েছিল।
‘ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ বা ক্যালটেক-এর অধ্যাপক ও পার্সিভ্যারেন্স-এর ডেপুটি প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট কেন ফার্লি বলেছেন, এ ছবিতে সম্ভবত “এই অভিযানের সবচেয়ে প্রাচীন বিভিন্ন পাথর দেখা যাচ্ছে, যা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি।”
এ ছাড়া এখানে এমন কিছুও রয়েছে যা ‘হতে পারে ‘আগ্নেয়গিরির ডাইক’, অর্থাৎ ম্যাগমার খাড়া স্তর, যা মাটির নিচে জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে গিয়েছিল এবং কোটি কোটি বছর ধরে আশপাশের নরম মাটি ক্ষয়ে যাওয়ার পরও তা সোজা দাঁড়িয়ে রয়েছে।”
পার্সিভ্যারেন্স রোভারটি কেবল আশপাশের ছবিই তোলে না, বরং পাথরের ভেতরের কোর বা মূল অংশের নমুনাও সংগ্রহ করে।
রোভারটি পাথরের উপরিভাগ ঘষে মসৃণ করতে পারে, যাতে পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীদের দল এর উপাদান বিশ্লেষণ করতে পারেন।
আপাতত রোভারটি ‘আর্বোট’ অঞ্চলের এ পাথুরে এলাকাগুলোতেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। এরপর রোভারটি মঙ্গলের দক্ষিণ দিকে ‘গার্দেভারি’ নামের এক জায়গার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।