Published : 09 Jul 2026, 12:36 PM
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার ঘাটতিতে পড়েছে নরসিংদীর ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা।
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী এ প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধনের পরের বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে লাভের মুখ দেখলেও এ বছর ৮৫ হাজার টন সার উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
পুরোপুরি গ্যাসনির্ভর কারখানাটিতে গ্যাস সংকটের কারণে টানা মাসাধিক কাল উৎপাদন বন্ধ থাকায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কারখানাটিতে ৮ লাখ ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে মোট উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ টন ইউরিয়া।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন ২ হাজার ৮০০ টন এবং বছরে ৯ লাখ ২৪ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা সম্পন্ন পরিবেশবান্ধব এই কারখানাটিতে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছিল।
এতে উৎপাদন শুরুর প্রথম বছরেই ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা করে কারখানাটি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে এটিই একমাত্র মুনাফা অর্জন করে।
এর আগে ক্রমাগত লোকসানে থাকা ১ হাজার ৪০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনকারী ঘোড়াশাল সার কারখানা ও ৩০০ টন সার উৎপাদনকারী পলাশ সার কারখানা দুটি ভেঙে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা নামে বৃহৎ কারখানাটি করে সরকার।

প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত কারখানাটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে উদ্বোধন করা হয়। তবে বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদন শুরু হয় ২০২৪ সালের ১১ মার্চ।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এ বছরের ৪ মার্চ থেকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় পুনরায় গ্যাস সংযোগ পাওয়া যায়।
পরে কারখানাটি চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে আরও কয়েকদিন সময় লাগে। ফলে সব মিলে টানা ৪০ দিন কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল।
কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নতুন অর্থবছরে বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং কারখানার যন্ত্রপাতির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।
আগের সংবাদ-