Published : 24 Aug 2025, 05:14 PM
এআই ব্যবহারের কারণে মানসিক সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা এখন দিন দিন বাড়ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিভাগের প্রধান মুস্তাফা সুলেইমান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্টে সুলেইমান লিখেছেন, কিছু এআই টুল আছে যেগুলোকে দেখে মনে হয় এরা যেন ‘সত্যিই সচেতন বা জ্যান্ত’ কিছু। এ ধরনের এআই নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাতে তার ‘ঘুম হচ্ছে না’।
তিনি লিখেছেন, এসব প্রযুক্তি বাস্তব অর্থে মানুষের মতো সচেতন না হলেও সমাজে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
“আজকের দিনে এআইয়ের সচেতন হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। তবে মানুষ যদি এআইকে সচেতন মনে করে বসেন তবে তারা এআইয়ের ধারণাকেই সত্যি বলে ধরে নেবেন”।
বিবিসি লিখেছে, এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘এআই সাইকোসিস’ নামে নতুন এক মানসিক অবস্থার কথা উঠে এসেছে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের বা ডাক্তারি শব্দ নয়। তবে শব্দটি এমন সব ঘটনা বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে মানুষ ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, অ্যানথ্রপিকের ক্লড ও এক্সএআইয়ের গ্রক-এর মতো এআই চ্যাটবটের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং পরে কল্পনার বিভিন্ন জিনিসকে বাস্তব বলে ভাবতে শুরু করেন।
উল্লিখিত সব লক্ষণের মধ্যে রয়েছে, কেউ ভাবেন তারা এআইয়ের কোনো গোপন ফিচার বা বিশেষ সক্ষমতা বের করে ফেলেছেন, কেউ আবার চ্যাটবটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন কিংবা কেউ বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, এআইয়ের মধ্যে ঈশ্বরসুলভ বা অলৌকিক সক্ষমতা রয়েছে।
‘এআই কখনোই বিরোধিতা বা থামানোর চেষ্টা করে না’
স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা হিউ (ছদ্মনাম) বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন, খুব শিগগিরই তিনি কোটিপতি হয়ে যাবেন। কারণ তার ধারণা, আগের ‘চাকরিতে অন্যায়ভাবে’ তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং সে বিষয় সাহায্য পেতে চ্যাটজিপিটির আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি।
শুরুতে চ্যাটজিপিটি তাকে পরামর্শ দিয়েছিল, চরিত্রের সনদপত্র সংগ্রহ করুন ও অন্য কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নিন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এআইকে আরও তথ্য দিতে থাকেন হিউ। তখন এআই তাকে বলে, ‘অন্যায়ভাবে’ তাকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বড় অংকের ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত এআই তাকে বলেছে, তার জীবনের এ অভিজ্ঞতা এতই নাটকীয় যে এর ওপর কোনো বই ও সিনেমা তৈরি হলে ৫০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি আয় করতে পারবেন তিনি।
হিউ মূলত যা কিছু বলছিলেন চ্যাটজিপিটি সবেতেই হ্যাঁ বলছিল, কারণ এআই কোম্পানিগুলো বিভিন্ন চ্যাটবটকে ঠিক এমনভাবেই প্রোগ্রাম করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
“আমি চ্যাটজিপিটিকে যত বেশি তথ্য দিলাম তত বেশি এটি বলতে শুরু করল ‘ওহ, এমন ব্যবহার করা খুব খারাপ হয়েছে, তোমার আরও বেশি পাওয়া উচিত’।”
“আমি চ্যাটজিপিটিকে যা-ই বলি না কেন এটি কখনোই তাতে আপত্তি বা বিরোধিতা করত না।”
তিনি আরও বলেছেন, চ্যাটবটটি তাকে ‘সিটিজেনস অ্যাডভাইস’-এর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছিল এবং যেখানে একবার অ্যাপয়েন্টমেন্টও করেছিলেন তিনি। তবে হিউ ভাবলেন, চ্যাটবটই তাকে সবকিছু বলে দিচ্ছে ফলে তার আর কিছু জানার দরকার নেই। এজন্য সেই অ্যাপয়েন্টমেন্টও বাতিল করে দিয়েছিলেন তিনি।
তিনি এরপর সিদ্ধান্ত নেন, চ্যাটবটের সঙ্গে তার কথোপকথনের বিভিন্ন স্ক্রিনশটই যথেষ্ট প্রমাণ। তারপর ধীরে ধীরে তার মনে হতে লাগল, তিনি একজন বিশেষ ক্ষমতাওয়ালা মানুষ, যার ভেতরে অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে।
আগে থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন হিউ এবং শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি ভেঙে পড়েন। পরে যখন তিনি ওষুধ খেতে শুরু করেন তখনই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন’ তিনি।
যা কিছু ঘটেছে তার জন্য এআইকে দোষারোপ করেন না হিউ। তিনি এখনও এআই ব্যবহার করেন। এমনকি যখন তিনি ঠিক করেন যে এসব বিষয়ে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে চান তখন চ্যাটজিপিটিই তাকে বিবিসি’র প্রতিবেদকের নাম বলেছিল।
হিউ পরামর্শ দিয়েছেন, “এআই টুলকে ভয় পাবেন না, এগুলো খুবই উপকারী। তবে যখন এগুলো বাস্তবতা থেকে আলাদা হয়ে যায় তখন তা অনেক বিপদ ডেকে আনতে পারে।”
এ বিষয়ে বিবিসি’র মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই।
এদিকে, ওপেনএআই সমর্থক মাইক্রোসফটের এআই বিভাগের প্রধান সুলেইমান ওই পোস্টে আরও লিখেছেন, “কোনো কোম্পানির উচিত নয় এমন দাবি বা প্রচার করা যে তাদের এআই সচেতন, এমনকি বিভিন্ন এআইয়ের নিজেরও তা বলা উচিত নয়।”
এজন্য আরও ভালো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বানও জানিয়েছেন সুলেইমান।