Published : 02 May 2026, 03:21 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইতে মোটা অংকের বিনিয়োগের খরচ মেটাতেই কোম্পানিটি থেকে বড় আকারের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বলে সাফাই দিলেন মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ।
বৃহস্পতিবার কোম্পানির এক অভ্যন্তরীণ সভায় জাকারবার্গ কর্মীদের বলেছেন, এআই অবকাঠামোতে বাড়তি ব্যয়ের কারণে জনবল কমাতে হচ্ছে। ২০ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া এ ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী চাকরি হারাতে পারেন।
মেটার এমন পদক্ষেপ কোম্পানিটির কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
জাকারবার্গ বলেছেন, এআইয়ের পেছনে বাড়তি বিনিয়োগের কারণেই কোম্পানিকে কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো কঠোর পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। এ সময় তিনি ভবিষ্যতে আরও কর্মী ছাঁটাই হতে পারে কি না, সে ঝুঁকিও উড়িয়ে দেননি।
ওই সভায় জাকারবার্গ বলেছেন, “আমাদের কোম্পানিতে খরচের বড় দুটি খাত রয়েছে। একটি কম্পিউটার অবকাঠামো ও অন্যটি হলো জনবল বা কর্মী-সংক্রান্ত খরচ।
“আমরা যদি আমাদের কমিউনিটিকে সেবা দেওয়ার জন্য একটি খাতে বেশি বিনিয়োগ করি, তবে অন্য খাতে মূলধন বরাদ্দের সুযোগ কমে যায়। আর সে কারণেই আমাদের কোম্পানির কর্মীর আকার কিছুটা কমিয়ে আনা প্রয়োজন।”
জাকারবার্গ আরও বলেছেন, এ কর্মী ছাঁটাইয়ের সঙ্গে মেটার নতুন ‘এআই নেটিভ’ কাঠামো গঠন বা মানুষের কাজ এআই নিজেই করতে পারে এমন ‘এআই এজেন্ট’ তৈরির প্রকল্পের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
একদিকে এআইকেন্দ্রিক সাংগঠনিক পরিবর্তনের ঘোষণা অন্যদিকে কর্মীদের মাউসের নড়াচড়া, ক্লিক ও কি-বোর্ড ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে এআই এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার নতুন উদ্যোগ– এসব মিলিয়ে এ ছাঁটাইয়ের বিষয়ে কোম্পানির নীরবতা মেটা কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছে।
রয়টার্সের দেখা মেটার অভ্যন্তরীণ মেসেজ ফোরামের তথ্য বলছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মীরা এ পরিবর্তনের বিষয়ে জাকারবার্গ এবং কোম্পানির অন্যান্য নেতাদের সরাসরি ও প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছেন।
জাকারবার্গ কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, “সবাইকে অভ্যন্তরীণভাবে এআই টুল ব্যবহারে অভ্যস্ত করা বা কাজ আরও দক্ষভাবে সম্পন্ন করা এগুলো কর্মী ছাঁটাইয়ের মূল কারণ নয়।
“ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা আমাদের দেখতে হবে” এবং খুব শিগগিরই কোম্পানি এ বিষয়ে আরও তথ্য জানাবে।
মার্চে রয়টার্স প্রথম এ ছাঁটাইয়ের খবরটি সামনে আনার পর বৃহস্পতিবারের এ সভাতেই জাকারবার্গ প্রথমবারের মতো কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
মেটা আগামী ২০ মে তাদের মোট জনবলের প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বছরের দ্বিতীয় ভাগে আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে।
জাকারবার্গ ও অন্যান্য নির্বাহীরা মে মাসে হতে যাওয়া ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর পরের পরিকল্পনা নিয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।
জাকারবার্গ বলেছেন, “আমার কাছে এমন কোনো জাদুকরী আয়না নেই, যা দিয়ে আমি আপনাদের আগামী তিন বছরের পরিকল্পনা এবং সবকিছু কীভাবে চলবে তা বলে দিতে পারব! আমার মনে হয় না কারো কাছেই এমন কিছু আছে।”