Published : 09 Jul 2026, 11:41 AM
বিজ্ঞানের কিছু গবেষণার কথা শুনলে বেশ অদ্ভুত লাগতে পারে। সম্প্রতি এমনই এক গবেষণা নিয়ে হাজির হয়েছেন গবেষকরা।
তাদের দাবি, দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য তারা ‘সাইবর্গ’ বা অর্ধ-যান্ত্রিক প্রাণী তৈরি করেছেন, আর এটি হচ্ছে তেলাপোকা।
গবেষকদের তৈরি এসব জ্যান্ত তেলাপোকা এখন পানির নিচেও টানা কয়েক ঘণ্টা অনায়াসে সাঁতার কাটতে পারবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
গবেষণাটি করেছেন সিঙ্গাপুরের ‘নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি’ ও জাপানের ‘ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি’র গবেষকেরা।
তারা বলেছেন, তাদের তৈরি ছোট আকারের এ ডাইভিং স্যুটটি পরে ‘সাইবর্গ তেলাপোকা’ পানির নিচে টানা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে ও সাঁতার কাটতে পারে।
এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তেলাপোকাকে কেন সাইবর্গে রূপান্তর করতে হবে আর কেনই বা তাদের পানির নিচে জোর করে সাঁতার কাটানো হচ্ছে? এমন কৌতূহল যৌক্তিক।
গবেষক দলটি বলেছে, এসব সাইবর্গ তেলাপোকা দুর্যোগকালীন উদ্ধার তৎপরতার কাজে ব্যবহৃত হবে। কারণ মানুষের হাত, উদ্ধারকারী প্রাণী বা বড় আকৃতির রোবট যেখানে পৌঁছাতে পারে না এসব তেলাপোকা অনায়াসেই সেইসব সরু জায়গায় ঢুকে যেতে পারে।
এ বছরের বসন্তে মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজে সাহায্য করার জন্য প্রথমবারের মতো সাইবর্গ তেলাপোকাকে মাঠে নামানো হয়েছিল।
সাধারণত বন্যা বা জলাবদ্ধ পরিবেশ এসব সাইবর্গ তেলাপোকার জন্য একেবারেই অনুপযোগী। কারণ এগুলো জ্যান্ত ‘মাদাগাস্কার হিসিং ককরোচ’, যেগুলোর পিঠে ইলেকট্রনিক কন্ট্রোলার বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের তৈরি এ নমনীয় ডাইভিং স্যুটটিতে রয়েছে অক্সিজেন উৎপাদনকারী ট্যাংক, নমনীয় খোলস ও চারটি সিলিকন টিউব। এসব টিউব তেলাপোকার ‘স্পাইরাকল’ বা শ্বাসছিদ্রের সঙ্গে যোগ থাকে, যার মাধ্যমে এরা শ্বাস নেয়।
গবেষক দলটি বলেছে, “উদ্ধারকাজের পর তেলাপোকাটির কোনো ক্ষতি না করেই ব্যথাহীনভাবে এসব টিউব দেহ থেকে খুলে নেওয়া সম্ভব।”
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ।
গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, “পরীক্ষামূলকভাবে এ বিশেষ ডাইভিং স্যুট পরে সাইবর্গ রোবটগুলো পানির নিচে টানা তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সাঁতার কাটতে পেরেছে।”