Published : 02 Apr 2026, 04:24 PM
দীর্ঘদিনের জল্পনা সত্যি করে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে স্পেসএক্স; বিশ্বের বৃহত্তম আইপিও ছাড়ার লক্ষ্যে ইলন মাস্কের এই মহাহাশ কোম্পানি অতি গোপনে নথিপত্র জমা দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।
ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে লিখেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে স্পেসএক্স বাজারে শেয়ার ছেড়ে সাড়ে সাত হাজার কোটি ডলার মূলধন সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা ‘সৌদি আরামকো’র ২০১৯ সালের আইপিওর রেকর্ডকেও অনেক ব্যবধানে ছাড়িয়ে যাবে। ‘সৌদি আরামকো’র আইপিও ছিল ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের।
এ মোটা অংকের মূলধন দিয়ে স্টারশিপ প্রোগ্রাম ও মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টারের মতো উচ্চাভিলাষী বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে স্পেসএক্স।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, অনেকে অনেকদিন ধরেই স্পেসএক্স প্রস্তুতি নিচ্ছিল শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে পাবলিক কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার। বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, এ বছরের জুলাইয়ের মধ্যেই এ আইপিও আসতে পারে।
ব্লুমবার্গ লিখেছে, ইলন মাস্কের কোম্পানি মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) আইপিও রেজিস্ট্রেশনের খসড়া নথিপত্র জমা দিয়েছে ‘গোপনীয়ভাবে’। ফলে সাধারণ মানুষ এখনই এ প্রাথমিক দর প্রস্তাবের খুঁটিনাটি জানার সুযোগ পাবে না।
এই গোপনীয় পদ্ধতি অনুসরণের ফলে, এসইসির কাছ থেকে আগাম মতামত নেওয়ার সুযোগ পাবে স্পেসএক্স, এরপরই তারা শেয়ারের দাম ও সংখ্যাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রকাশ করবে।
এনগ্যাজেট লিখেছে, আইপিওর সময় স্পেসএক্স তাদের বাজারমূল্য ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার দাবি করতে পারে। সেটা সত্যি হলে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এ কোম্পানির বাজারমূল্য বেড়ে প্রায় দেড়গুণ হবে।
এ বছরের শুরুর দিকে মাস্কেরই আরেক কোম্পানি ‘এক্সএআই’কে কিনে নেয় স্পেসএক্স। ফলে স্পেসএক্স এখন এখন এক্স ও এআই চ্যাটবট গ্রক-এর মূল কোম্পানি। সেই অধিগ্রহণের সময় পুরো কোম্পানির বাজার মূল্য ধরা হয়েছিল ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
স্পেসএক্স তাদের আইপিও থেকে পাওয়া অর্থ বিভিন্ন উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে গতি আনতে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। যার মধ্যে রয়েছে তাদের ধুঁকতে থাকা ‘স্টারশিপ’ প্রোগ্রাম।
এ ছাড়া চাঁদে একটি ঘাঁটি তৈরি করা, মঙ্গলে যাওয়া ও কক্ষপথে এআই ডেটা সেন্টার বসানোর পরিকল্পনাও করছে স্পেসএক্স।