১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

৪০ শতাংশ মার্কিনির ড্রয়ারে অলস পড়ে আছে পুরানো ডিভাইস

যেসব মানুষ ভয় পান ডিভাইস রিসাইকেল বা বিক্রি করলে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে তাদের ক্ষেত্রে ডিভাইসটি ড্রয়ারে জমিয়ে রাখার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

৪০ শতাংশ মার্কিনির ড্রয়ারে অলস পড়ে আছে পুরানো ডিভাইস
দুটি প্রধান কারণে এসব ডিভাইস শেষ পর্যন্ত ড্রয়ারেই জমা পড়ে থাকে। ছবি: এআই

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jun 2026, 10:07 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:31 PM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৯ শতাংশ মানুষ তাদের পুরানো বা অব্যবহৃত স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা স্মার্টওয়াচ ফেলে না দিয়ে স্রেফ ঘরের ড্রয়ারে জমিয়ে রাখেন।

সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, পরিবেশের ক্ষতি জেনেও ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা ফাঁসের ভয় ও রিসাইকেলের সঠিক নিয়ম না জানার কারণেই মানুষ কোটি কোটি ডিভাইস এভাবে অলস ফেলে রাখছে। 

চার হাজার মার্কিন ভোক্তার ওপর চালানো আন্তর্জাতিক ব্যবসাভিত্তিক ম্যাগাজিন ফরচুনের জরিপে দেখা গেছে, ৩৯ শতাংশ মানুষ কোনো ডিভাইস ব্যবহার করা বন্ধের পর সেটি স্রেফ ঘরে জমিয়ে বা তুলে রাখেন। পরিবেশের জন্য ভালো বিকল্প রিসাইক্লিং বা রিসেলিং হলেও এমন ভাগ্য জোটে ১০টি ডিভাইসের মধ্যে কেবল একটির, অর্থাৎ ১০ শতাংশের।

অন্যদিকে, কেবল ৯ শতাংশ মানুষ তাদের এসব ডিভাইস সরাসরি ময়লার আবর্জনায় ফেলে দেন।

মানুষের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স পণ্য ফেলে রাখা বা ফেলে দেওয়ার জটিল আচরণটি নিয়ে গবেষণা করেছে ‘ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন’-এর অর্থায়নে ফরচুনের একদল গবেষক।

গবেষণায় কার্যকারণ অনুমান, পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছে ম্যাগাজিনটি।

মানুষ মুখে কী বলে, অর্থাৎ তাদের জানা তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তবে তারা ঠিক কী কাজটা করেন এ দুইয়ের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে কিছু পরিসংখ্যানগত মডেল ব্যবহার করেছে ফরচুন।

ড্রয়ারেই কেন?

দুটি প্রধান কারণে এসব ডিভাইস শেষ পর্যন্ত ড্রয়ারেই জমা পড়ে থাকে। প্রথম কারণটি হচ্ছে, ডেটা বা তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। যেসব মানুষ ভয় পান যে ডিভাইস রিসাইকেল বা বিক্রি করলে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে তাদের ক্ষেত্রে ডিভাইসটি ড্রয়ারে জমিয়ে রাখার প্রবণতা যথাক্রমে ১৪ শতাংশ ও ৯ শতাংশ বেশি দেখা গেছে।

দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, সঠিক নিয়ম না জানা। কোথায় রিসাইকেল করতে হবে তা যারা জানেন না, তাদের ক্ষেত্রে ডিভাইসটি নিজের কাছে রেখে দেওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া অনেকেই তাদের বিভিন্ন পুরানো গ্যাজেটকে এক ধরনের ডেটা ব্যাকআপ বা তথ্যের বিকল্প ভাণ্ডার মনে করেও রেখে দেন।

তবে ইলেকট্রনিক্স পণ্য রিসাইকেল বা বিক্রি করা অনেকেই যতটা ভাবেন তার চেয়েও বেশি সহজ। যুক্তরাষ্ট্রে ‘বেস্ট বাই’-এর মতো জাতীয় সরবরাহ দোকানগুলো রিসাইকেলের জন্য ডিভাইস নেয়; আবার ‘ব্যাক মার্কেট’ বা ‘গ্যাজেল’-এর মতো ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ডিভাইস বিক্রিও বেশ সুবিধাজনক।

ডিভাইসটি হাতবদল বা ফেলে দেওয়ার আগে কেবল ভেতরের সব ডেটা পুরোপুরি মুছে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। পাশাপাশি, অ্যাপল বা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাকাউন্ট থেকে ডিভাইসটি রিমুভ বা সরিয়ে ফেলাও জরুরি। এমনটা না করা পর্যন্ত ডিভাইসটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই লকড হয়ে থাকবে এবং অন্য কেউ তা ব্যবহার করতে পারবে না।

মানুষ ভবিষ্যতে কী করার পরিকল্পনা করছে এবং তার সঙ্গে অতীতে তারা আসলে কী করেছে এ দুইয়ের মধ্যেও জরিপে তুলনা করেছে ফরচুন। আর এখানেই উঠে এসেছে, ডেটা নিরাপত্তার দুশ্চিন্তার কারণে মানুষ মুখে যা বলে, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি হারে ডিভাইস ড্রয়ারে জমিয়ে রাখেন।

ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়টি মানুষের মনে ঠিক তখনই তীব্রভাবে জেগে ওঠে যখন সে বাস্তবিকভাবে কোনো রিসাইকেলকারী বা সেকেন্ড-হ্যান্ড ক্রেতার হাতে নিজের ডিভাইসটি তুলে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে পড়েন।

মানুষ কেন রিসাইকেল করতে চান না?

মানুষ কেন ইলেকট্রনিক্স পণ্য রিসাইকেল করেন না তা নিয়ে গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা, সচেতনতা ও প্রণোদনা বড় ভূমিকা রাখে বলে দেখা গেছে। তবে আগের গবেষণাগুলোতে রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারকেই একমাত্র বিকল্প ধরে নেওয়া হত।

ফরচুন বিষয়টিকে রিসাইকেলের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মতো না দেখে বিভিন্ন বিকল্পের মধ্য থেকে একটিকে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করেছে। যেমন, ডিভাইসটি জমিয়ে রাখা, বিক্রি, দান, বিনিময় বা রিসাইকেল করা নাকি সরাসরি ময়লার আবর্জনায় ফেলে দেওয়া। এভাবে মডেলিংয়ের ফলে বিভিন্ন বিকল্পের মধ্যকার লাভ-ক্ষতির বিভিন্ন সমীকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কোথায় রিসাইকেল করতে হবে তা জানা থাকলে রিসাইকেলের সম্ভাবনা ৪৭ শতাংশ বেড়ে যায়। তবে এমনটা মানুষকে পুনরায় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত থেকে দূরেও সরিয়ে নেয়, যা অনেক সময় পরিবেশের জন্যও উপকারী।