Published : 07 May 2026, 01:35 PM
ইউরোপের প্রতি দুইজন তরুণের মধ্যে প্রায় একজন তাদের ব্যক্তিগত বা ঘনিষ্ঠ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘ইপসোস বিভিএ’ এর এক জরিপ অনুসারে, ইউরোপীয় তরুণদের জন্য এ প্রযুক্তি ক্রমাগতভাবে মানসিক সমর্থনের উৎস হিসেবে কাজ করছে।
রয়টার্স লিখেছে, জরিপে অংশ নেওয়া ৩ হাজার ৮০০ জনের মধ্যে ৫১ শতাংশ বলেছেন, চ্যাটবটের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা তাদের কাছে ‘সহজ’ মনে হয়।
এর বিপরীতে, কেবল ৪৯ শতাংশ মনে করেন স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সঙ্গে এবং ৩৭ শতাংশের ধারণা মনোবিজ্ঞানীদের সঙ্গে এমন আলোচনা করা সহজ।
তবে এক্ষেত্রে কাছের মানুষদের সঙ্গে কথা বলা ব্যক্তিরা এখনও তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। ৬৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের সঙ্গে এবং ৬১ শতাংশ মা-বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা সহজ বলে মনে করেন।
ফ্রান্সের তথ্য সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘সিএনআইএল’ ও বিমাকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রুপ ভিওয়াইভি’ এর সহায়তায় এ জরিপটি পরিচালিত হয়েছে।
২০২৬ সালের শুরুর দিকে ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও আয়ারল্যান্ডের ১১ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।
এ গবেষণার ফলাফল তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগের বিষয়টিই তুলে ধরেছে।
জরিপে উঠে এসেছে, প্রায় ২৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ‘জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার’ বা সাধারণ উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যার লক্ষণ মিলেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ আগে থেকে এআই টুল ব্যবহার করেছেন। কারণ হিসেবে অনেকে এআইয়ের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ও বিচার বা সমালোচনা না করার মানসিকতার কথা বলেছেন।
ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনে তিনজনেরও বেশি এআইকে একজন ‘উপদেষ্টা’ বা ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে, গত এক বছরে এআই টুলগুলোর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মানুষের আবেগ শনাক্ত এবং নিরাপদে মানসিক সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে এআইয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এ বছরের শুরুতে, ফ্লোরিডার এক তরুণের পরিবার গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনাই ওই তরুণের মানসিক বিভ্রান্তি বাড়িয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়।
স্টকহোমের ‘ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট’ এর মনোবিজ্ঞানী ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য গবেষক লুডভিগ ফ্রাঙ্ক ফয়েন বলেছেন, জরিপের এসব ফলাফল আসলে অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম উন্নত উত্তর তৈরি করতে পারে।
গবেষণা অনুসারে, পেশাদার লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরাও অনেক সময় এআইয়ের দেওয়া পরামর্শ এবং মানব বিশেষজ্ঞদের দেওয়া পরামর্শের মধ্যে পার্থক্য করতে হিমশিম খেতে পারেন।
তবে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য কেবল চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করার বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সাধারণ ব্যবহারের জন্য তৈরি এআই সিস্টেমগুলো ব্যবহারকারীকে ব্যস্ত রাখার জন্যই নকশা করা। এসব কোম্পানির লক্ষ্য সবসময় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।
“এআই তথ্য ও সমর্থন দিতে পারে। তবে কখনোই মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বা পেশাদার সেবার বিকল্প হতে পারে না।
“কেউ যদি নিজের মা-বাবা, বন্ধু বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলার পরিবর্তে কোনো চ্যাটবটের দিকে ঝুঁকে পড়ে তবে তা উদ্বেগের বিষয়। আমরা চাই না প্রযুক্তি মানুষকে আরও একা করে দিক।”