টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ ও স্টারলিংক বন্ধে বিপাকে রুশ সেনাবাহিনী
টেলিগ্রাম কেবল সাধারণ রুশ নাগরিকের পছন্দের অ্যাপই নয়, বরং সেনারাও রণক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য তা ব্যবহার করেন।
রাশিয়ায় টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ক্রেমলিনের জন্য হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেইন যুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যমটি হারিয়ে এবং স্টারলিংক ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে রুশ সেনারা।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, গত সপ্তাহে বেশ কয়েকটি পশ্চিমা অ্যাপ বন্ধ করেছে রাশিয়া। দেশটির লক্ষ্য, নিজস্ব ভূখণ্ডে ব্যবহারকারীদের ‘ম্যাক্স’ নামের এক রাষ্ট্রীয় অ্যাপ ব্যবহারে বাধ্য করা। এই অ্যপের কোনো এনক্রিপশন সুরক্ষা নেই।
নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া অ্যাপগুলোর মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি এর প্রতিদ্বন্দ্বী টেলিগ্রামও রয়েছে। রাশিয়ার এমন পদক্ষেপে খোদ দেশটির ভেতরেই বিরল সমালোচনার ঝড় উঠেছে, বিশেষ করে সেনা সদস্য ও যুদ্ধপন্থী ব্লগারদের পক্ষ থেকে।
কারণ, নিজেদের যোগাযোগের জন্য এ ক্লাউডভিত্তিক মেসেজিং পরিষেবার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল রুশ সেনাবাহিনী।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, রুশপন্থী বিভিন্ন সামরিক চ্যানেল এখন অভিযোগ করছে, টেলিগ্রামের এই আকস্মিক ব্ল্যাকআউট ও এ মাসের শুরুতে ইলন মাস্কের স্টারলিংক ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া উভয় ঘটনায় এখন যুদ্ধের সামরিক কার্যক্রমে সরাসরি ক্ষতি করছে।
টেলিগ্রাম কেবল লাখ লাখ সাধারণ রুশ নাগরিকের পছন্দের অ্যাপই নয়, বরং সেনারাও রণক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য তা ব্যবহার করেন।
তবে রাশিয়া সরকারের দাবি, জাতীয় আইন লঙ্ঘনের কারণে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত ‘রুশ নাগরিকদের সুরক্ষার’ স্বার্থে নিয়েছে তারা।
ইউরোপীয় শীর্ষ কূটনীতিকরা বলেছেন, এ মাসের শুরুতে টেলিগ্রামের আকস্মিক অনুপস্থিতি এবং রাশিয়ার ব্যবহৃত ‘অননুমোদিত’ স্টারলিংক টার্মিনালগুলো বন্ধ করেছে স্পেসএক্স। এ দুইয়ের জোড়া ধাক্কায় রুশ সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
রুশ সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে স্টারলিংক স্যাটেলাইটের কাভারেজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ ড্রোন হামলার হার কমেছে, যা রণক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
এ ঘটনাক্রম দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেবে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়।
তবে ‘জিওভানি’ ছদ্মনামের একজন ইউক্রেনীয় ড্রোন অপারেটর দাবি করেছেন, স্টারলিংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রণক্ষেত্রে ‘নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা’ হারিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী।
“আমার মনে হয় নিজেদের আক্রমণের সক্ষমতার অন্তত ৫০ শতাংশ হারিয়েছে রুশ সেনারা। পরিসংখ্যানেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, এখন হামলা কম হচ্ছে, শত্রুপক্ষের ড্রোন কম দেখা যাচ্ছে এবং সব কিছুই যেন কমে গেছে।”
