চাঁদপুরে মেঘনার ‘ঘূর্ণিস্রোতে’ নৌকা উল্টে ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল নদীতে
ধান ও চাল ডুবে যাওয়ায় সাতজন ব্যবসায়ীর প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
চাঁদপুরের উত্তাল মেঘনা নদীর মোহনায় ‘প্রবল ঘূর্ণিস্রোতে’ পড়ে পাঁচ হাজার বস্তা ধান ও চালবোঝাই একটি মালামালবাহী নৌকা উল্টে গেছে। তবে নৌকাটিতে থাকা মাঝিমাল্লারা নিরাপদে আছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুরানবাজার ঘাটসংলগ্ন মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুর নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান।
কার্গোটির চালক এরশাদ মাঝি বলেন, মঙ্গলবার পাবনা থেকে ৩ হাজার ৫০০ বস্তা চাল এবং ১ হাজার ৫০০ বস্তা ধান নিয়ে ‘পারবো’ নামের কার্গো নৌকাটি চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
বুধবার সকালে তারা পুরানবাজার ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে তিন নদীর মোহনায় তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের কবলে পড়ে। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কার্গোটি উল্টে মালামাল সব পানিতে ডুবে যায়।
তিনি আরও বলেন, এ সময় কার্গোতে থাকা পাঁচজন শ্রমিক দ্রুত সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে উল্টে যাওয়া কার্গোটি ডাকাতিয়া নদীর তীরে নিয়ে ভিড়িয়ে রাখা হয়।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, নৌযানটিতে পুরানবাজারের সাতজন ব্যবসায়ীর মালামাল ছিল। ধান ও চাল ডুবে যাওয়ায় তাদের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুরানবাজর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও মো. ফারুক বলেন, চাঁদপুরের এই এলাকাটি পদ্মা মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থল। বর্ষা মৌসুমে তিন নদীর এ মোহনায় সৃষ্ট তীব্র ঘূর্ণিস্রোত ও প্রতিকূল নৌ-পরিবেশের কারণে প্রায়ই নৌযান দুর্ঘটনা ঘটে। তাই এ নৌপথে চলাচলকারী কার্গো ও অন্যান্য নৌযানকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেচলাচল করতে হয়।
এদিকে, চাঁদপুর নৌ থানার ওসি মো. আজমগীর হোসেন বলেন, “কার্গোডুবির বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আপডেট জানানো হবে।”
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুর নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি জানতে আমাদের নৌ-নিরাপত্তা বিভাগকে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
