Published : 12 Jan 2026, 10:56 AM
মহাকাশ এক রোমাঞ্চকর দিগন্ত, যা শত শত বছর ধরে মানুষকে মুগ্ধ করে রেখেছে। এ উত্তেজনার বড় কারণ, আকাশ ফুঁড়ে রকেট পাঠানো, পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইট বসানো, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গবেষণা চালানো এবং চাঁদ ও মঙ্গলে অভিযানের পরিকল্পনার মতো মহাকাশ বিজ্ঞানের জটিলতা।
এসব কাজ অত্যন্ত জটিল হওয়ার কারণে একসময় মহাকাশ অভিযান খুব কম হত। একসময় বিভিন্ন রকেট উৎক্ষেপণের ঘটনা টিভিতে সরাসরি দেখানো হত এবং সবাই তা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকতেন। প্রতিবার একটি রকেট মহাকাশে উড়াল দেওয়ার সময় মানুষের মধ্যে এক অভাবনীয় উত্তেজনাও কাজ করত।
রকেট উৎক্ষেপণ আজও এক বিস্ময়কর দৃশ্য। তবে একটি কোম্পানি একাই বিষয়টিকে প্রায় প্রতি সপ্তাহের সাধারণ ঘটনায় পরিণত করেছে। ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক ১৩৪টি কক্ষপথীয় উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স, যা দেখে মার্কিন ‘ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা এফএএ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে রকেট উৎক্ষেপণ ও পৃথিবীতে পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য লাইসেন্স ফি বা মাশুল ধার্য করবে তারা।
এক বছরে ১৩৪টি উৎক্ষেপণ সত্যিই এক বিস্ময়কর সংখ্যা, বিশেষ করে যখন এর আগের বিভিন্ন বছরের দিকে তাকালে দেখা যায় সংখ্যাটি কত কম ছিল। ২০২০ সালে উৎক্ষেপণ হয়েছিল ২৫টি, ২০২১ সালে ৩১টি, ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬১টিতে, ২০২৩ সালে হয় ৯৬টি ও ২০২৪ সালে তা ১৩৪টিতে পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নিজেদের রেকর্ড ভেঙে মোট ১৬৫টি কক্ষপথীয় উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে স্পেসএক্স। এর সঙ্গে পাঁচটি ‘নন-অরবিটাল’ বা উপকক্ষপথীয় উৎক্ষেপণ যোগ হলে মোট সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১৭০-এ।
একটি কোম্পানির পক্ষে বছরে ১৭০টি রকেট উৎক্ষেপণ করা বড় কৃতিত্বের বিষয়। পুরো বছরজুড়ে পড়ে প্রতি দুই দিন অন্তর একটি করে রকেট মহাকাশে পাঠিয়েছে স্পেসএক্স এবং বিরমহীনভাবে প্রতি সপ্তাহে এমনটি করে দেখিয়েছে তারা।
স্পেসএক্স একাই মহাকাশে যতগুলো রকেট পাঠিয়েছে তা বিশ্বের অন্য সব দেশের মহাকাশ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর পাঠানো মোট রকেটের সংখ্যার চেয়েও বেশি।
স্পেসএক্স বনাম গোটাবিশ্ব
২০২৫ সালে গোটবিশ্বে মোট ৩১৫টি কক্ষপথীয় রকেট উৎক্ষেপণ হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ২৫০টি উৎক্ষেপণের তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ১৬৫টি উৎক্ষেপণ করেছে স্পেসএক্স, যা ওইবছর বিশ্বজুড়ে মোট রকেট উৎক্ষেপণের ৫২ শতাংশ।
In 2025, Falcon delivered 3,800+ spacecraft to orbit including lunar landers, national security missions, and @Starlink satellites delivering internet from space to 9+ million users, Dragon safely flew 20 people from 10 countries and delivered science and cargo to the… pic.twitter.com/ieQjxlzvSM
— SpaceX (@SpaceX) December 31, 2025
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রকেট ল্যাব ১৮টি, ইউএলএ ৬টি, মার্কিন ই কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন ২টি এবং ‘নর্থরপ গ্রুম্যান’ ১টি রকেট উৎক্ষেপণ করেছে।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি মোট ১৯২টি রকেট উৎক্ষেপণ করেছে, যা পুরো বিশ্বের সফল কক্ষপথীয় অভিযানের প্রায় ৬১ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বেশ কিছু দেশও মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণ করেছে। যাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চীন। দেশটির মহাকাশ সংস্থা ৯০টি সফল উৎক্ষেপণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে থাকা অন্যান্য দেশ ও সংস্থার মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমস ১৭টি, ফ্রান্স ৭টি, ভারতের ইসরো ৪টি ও জাপানের জাক্সা ৩টি।
প্রতি বছর অভিযানের সংখ্যা বাড়িয়েই চলেছে স্পেসএক্স। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে ৭১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নতুন এক চুক্তি সই করেছে কোম্পানিটি।
এ চুক্তির আওতায় সংস্থাটির বেশ কিছু গোপন সামরিক সরঞ্জাম মহাকাশে পাঠাবে স্পেসএক্স, যার মধ্যে অন্তত একটিতে থাকবে সামরিক যোগাযোগের জন্য নতুন ধরনের এক এনক্রিপ্টেড স্যাটেলাইট।
এ নতুন চুক্তি ও আরও অন্যান্য কাজের সুযোগ থাকায় জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, ২০২৬ সাল স্পেসএক্সের জন্য আরেকটি রেকর্ড ভাঙার বছর হতে যাচ্ছে।