Published : 09 Jul 2026, 05:26 PM
চিকিৎসা খাত ও রোবোটিক্স প্রযুক্তির ইতিহাসে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করে বিশ্বে প্রথমবারের মতো অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছে হিউম্যানয়েড রোবট।
চিকিৎসকদের সঙ্গে মিলে রোবটের এ সাফল্য যুদ্ধক্ষেত্র, প্রত্যন্ত অঞ্চল বা মহাকাশের মতো দুর্গম জায়গাতেও ভবিষ্যতের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এক নতুন দুয়ার উন্মোচন করল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া স্যান ডিয়েগো’র সার্জনদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে পিত্তথলি অপসারণের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করেছে একটি হিউম্যানয়েড রোবট।
পরবর্তী আরেকটি অপারেশনে দুটি হিউম্যানয়েড রোবট পাশাপাশি একসঙ্গে কাজ করে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে পিত্তথলি অপসারণ করেছে। এ পরীক্ষামূলক সফল গবেষণার উভয় অপারেশনই স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওপর চালানো হয়েছে।
এ গবেষণাপত্রের অন্যতম প্রধান লেখক ও ‘ইউসি স্যান ডিয়েগো’র ‘ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল ইপ বলেছেন, “এ গবেষণা প্রমাণ করেছে, অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবটদের উজ্জ্বল ও কার্যকর ভবিষ্যৎ রয়েছে।
“দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত বা স্বয়ংক্রিয় হিউম্যানয়েড রোবটগুলোর এমন সব জরুরি ও জটিল সার্জারির সুযোগ বাড়িয়ে দেওয়ার সত্যিকারের সম্ভাবনা রয়েছে, যা হয়ত রোগীরা অন্য কোনোভাবে পেতেন না। এমনটা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে চলমান স্বাস্থ্যসেবা সংকট ঠেকাতে দারুণ সাহায্য করতে পারে।”
এ যুগান্তকারী সাফল্যের পেছনে থাকা গবেষকরা বলেছেন, বর্তমানে চিকিৎসাক্ষেত্রে যেসব বিশেষায়িত রোবোটিক সার্জারি সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোর তুলনায় হিউম্যানয়েড রোবটগুলো বেশ কিছু বাড়তি সুবিধা দেয়।
সাধারণত হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে খরচ কম। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এগুলোকে সহজে কাজে লাগানো যায় ও বিভিন্ন ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার ও নানামুখী কাজ করার ক্ষেত্রে এগুলো পারদর্শী।
এ গবেষণাপত্রের অন্যতম প্রধান লেখক ও ‘ইউসি স্যান ডিয়েগো স্কুল অফ মেডিসিন’-এর সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাংলেই লিউ এ গবেষণার সময় দূর থেকে রোবটটি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। তিনি বলেছেন, “এমনটা প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় খরচের সামান্য অংশ মাত্র এবং অপারেশন থিয়েটারে জায়গাও নেয় খুব কম।
“ফলে গ্রামীণ এলাকা থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্র ও মহাকাশের মতো যে কোনো জায়গায় এটাকে খুব সহজেই মোতায়েন করা সম্ভব।”
‘সার্জি’ ডাকনামের এসব রোবটকে অভিজ্ঞ সার্জনরা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। গবেষকরা বলছেন, এআইয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এদেরকে পরবর্তীতে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্ত্রোপচার করার সক্ষমতা এনে দেবে।
ড. ইপ বলেছেন, “আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল স্বয়ংক্রিয় সার্জিকাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা অস্ত্রোপচারের সহকারী তৈরি করা।
“অনেক অঞ্চলের হাসপাতালগুলোই সার্জিকাল টিমে পর্যাপ্ত কর্মী সংকটে ভুগছে। ফলে রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ভবিষ্যতের অপারেশন থিয়েটার নিয়ে আমাদের লক্ষ্য, এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে হিউম্যানয়েড রোবট ও মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমন্বিত দল হিসেবে কাজ করবে।
“এর মাধ্যমে প্রচলিত হাসপাতাল ও মাঠপর্যায়ের জরুরি চিকিৎসাসেবা উভয় ক্ষেত্রেই প্রান্তিক মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।”
‘ইন ভিভো ফিজিবিলিটি স্টাডি অফ হিউম্যানয়েড রোবটস ইন সার্জারি’ শিরোনামে এসব সফল অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত বিবরণ বুধবার প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ।