Published : 08 Jul 2026, 03:54 PM
অর্থ পাচারের আরেক মামলায় গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের নেতা এনামুল হক এনু এবং তার ভাই রুপন ভূঁইয়াকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮ এর বিচারক নূরে আলম ভূঞা বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই ভাইকে ৬৪ কোটি ৬২ লাখ এক হাজার ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা না দিলে তাদের আরও ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তবে অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার আট আসামিকে খালাস দিয়েছে আদালত।
তারা হলেন-সাইফুল ইসলাম, তুহিন মুন্সী, নবীর হোসেন শিকদার, জয়গোপাল সরকার, পাভেল রহমান, শহিদুল হক ভূইয়া, রশিদুল হক ভূইয়া ও মেরাজুল হক ভূইয়া শিপলু।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফজলুর রহমান জানান, রায় ঘোষণার আগে এনু ও রুপনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার গেণ্ডারিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার পুরান ঢাকার লালমোহন সাহা স্ট্রিটের ১১৯/১ হোল্ডিংয়ে মমতাজ ভিলায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি সিন্দুক থেকে ২৬ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে র্যাব।
ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের শেয়ারহোল্ডার এনু গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার ভাই রুপন ছিলেন থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ঢাকার ক্রীড়াক্লাব গুলোতে ক্যাসিনো বন্ধে অভিযানের মধ্যে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এনু, রুপন, তাদের এক কর্মচারী এবং তাদের এক বন্ধুর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব।
সেই অভিযানে ওয়ারীর লালমোহন সাহা স্ট্রিটে এনু ও রুপনদের বাড়ি ‘মমতাজ ভিলা’য় লোহার সিন্দুক থেকে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬০০ টাকা; ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআর; প্রায় এক কেজি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার; বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে জুয়ার আসর চালানোর টাকা নিয়মিত যেত এনু-রুপনের বাড়িতে। তারই একটি অংশ সেখানে সিন্দুকের ভেতরে পাওয়া গেছে।
র্যাবের অভিযানের মধ্যে এনু ও রুপনের নাগাল পাওয়া না গেলেও ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তখন থেকেই তারা কারাগারে আছেন।
তাদের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় র্যাব-৩ এর নায়েব সুবেদার রমজান আলী ওয়ারী থানায় এ মামলা দায়ের করেছিলেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৮ অগাস্ট এনু, রুপন এবং তাদের ৮ সহযোগীকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন সিআইডির ফাইন্যান্সসিয়াল ক্রাইম ইউনিটের ইন্সপেক্টর মেহেদী মাকসুদ।
২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য শোনেন বিচারক। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বুধবার দুই আসামির সাজার রায় এল।
র্যাবের অভিযানের দিন এনুর কর্মচারী আবুল কালাম আজাদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল দুই কোটি টাকা। ওই ঘটনায় ওয়ারী থানায় র্যাবের করা মামলায় ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল এনু-রুপনসহ ১১ জনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।
এছাড়া বংশাল থানায় মানি লন্ডানিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর এনু ও রুপনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর সূত্রাপুর থানার মানি লন্ডানিং প্রতিরোধ আইনের আরেক মামলায় ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি তাদের সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয় ঢাকার ষষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত।
এবার তাদের বিরুদ্ধে চতুর্থ মামলার রায় এল।
আরও পড়ুন-