Published : 09 Jul 2026, 05:48 PM
প্রধানমন্ত্রী কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা মানেই আগে অনুষ্ঠানস্থল এবং আশপাশে তার ছবিসহ বিভিন্ন ব্যনার ফেস্টুনে ভরে যায়। কিন্তু তার ব্যতিক্রম দেখা গেল রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে।
বৃহস্পতিবার সেই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকলেও আয়োজনের কোনো ব্যানার ফেস্টুন কোথাও ব্যবহার করা হয়নি তার ছবি; যা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে অনেকের।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপন অভিযান ও বৃক্ষ মেলা উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজক। অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ দিন সম্মেলন কেন্দ্রের মূল মঞ্চে এবং চার পাশে দেয়ালে টাঙানো হয় পরিবেশ সংক্রান্ত নানা শ্লোগান সম্বলিত ২০টি ব্যানার-ফেস্টুন।
এসব ব্যানার ফেস্টুনে ছিল কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব, কীভাবে জীব বৈচিত্র রক্ষা করা যায়, বৃক্ষরোপণসহ কীভাবে গাছের পরিচর্জা করতে হবে–সে সংক্রান্ত বিভিন্ন কথা। কিন্তু অনুষ্ঠানের মূল ব্যানারসহ কোথাও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়নি।
আয়োজকরা বলছেন, সরকারি পরিপত্র মেনেই অনুষ্ঠানের কোথাও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়নি। গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পরিপত্র জারি করে।
পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রি ডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হল। সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
অনুষ্ঠানে সাভার থেকে আসা পরিবেশকর্মী সুলাইমান নিলয় বলেন, “এটা খুবই দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়ার মত ঘটনা যে, অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি নেই। দুইদিন আগেই পত্রিকায় একটি নিউজ দেখেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন যে, সরকারি অনুষ্ঠানে তার ছবি যেন ব্যবহার না করা হয়। তার নির্দেশের প্রতিফলন আজকের অনুষ্ঠানে দেখছি। আগে দেখা যেত, প্রায় সব অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রীর একটা ছবি থাকতে বড় করে।”
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন বলেন, “অতীতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বড় করে প্রকাশ করার প্রবণতা। যেজন্য অনুষ্ঠান, সেটি এমনভাবে লেখা থাকত যে, বোঝা যেত না। ফলে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে থেকে যেত।
“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সংস্কৃতি থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন, এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। আমি এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কুটনীতিক, সরকারি ও বেসরকারি ঊধর্বতন কর্মকর্তা ও পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।